somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্যাটানিজম ও বিপক্ষে যুক্তি

১৪ ই নভেম্বর, ২০১৬ রাত ৯:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্যাটানিজম বলতে শয়তান উপাসনাকে বুঝায় । স্বভাবতই শয়তান বলতেই আমরা বুঝি এমন কাওকে যিনি মানুষকে মন্দ পথে প্রলুব্ধ করেন, যিনি মানুষের বিশ্বাসে আঘাত করেন ।
ইসলাম ধর্মে শয়তান আগুনের তৈরী এক জীব যারা মানুষের বিশ্বাসে আঘাত করে ও মন্দপথে ডেকে নিয়ে যায় ।
হিব্রু বাইবেল অনুসারে, যে মানুষের বিশ্বাসের ওপর আঘাত করে সেই শয়তান । গ্রিক নিউ টেস্টামেন্টে আরো বিস্তারিত ধারণা পাওয়া যায়, যেখানে যিশুর প্রলুদ্ধ হওয়ার ঘটনাকে বুঝানো হয়েছে । আব্রাহামিক ধর্মে শয়তানকে তুলনা করা হয়েছে বিপথগামী দেবদূত বা দানব হিসেবে , যে মানুষকে খারাপ কাজ বা পাপ করতে অনুপ্রেরণা যোগায় । খ্রিস্টান ধর্ম অনুযায়ী শয়তানকে খ্রিস্টান ধর্মের প্রধান শত্রু হিসেবে গণ্য করা হয়েছে ।
.
স্যাটানিজম দুইরকম, এক যারা যুক্তিবাদী ও বস্তুবাদে বিশ্বাসী অর্থাৎ নাস্তিক স্যাটানিস্ট । দ্বিতীয়ত যারা অধ্যাত্ববাদে বিশ্বাসী অর্থাৎ আস্তিক স্যাটানিজম-এ বিশ্বাসী । উইকিপিডিয়া অনুসারে, আস্তিক স্যাটানিজম প্রাচীনপন্থী বা আধ্যাত্বিক স্যাটানিজম নামেও পরিচিত, শয়তানকে দেবতা হিসেবে উপাসনা করা হয় । আস্তিক স্যাটানিজমকে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, যাতে কালো যাদুর উপর বিশ্বাস স্থাপন যা শয়তানকে পূজার মাধ্যমে অর্জিত হতে পারে। আস্তিক স্যাটানিজমে শিথিলায়নের রীতি এবং আত্নার উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্ত । আস্তিক স্যাটানিজম প্রাচীন সূত্রগুলো থেকেও অনুপ্রেরণা লাভ করে (১৯৬০ সালের স্যাটানিক বাইবেল-এর আগের সূত্র) যেমন ১৮৬২ সালের বই ’’স্যাটানিজম ও ডাকিনীবিদ্যা’’। আরেকটি দলকে আস্তিক স্যাটানিজম ভাগে ফেলা যায়, যাদের নাম ’’বিপরীত খ্রিস্টান’’।এই শব্দটি একটি খারাপ শব্দ হিসাবে করে অন্যান্য আস্তিক শয়তানের দলগুলো । খ্রিস্টানরা অভি্যোগ করে যে বিপরীত খ্রিস্টানরা ব্ল্যাক মাস-এর চর্চা করে থাকে ।
.
এই আস্তিক স্যাটানিস্টরা যাদের পূজা করে তাদের মধ্যে অন্যতম হলো লুসিফার ও বাইল ।
প্রথমেই আসা যাক বাইলের কথায় । খ্রিস্টান ধর্মমতে, তিনি নরকের সাতজন যুবরাজের মধ্যে অন্যতম একজন । তাকে শয়তানদের উচ্চপদস্থ কেউ বা অনেকে তাকে শয়তান নিজেই মনে করে । ফিলিস্তিনের এক শহরে এক ধর্মীর গুষ্ঠি একে দেবতা মেনে পূজা করতো এবং মহানবী (সঃ) এর আগমনের পূর্বে মক্কাতেও তার পূজা করা হতো । কিন্তু যেকোন কারনে পরবর্তীতে বাইবেলে তাকে আবিষ্কার করা হয় একজন দানব বা ডেভিল হিসেবে । কারনটা নিয়ে পরে আসছি ।
অন্যদিকে শয়তান হিসেবে পরিচিত আরেক চরিত্র লুসিফার মনে করা হয় শুকতারাকে । শুক্র হলেন হিন্দুধর্মে একজন দানব এবং লুসিফার হলেন খ্রিস্টান ধর্মে তথাকথিত স্যাটান । এই শুক্র থেকেই শুক্রবার হলো । এই কারন নিয়েও পরে বলতেছি ।
.
এখন কথা হচ্ছে, এই শয়তান পূজোটা কি করে হয় । এদের মূলমন্ত্র হচ্ছে প্রতিদন বা প্রতিসপ্তাহ একটি খারাপ কাজ করতে হবে । প্রতিমাসে কোন প্রানী খুন করতে হবে এবং বছরে একবার নরহত্যা । তারা ব্ল্যাক মাস নামে এক ধরনের অনুষ্ঠান পালন করে যা কিছুটা হিন্দুদের পূজোর মতো তবে তা করা হয় গোপনে । যেখানে মানুষকে অপবিত্রকরনই হলো মূল নীতি । সেটা বিকৃত যৌনাচার, নরহত্যা বা যেকোনরকমের পাপ হতে পারে! এটাও একটা গুরুত্বপূর্ন পয়েন্ট ।
.
এবার স্যাটানিজম নিয়ে এত আলোচনা কেন, তা দেখা যাক । প্রাচীন নাইজেরিয়া বা আফ্রিকান দেশগুলো যেগুলো ফ্রান্স বা ব্রিটেনের মতো দেশগুলোর অধীনে ছিলো সেখানে প্রচুর নারীকে এই কারনে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় ।
বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল নামের এক স্থান মিডিয়ার দাবী যেখানে যা কিছুই হারাক তা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর, তা শয়তানের ত্রিভূজ বলে সংজ্ঞায়িত হওয়া ।
অ্যামেরিকার মতো দেশদের প্রধানদের স্যাটানিজমের প্রতি আগ্রহ । এই দেশটির হঠাৎ অভাবনীয় উন্নতি এবং কিছু রহস্যময় কীর্তিকালাপ ।
ব্ল্যাক মেটালের মতো সঙ্গিত, সাহিত্য ও টিভি অনুষ্ঠানের জনপ্রীয়তা ।
.
এতক্ষন সব শুধু তথ্য দিলাম । এবার জেনে নেয়া যাক প্রকৃতপক্ষেই কারন কি এই ততাকথিত স্যাটানিজমের পেছনে । কিছু যুক্তি খুঁজে নেয়া যাক ।
.
(১) দেখবেন , কোন এক পূর্ববর্তী ধর্মের দেবতা পরে আসা কোন ধর্মে দানব হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে । মাছিদের লর্ড বাইল খ্রিস্টান ধর্মে শয়তানের প্রধান হিসেবে উপস্থাপিত হন । হিন্দুধর্মে শিবের অনুসারি ডাক থেকেই পরবর্তীতে ডাকিনী শব্দটি আসে, ইতিবাচক চরিত্র নেতিবাচক রূপ লাভ করে । মুসলমানদের জুম'আ বারকে হিন্দুরা শুক্রবার বলে অবহিত করাও এরকম একটা কারণ । সুতারাং, স্যাটানিজমের প্রথম কারণ অন্য ধর্মকে কলুষিত করার উদ্দেশ্য , কারণ শয়তান শব্দটি স্বভাবতই নেতিবাচক আর অন্য ধর্মে নেতিবাচকতা ঢুকানো অই ধর্মের অনুসারী কমানোর বেশ সহজ পদ্ধতি ।
.
(২) আমেরিকা তাদেরকে বিশ্বে স্বতন্ত্র এবং শক্তিশালী দেশ হিসেবে ঘোষণা করতে চায় । নিজেদেরকে অপার্থিব শক্তির অধিকারী প্রমান করে কতৃত্ব লাভ করতে চায় ।
.
(৩) সঙ্গীতের প্রতি মানুষের সহজাত একটা আকর্ষণ রয়েছে । ভেনমের মতো কিছু ব্ল্যাক ম্যাটাল ব্যান্ডের কারণে সঙ্গীতের মাধ্যমে স্যাটানিজমের বিকাশ হয়েছে ।
.
(৪) ভৌতিক গল্পকাররা বা সিনেমা পরিচালকরা তাদের গল্পের চরিত্র হিসেবে এসবের উপস্থাপন এই ধারনাকে ছড়িয়ে দিয়েছে ।
.
(৫) মিডিয়া!
মানুষের এসব রহস্যাবৃত বিষয়ে ঢের আগ্রহ । সে আগ্রহকে পূঁজি করে মিডিয়া ব্যাবসা করছে । বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের মতো ব্যাপারগুলো একদমই মিডিয়ার সৃষ্টি । মিথ্যা কিছু ঘটনা এরা এত সুনিপুনভাবে উপস্থাপন করতে পারে!
.
.
সুতারাং যুক্তি দিয়ে ভাবুন । যুক্তি দিতে শিখুন । রহস্য ভালো লাগতে পারে, তবে তা যেন ভালো লাগতেই সীমাবদ্ধ থাকে । তাতে বিশ্বাস শুধু ধর্মনাশই করবেনা, মানসিকভাবে করে তুলবে আপনাকে বিকারগ্রস্থ । এই যুক্তিগুলো আমার ছোট্ট মস্তিষ্কপ্রসূত, যুক্তিবিদ্যার ছাত্রনা আমি, বিজ্ঞানপাঠকও না । এই চেষ্টাকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন ।
ধন্যবাদ ।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই নভেম্বর, ২০১৬ সকাল ৭:৫১
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×