বেশ রোদ বাইরে। সাহারা মরুভূমি
টাইপ। কাকের ডাক শোনা যাচ্ছে। এই
ডাকে আগ্রহ নেই, আছে বিরক্তি।
আমারো মাঝে মাঝে কাক হয়ে যেতে
ইচ্ছে করে। ইচ্ছে করে গলা ফাটিয়ে
কিছু বলি,চিৎকার করে কাঁদি। যে
কান্না কেউ দেখে না। ধূলো ধূসর
নিষ্প্রাণ নগরীতে এই দাঁড়কাকের ডাক
মিলিয়ে যাবে একটা কোণায়। আচ্ছা
পাখিদের কি কষ্ট আছে? তারাও কি
কাঁদে? পৃথিবীতে পাখিরূপী কিছু মানব
আছে। এদের কষ্টগুলোও কেউ দেখে না।
এরা পক্ষীমানব। মাঝে মাঝে আমার
ইচ্ছে করে পাড়ার ভবঘুরে ছেলেটার
মতো হয়ে যাই। কি শান্তি তার মনে।
চৈত্রের এই কাঠফাটা রোদেও কেমন
শিস দিতে দিতে চলে যাচ্ছে। রোদের
কষ্ট তাকে স্পর্শ করছে না। পায়ে
ধুলোমাখা একপাটি স্যান্ডাল। অবাধ
স্বাধীনতা তার মনে। আমাদের আবার
শিস দেয়া মানা। এই মধ্যমপন্থী
মানুষগুলোর অনেক নিয়ম। তারা নিয়ম
ভাঙতেও পারে না, আবার গড়তেও
পারে না। অপলক চেয়ে থাকে। তাদের
জন্ম মৃত্যুর খেলাটা খুব সহজ। তারাও
পক্ষীমানবের মতো। তাদের কষ্ট,
হতাশাবোধ দেয়ালের নীল রঙে মিশে
যায়, কান্নাগুলো বৃষ্টিতে ভিজে
একাকার। কোনো এক সময় হাঁটতে
হাঁটতে একটা শাদা বাড়ী দেখে থমকে
যাই। ইচ্ছে করে এরকম একটা ঘর বানিয়ে
থাকি। সৃষ্টিকর্তা পক্ষীমানবদের কিছু
না দিলেও একটা জিনিস দিয়েছেন, তা
হল স্বপ্ন দেখার ক্ষমতা। তারা চাইলে
রীতিমতো আকাশে ঘর বানিয়ে
সেখানে বসবাস শুরু করে দিতে পারে।
আবার সেই আকাশসুদ্ধ ভেঙে
প্রপাতধরণীতল হতে পারে। আমি খাটে
শুয়ে যখন এসব চিন্তা করছি। তখন
চৈত্রের আকাশে মেঘ জমেছিলো। লু
হাওয়া বইছে। বৃষ্টি হবে। কি অদ্ভুত!
ওয়াপদার তারের উপর একটা পাখী বসে
আছে। বৃষ্টি হচ্ছে। আচ্ছা পাখী টা কি
কাঁদছে?
~নাবিল সা'দ গালিব ০৫/০৫/২০১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




