somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শেষ বিকেলের রূপকথা

০৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৮:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দিনের শেষে বিকেলের ছায়া পড়ে আসছে। লনে ঝোলানো দোলনায় এক মনে দুলতে থাকে মিলি। উঠে ঘরে যাওয়া দরকার কিন্তু নিজেকে কেন জানি সরিয়ে নিতে পারছিল না। জীবনটা মনে হয় একটা বোঝার মত হয়ে নিজের উপড় চেপে বসে আছে। নিজের শরীরও মনে হয় এখন তাকে অবহেলা করে। কখনো ঘুম থেকে উঠে তার মনে হয় সে কি এখনো বেঁচে আছে! এইভাবে বেঁচে থাকাই কি মানুষের সার্থকতা। মা বলেছিল আমরা শুধু নিজের জন্য বাঁচিনা, ভালবাসা আমাদের বাঁচিয়ে রাখে, আমরা ভালবাসার জন্য বাঁচি। তাহলে আমার কি অপরাধ ছিল। আমার জীবনটা কেন এমন হয়ে গেল। কি দোষ ছিল আমার। হ্য়তো একটা মেয়ে হয়ে জন্মানোটাই দোষের। সেই বুদ্ধি হবার পর থেকে আমাকে শেখানো হয়েছে আমার নিজের মত বলে কিছু নেই। আমার জন্ম হয়েছে শুধু মেনে নেবার জন্য, সারা জীবন ত্যাগ স্বীকার করে আমাকে ভাল মেয়ে হিসেবে সবার কাছে পরিচিত হতে হবে। আমাকে একজন আদর্শ মেয়ে হতে হবে। আদর্শ মেয়ে আমি হয়েছি ঠিকই, হয়েছি আদর্শ স্ত্রী কিন্ত মানুষ আমিকে আজ আমি হারিয়ে ফেলেছি। এখন শুধু বেঁছে থাকার জন্যই এ জীবন কে টেনে নিয়ে চলা।
জীবনের সব চাওয়ার পাওয়া ইছে গুলোকে কোনদিন মূল্য দেয়নি আমি। বিধাতা সেদিনি মনে হয়তো মুচকি হেসেছিলেন। হঠাৎ সব কেড়ে নেয়া ঝড়ের মত সেই কিশোর ছেলেটি একটি কিশোরী মেয়ের শান্ত পৃথিবীটাকে এলোমেলো করে দিলো। কি পাগলের মত ভালবাসতো সে আমাকে। আমার একটু অবহেলায় আষাঢ়ের মেঘ হয়ে যেত পাগলটার চোখ। কখনো বিধাতার কাছে কিছু চাইনি, শুধু একটি জিনিষ চেয়েছিলাম বিধাতার কাছে। যেন প্রতিদিন ঘুম ভেঙ্গে এই পাগলটার মুখ যেন দেখতে পাই। আমি কোনদিন আর তার কাছে কিছু চাইবো না। পাগলটা কতদিন আমার কানের কাছে ফিসফিস করে বলতো...

আমার মাঝে আমি আজ
অচিন কোন বোধ,
ও মেয়ে, এ তোর
কেমন প্রতিশোধ?

আমি অভিমান করে বলতাম

আমার স্বপ্ন চুরি করে
তুই ঘুরিস সারাক্ষন,
কত বলি ,তুই একটুখানি শোন!

আমার ঠোঁটে আঙ্গুল রেখে চুপ করিয়ে দিতো সে। তারপর আমার হাত দুটো ধরে আমার চোখের দিখে তাকিয়ে বলতো

তোকে না পেলে হয়তো জানা হতো না
একটি মানুষ কতোবার জন্মে আর মরে।
তোকে না পেলে হয়তো জানা হতো না
বুকের মধ্যে কেমন করে মেঘ খেলা করে।

তোকে না পেলে হয়তো জানা হতো না
একটি ঘাস ফুল হয়ে বেঁচে থাকাও কত সুখ।
তোকে না পেলে হয়তো জানা হতো না
একটি শিশির কণাতেও কেন ভরে যায় তার বুক।

তোকে না পেলে হয়তো জানা হতো না,
কোন এক বিষন্ন সাঁঝে
কেন অচেনা গাঙচিল উড়ে উড়ে কাঁদে,
একরাশ বেদনা নিয়ে বুকের মাঝে।

তোকে না পেলে হয়তো জানা হতো না
কেমন করে একটি ছোট্ট মেয়ে,
সকল দুঃখ ঢেকে দেয় মোর
তার অনেক ভালবাসা দিয়ে।

কিছুই বলতে পারতাম না আমি। চোখের পানি লুকানোর জন্য অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে অনেক দূরে তাকিয়ে থাকতাম। মনে মনে প্রার্থনা করতাম আমি স্বর্গ চাইনা বিধাতা তুমি এই মূহূর্ত টুকু আমার জন্য স্থায়ী করে দাও।

হয়তো এক জীবনে অনেক বেশী পাওয়া হয়েছিল। তাই কাল বৈশাখী ঝড় এসে এলোমেলো করে দিলো আমার জীবন। বাবা বিয়ে ঠিক করলো আমার। মায়ের পা ধরে কত কেঁদেছি, বলেছি আমাকে মেরে ফেলো মা, আমাকে একটু দয়া করো। কিন্তু সেওতো একটি মেয়ে কতটুকুই বা তার সাধ্য। আমাকে বুকে চেপে ধরে আমার চোখের পানি মুছে দিতে দিতে শুধু বলতো, একটু ধৈর্য ধর মা, সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু কিছুই ঠিক হয়নি আমাকে আবার হতে হলো আদর্শ মেয়ে। বিয়ে করে চলে আসলাম অনেক দূরে। বিয়ের দিনে একটি বার দেখতে চেয়েছিলাম পাগলটার মুখ, শুধু একটি বারের জন্য, সেটাও দেখতে দেয়নি আমাকে। আজ আমি একজন আদর্শ স্ত্রী। আজ সব আছে আমার কিন্তু শুধু যেন নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছি।







সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১০:০০
৫৭টি মন্তব্য ৫৩টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যু্ক্তিসংগত ব্যাখ্যা চাই-১

লিখেছেন অপলক , ২০ শে মে, ২০২৬ রাত ৯:২৪




আমরা সবাই জানি ইসলাম ধর্মে, আত্মহত্যাকারীর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। সহীহ বুখারীতে এসেছে, আল্লাহ তা'আলা বলেন, "আমার বান্দা নিজের জীবনের ব্যাপারে আমার আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে, তাই আমি তার ওপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোল্লাতন্ত্র ধর্ষণ-হত্যা ও নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের সমাধান নয়, বরং তা বৃদ্ধির একটি কারণ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২১ শে মে, ২০২৬ সকাল ৮:৪২


সাত বছর বয়সের ছোট্ট শিশু রামিসাকে ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যার ঘটনার সমাধান হিসেবে, মোল্লাতন্ত্রের মুখপাত্র আহমাদুল্লাহ হুজুর পুরাতন এক ফতোয়া নিয়ে হাজির হয়েছেন। এইসব নৃশঃসতার মাত্রা কমিয়ে আনার একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেজন্মা

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২১ শে মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪১


হু বেজন্মা কথা শুনার পর
আমি বিরক্ত মনে করতাম
কিন্তু বেজন্মা কথাটা সত্যই
স্রোতের মতো প্রমান হচ্ছে-
খুন ধর্ষণ করার পশুত্বকে
বলে ওঠে বেজন্মা ক্যান্সার;
ক্যান্সারের শেষপরিণতি মৃত্যু
তেমনী বেজন্মার হোক মৃত্যু-
চাই না এই বেজন্মাদের বাসস্থান
আসুন রুখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভালো থাকো ছোট্ট মা এই অনিরাপদ শহরে

লিখেছেন সামিয়া, ২১ শে মে, ২০২৬ দুপুর ১:৫৫




মাঝে মাঝেই মনে হয়, পৃথিবীতে আমি যদি সত্যি কাউকে নিঃশর্ত ভালোবেসে থাকি, তবে সে আমার মেয়ে।
ওকে প্রথমবার কোলে নেয়ার দিনটার কথা আমাকে আবেগ প্রবণ করে তোলে ছোট্ট একটা উষ্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র কেন রামিসাদের রক্ষা করতে ব্যর্থ?

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ২১ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৩:১০


সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে যে গভীর ও দমবন্ধ করা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা কোনো কাল্পনিক ভীতি বা বিচ্ছিন্ন অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×