somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভূমির খতিয়ান-এর পূর্ণরূপ এবং চেনার উপায়

২৭ শে জুলাই, ২০২২ বিকাল ৩:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভূমির খতিয়ান-এর পূর্ণরূপ এবং খতিয়ান চেনার উপায়

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ৪ ধরনের খতিয়ান রয়েছে। যথা –
(১) সি,এস খতিয়ান, (২) এস, এ খতিয়ান (৩) আর, এস খতিয়ান, (৪) বি, এস খতিয়ান/ সিটি জরিপ।

(১) সি, এস(CS) খতিয়ানঃ
সিএস খতিয়ান-এর পূর্ণরূপ- Cadastral Survey.
ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯৪০ সালে সরকার জরিপের মাধ্যমে যে খতিয়ান প্রস্তত করেন তাকে সি, এস খতিয়ান বলে। ১৮৮৮ সালে(ভূমি মন্ত্রণালয় অনুসারে ১৮৮৭) সাল হতে ১৯৪০ সালের মধ্যে এই জরিপ পরিচালিত হয়ে বলে এটাকে ভারত উপমহাদেশে প্রথম জরিপ বলা হয়।এই জরিপ ১৮৮৫ সালের বঙ্গীয় প্রজাতন্ত্র আইনের ১০ম পরিচ্ছেদ অনুসারে সিলেট ও পার্বত্য জেলা ব্যতীত সারাদেশে পরিচালিত হয়।উক্ত জরিপের মাধ্যমে জমির বিস্তারিত মৌজা নক্সা (ম্যাপ) প্রস্তুত করা হয়।

এবং প্রত্যেক মালিকের জন্য দাগ নম্বর উল্লেখপূর্বক ভূমির বাস্তব অবস্থা, আয়তন, শ্রেণি, পরিমাণ. খাজনার পরিমাণ ইত্যাদি উল্লেখপূর্বক খতিয়ান প্রস্তুত করা হয়।এ জরিপ পি-৭০ শীটে কিস্তোয়ারের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
সি, এস জরিপ ১৮৮৮ সালে কক্স-বাজার রামু থানা থেকে আরম্ভ হয় এবং ১৯৪০ সালে দিনাজপুর জেলায় শেষ হয়।সে সময় সিলেট জেলা আসাম প্রদেশের অধীন থাকায় সিলেট জেলায় সিএস জরিপ হয়নি।তবে জরুরী বিবেচনায় সিলেট প্রজাস্বত্ত্ব আইনের আওতায় সিলেট জেলার ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে
১৯৫০ সালে আরম্ভ করা হয় এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ত্ব আইন ১৯৫০ এর অধীনে ঐ জরিপ ১৯৬৩ সালে শেষ হয়।
সি, এস জরিপের সময় প্রস্তুতকৃত খতিয়ানে জমিদারগণের নাম খতিয়ানের উপরিভাগে এবং দখলদার রায়তের নাম খতিয়ানের নিচে লেখা হতো।সে সময় জমিদারগণ সরকার পক্ষে জমির মালিক ছিলেন এবং রায়তগণ প্রজা হিসেবে ভোগ দখলে ছিলেন।
প্রথম এই জরিপের নক্সা ও খতিয়ান খুবই নিখুঁত এবং নির্ভরযোগ্য হিসেবে এখনো গ্রহণযোগ্য।এটাকে সকল কাজের বেস ধরে মামলা মোকদ্দমার ক্ষেত্রে সি, এস খতিয়ানকে প্রাধান্য দেয়া হয়।

সি, এস/ CS খতিয়ান চেনার উপায়ঃ-
১. এটা উপর থেকে নিচে লম্বালম্বিভাবে থাকবে,
২. এপিট ওপিট উভয় পৃষ্ঠায় হবে,
৩. প্রথম পৃষ্ঠায় জমিদার এবং প্রজার নামে দুইটা ভাগ থাকবে,
৪. সবার উপরে লেখা থাকবে “ বাংলাদেশ ফরম নং ৫৪৬৩” (এটা সব ফরমে একই থাকবে),
৫. অপর পৃষ্ঠায় “উত্তর সীমানা” নামে একটা কলাম থাকবে।
(২) এস, এ (SA) খতিয়ানঃ
এস, এ খতিয়ান-এর পূর্ণরূপ- State Acquisition খতিয়ান।
১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ২৭ হতে ৩১ ধারা অনুযায়ী ১৯৫৬-৬০ সালে যে খতিয়ান প্রস্তুত করা হয় তাকে এস, এ (State Acquisition) খতিয়ান বলে।১৯৫০ সালে জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন পাশ হওয়ার পর সরকার ১৯৫৬ সালে সমগ্র পূর্ববঙ্গ প্রদেশে জমিদারি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।২/৪/১৯৫৬ তারিখে এই আইনের ৩ ধারা আওতাধীন বিজ্ঞপ্তি মূলে সরকার কর্তৃক সকল জমিদারি দখল নেয়ার পর উক্ত অ্যাক্টের ১৭ ধারা মোতাবেক যে খতিয়ান প্রস্তুত করা হয় তা এস, এ খতিয়ান নামে পরিচিত।
মূলতঃ জমিদারি ও মধ্যস্বত্ব বিলোপ করে জমিদারগণকে প্রদেয় ক্ষতিপূরণের তালিকা প্রনয়ন এবং ভূমি মালিকগণকে /রায়তকে সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে আনয়ন করার লক্ষ্যে সে সময় একটি সংক্ষিপ্ত জরিপ ও রেকর্ড সংশোধনী কার্যক্রম পরিচালিত হয় যা পরবর্তীতে এস, এ খতিয়ান বলে পরিচিত পায়।১৯৫৬ হতে ১৯৬২ পর্যন্ত এই জরিপ পরিচালিত হয়।জরিপে ভূমি মালিকের নাম ও জমির বিবরণাদি সম্বলিত হাতে লেখা রেকর্ড/খতিয়ান প্রস্তুত করা হয়, যার মধ্যে একটি জেলা রেকর্ড রুমে এক কপি তহশিল(ইউনিয়ন ভুমি অফিস) অফিসে এবং অন্যটি সার্কেল পরিদর্শক (উপজেলা রাজস্ব) অফিসে প্রদান করা হয়।জরুরী তাগিদে জমিদারগণ হতে প্রাপ্ত তথ্যাদির ভিত্তিতে এই জরিপ পরিচালিত হয়।এটাকে পি, এস(Pakistan Survey) জরিপও বলে কারণ এটা পাকিস্তান আমলে করা হয়েছিল।

এস, এ(SA) খতিয়ান চেনার উপায়ঃ-
===========================>
১. এই খতিয়ান সবসময় আড়াআড়ি ভাবে হয়,
২. এইটা সবসময় হাতে লিখা হয়(প্রিন্ট হবেনা),
৩. এই খতিয়ানে সাবেক খতিয়ানের (CS) এবং হাল নম্বরটা থাকবে,
৪. এইটা এক পৃষ্ঠায় হবে।
(৩) আর,এস(RS) খতিয়ানঃ
আর,এস খতিয়ান এর পূর্ণরূপ হলো- Revisional Survey
[RS খতিয়ান তৈরি হয় এসএ খতিয়ানের অধীনে]
এই আইনের ১৪৪ ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার খতিয়ান প্রস্তুত করার উদ্যোগ নেন এরূপ খতিয়ানকে বলা হয় আর,এস খতিয়ান(Revisional Survey)। সি, এস জরিপ সম্পন্ন হওয়ার সুদীর্ঘ
৫০ বছর পর এই জরিপ পরিচালিত হয়।জমির অবস্থা, প্রকৃতি, মালিক, দখলদার ইত্যাদি হালনাগাদ করার লক্ষ্যে এ জরিপ সম্পন্ন করা হয়।এস, জরিপের সময় সরেজমিনে তদন্ত বা জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা হয়নি।জমিদারদের থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এস, এ জরিপ বা খতিয়ান প্রস্তুত করা হয় বলে তাতে অনেক ত্রুটি-বিচ্যুটি থেকে যায়। এই ত্রুটি-বিচ্যুটি দূর করার জন্য সরকার দেশের বিভিন্ন অঞ্চরে সরেজমিনে ভুমি জরিপ করার সিদ্ধান্ত নেয়, যা আর, এস বা Revisional Survey জরিপ হিসেবে পরিচিত।এই জরিপে প্রস্তুতকৃত নকশা(ম্যাপ) এবং খতিয়ান নিভূল হিসেবে গ্রহণীয়।

আর, এস/ RS খতিয়ান চেনার উপায়ঃ-
১. ফরম এর সবার উপরে হাতের ডান পাশে লেখা থাকবে “রেসার্তে নং”,
২. আগে সাধারনত ২ পৃষ্ঠায় হত, এখন এই খতিয়ান ১ পৃষ্ঠায় হয়,
৩. এটাও উপর থেকে নিচে লম্বালম্বি ভাবে হয়।

(৪) বি,এস খতিয়ান/ সিটি জরিপঃ
==========================>
১৯৯৮-৯৯ সাল হতে বর্তমানে চলমান জরিপকে বি, এস খতিয়ান বা সিটি জরিপ বলে। যাহা এখনো চলমান।সিটি জরিপের আরেক নাম ঢাকা মহানগর জরিপ।আর, এস জরিপের পর বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৮ সাল থেকে এ উদ্যেগ নেয়।এ যাবৎকালে এটি আধুনিক ও সর্বশেষ জরিপ এটি।এ জরিপের পরচা কম্পিউটার প্রিন্ট-এ প্রকাশিত হয়।

বি,এস খতিয়ান/ City Survey খতিয়ান চেনার উপায়ঃ-
১. এই খতিয়ানে ৯ টা কলাম থাকবে,
২. এতে আরো বলা থাকবে কি ধরনের জমি নিয়ে খতিয়ানটা(যেমনঃ নাল জমি, পুকুর)।
(৫) দিয়ারা জরিপঃ-
দিয়ারা জরিপ হলো দরিয়া সম্পর্কিত জরিপ।জেগে উঠা নতুন ভূখন্ড(চর) জেলা প্রশাসকের চাহিদার ভিত্তিতে সিকস্তি বা পয়স্তির কারণে ভৌগলিক সীমারেখা ও স্বত্বের পরিবর্তন হলে নদী ও সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় নতুন জরিপ করা হয়।এ সমস্ত জরিপে নক্সা ও রেকর্ড তৈরি করা হয়।এটি অতি পুরাতন জরিপ।ক্যাডাস্টাল জরিপ আরম্ভ হয় ১৯৮৮ সালে, পক্ষান্তরে দিয়ারা জরিপ আরম্ভ হয় ১৯৬২ সালে।দিয়ারা জরিপ সাধারণ জরিপের জন্য প্রযোজ্য সকল স্তর অনুসরণ করে পয়স্তি ভূমির(চর) নক্সা ও রেকর্ড প্রস্তুত করা হয়।দিয়ারা সেটেলমেন্ট অফিসারের নেতৃত্বে ৪ টি (রাজশাহী, নরসিংদী, বরিশাল ও চট্টগ্রাম) আঞ্চলিক অফিসসহ বেশ কয়েকটি ক্যাম্পের মাধ্যমে সারাদেশে সুনির্দিষ্ট কিছু মৌজায় এ জরিপ পরিচালিত হয়।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুলাই, ২০২২ বিকাল ৩:২৭
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভুলে যেও

লিখেছেন জিনাত নাজিয়া, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০১

" ভুলে যেও "

একটু একটু করে চলে যাচ্ছি গভীর অতলে,
ধীরে সুস্থে হাটি হাটি পা পা করে এগিয়ে যাচ্ছি
অনন্তকালের ঘরে।
যেখানে থাকতে হবে একাকি
নি:স্বীম আঁধারে।

ভালো থেক ফুল,পাখি, লতাপাতা,
ভালো থেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ আকাশ বলতে কিছু নেই

লিখেছেন সালমান মাহফুজ, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪২

অনেক হয়েছে । আর না ।
সেই পরশু রাত থেকে । এক-দুই-পাঁচ-দশবার নয় । তিরাশিবার ! হ্যাঁ, তিরাশিবার ঈশিতার নাম্বারে ডায়াল করেও কোনো রেসপন্স পায় নি অলক ।
ওপাশ থেকে একটা নারীকণ্ঠ... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতিভুক বৈশাখী মেলা আর হালখাতা....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪১

স্মৃতিভুক বৈশাখী মেলা আর হালখাতা....

সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাঙালীর পহেলা বৈশাখ উদযাপন করার রীতিও বদলে গিয়েছে। অনেক ঐতিহ্য কালের গর্বে বিলীন হয়ে যাচ্ছে, আবার যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন রীতি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

রোকেয়া পদক ২০২৫: ঘৃণা আর পুরস্কারের এক অদ্ভুত সহাবস্থান

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:০৭


২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর দেশে অনেক কিছু ঘটেছিল। কিছু আশার, কিছু উত্তেজনার, আর কিছু একেবারে হতবাক করে দেওয়ার মতো। হতবাক করার মতো প্রথমেই যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ- মেঘলা আকাশ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:৩৮

তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস
সময় সন্ধ্যা ৭টা বেজে ৪০ মিনিট
জানালা থেকে ঐ বাঁ দিকে Lake Ontario -র জল আর আকাশের মেঘের মেলা মিলেমিশে একাকার


একটু আলোর রেখা
টরোন্টো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×