somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার মহাজাগতিক সকল দুঃখে যাকে আমার প্রথমেই মনে পড়ে সে আমার মা না!

২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ১:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হেডলাইনটা দেখতে খুবই বাজে, আসলে বাজে না কুৎসিত। তাহলে কি আমার দুঃখ, কষ্টে আম্মুর কথা মনে পড়েনা? আসলে তা না। আমার জাগতিক সকল কষ্টেই আম্মুর কথা মনে পড়ে। শরীরের কোথাও ব্যথা পেলে, বসায় একা থাকলে মাঝে মাঝে যখন নিজের খাবার নিজেরই তৈরি করতে হয় কিংবা ছোট বেলায় আম্মুকে ছাড়া যখন কোথাও বেড়াতে যেতাম তখন রাতে ঘুমানোর সময় আম্মুর কথা মনে পড়ত। ঢাকায় যখন পরতে গেলাম তখন নিজের কাপড় ধোয়ার সময়,হাত দিয়ে ভাত খাওয়ার সময়, বাজর করার সময়, জ্বরের সময় প্রতিটা মুহুর্তেই আম্মুর কথা মনে পড়েছে। ঢাকা যাওয়ার আগে আমি কখনো নিজের হাতে ভাতও খেতাম না। সকালে আম্মু খাইয়ে স্কুলে যেত আবার রাতে খাইয়ে দিত। দুপুরে যেহেতু আম্মু থাকতনা আমি বেশিরভাগ সময়ই না খেয়েই থাকতাম। তাহলে হেডলাইনে যে লিখেছি? ভালো করে খেয়াল করলে দেখবেন আমি মহাজাগতিক দুঃখের কথা লিখেছি।

যেসব দুঃখে প্রথমেই আমাদের বন্ধুদের কথা মনে পড়ে সেসকল দুঃখকেই আমি মহাজাগতিক দুঃখ বুঝিয়েছি। আমার অনেক কাছের বন্ধু রয়েছে যদের সাথে প্রায় সবকিছুই শেয়ার করি। তাহলেকি লেখাটা কোন বন্ধুকে নিয়ে? আসলে তা নয়। যার কথা প্রথমেই মনে পড়ে তাকে কিছুই বলতে পারিনা বলেই বন্ধুদের বলি। আমার মহাজাগতিক সকল দুঃখেই যাকে আমার প্রথমেই মনে পড়ে সে আমার নানু।

নানু নেই প্রায় ১৮ বছর। আমার সাথে তার স্মৃতি খুবই সামান্য। আগে নানুর মুখ মনে করতে পারতাম এখন আস্তে আস্তে সব ঝাপসা হয়ে গেছে। চোখ বন্ধ করে নানুর কথা মনে করলে একটা অবয়ব আর সবুজ শাড়ি ছাড়া আর কিছুই মনে করতে পারিনা,মুখটাও না। মুখ ভুলে গেছি এটা আমি মানতেই পারিনা। আমার মন খারাপ হয়। চুপচাপ বসে আবার চেষ্টা করি। কিছুতেই কিছু হয়না।

নানুর কাছে আমার অনেক আদর পাওনা রয়ে গেছে। আমিতো কিছুই দিতে পারিনি,আমার হয়ত দেয়ার অনেক কিছুই ছিলো। নানু বেঁচে থাকলে নিশ্চিত ভাবেই নানুই হত আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। হলোনা কিছুই হলোনা। একা একা শুধু ভাবি কত কিছুই তো অন্যরকম হতে পারত। আম্মু প্রায়ই বলে, "তোর নানু তোরে এত আদর করত তোর কি কখনো মনে পড়েনা?" আম্মু হয়ত জানেনা দিনে যদি একটা মানুষের কথা মনে পড়ে সে আমার নানু, এমন কোন দিন নেই আমি তার শূন্যতা অনুভব করিনা।

আম্মু বা বাবা রাগারাগি করলে নানুর কথা মনে পড়ে। নানু থাকলে নানুর কাছে আম্মুর নামে বিচার দেয়া যেত। নানু তখন পাল্টা আম্মুকে বকে দিত। কাউকে ভালো লাগলে নানুর কথা মনে পড়ে। নানু থাকলে বলা যেত,"দেখতো নানু মেয়েটা কেমন?"
নানুকে বলতে পারতাম, "নানু দেখো দিনে দিনে ভালোবাসার ডেফিনেশন কেমন চেঞ্জ হয়ে গেছে আমার কাছে"। নানু যাদেরকে আমার ভালোলাগে তাদেরকে এনালাইসিস করে দেখলাম তাদের কেউ ভালো গান গায়, কেউ ছবি আঁকে, কেউ লেখে, কেউ সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলে। আমি হয়ত তাদের ক্রিয়েটিভিটিকেই ভালোবাসি কিন্তু ওই মানুষটাকে না। আমি তাদের কাউকেই ব্যক্তিগত ভাবে চিনিনা। ভালোবাসার জন্য ব্যক্তিগত ভাবে জানা প্রয়োজন। কিছুই বলা হয়নি নানুকে, সৃষ্টিকর্তা সেই সুযোগটা দেয়নি। তাই এইসব প্রশ্ন শুধু প্রশ্নই থেকে যায়, উত্তর পাইনা।

দুইটা বিরল ঘটনা আছে নানুর সাথে। নানু একবার সবার সামনে বলে বসলেন, " আমি রাবিনরে(আমি) অন্য সব নাতিদের থেকে বেশি ভালোপাই তোরা কেউ কিছু মনে করিসনা"। কেউ কিছু মনে করেছে কিনা জানা যায়নি, নানু আমারেই কেন সবার থেকে বেশি ভালোবাসত তাও জানা যায়নি। বেঁচে থাকলে নিশ্চই জিজ্ঞেস করতাম।
চাকরির সুবাদে বাবা তখন পটুয়াখালী থাকে। আমি আর আম্মু নানু বাড়ি থাকি। আম্মুর পড়ালেখা তখনো শেষ হয়নি। আমাকে রেখে আম্মু যখন পরিক্ষা দিতে যেত তখন কখনো কখনো আমাকে শান্ত করা কঠিন হয়ে যেত। কোন কিছুতেই যখন কোন কাজ হতনা তখন নানু তার স্তন আমার মুখে দিয়ে রাখত। ওই চুপসে যাওয়া স্তন মুখে নিয়ে আমি ঘুমিয়ে যেতাম। অন্যকারো জীবনে এমন ঘটনা আছে কিনা আমার জানা নেই।

জগতের সকল নানুরা ভালো থাকুক।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ১:৩০
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আহলে হাদিস একটি সুনিশ্চিত পথভ্রষ্ট ও জাহান্নামী দল

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৫৮




সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতাম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে তাঁর পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন বিচার পাওয়ার আগেই মৃত্যু হলো সাইকো সম্রাটের ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:৩৪


সাভার থানা থেকে মাত্র একশো গজ দূরে, পাশে সরকারি কলেজ, দূরে সেনা ক্যাম্প, চারদিকে মানুষের ব্যস্ততা: এই পরিচিত পরিবেশের মাঝে একটা পরিত্যক্ত ভবন ছিল, যেখানে আলো পৌঁছাত না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানব সভ্যতার নতুন অধ্যায়

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:০৭


আজ মানব জাতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
তারিখঃ ২৪ শে মার্চ, ২০২৬
সময়ঃ বিকাল ৪টা, (নর্থ আমেরিকা)
আমেরিকার কংগ্রেস স্বীকার করে নিল ভীন গ্রহের প্রাণীর অস্তিত্ব। স্বীকার করে নিল পৃথিবীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ সেই বিভীষিকাময় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:৫৫

আজ সেই বিভীষিকাময় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস।
আজ সেই বিভীষিকাময় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই কালরাতে Operation Searchlight নামের বর্বর অভিযানের মাধ্যমে পাক আর্মি নিরস্ত্র বাঙালির উপর ইতিহাসের জঘন্যতম... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওয়ান-ইলেভেন: স্মৃতিহীন জাতির হঠাৎ জাগরণ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৩০

কাভার- সরাসরি আপলোড না হওয়াতে!!


ওয়ান-ইলেভেন: স্মৃতিহীন জাতির হঠাৎ জাগরণ!

জেনারেল মাসুদের গ্রেপ্তার হতেই হঠাৎ দেখি-
সবাই একসাথে ওয়ান-ইলেভেন-কে ধুয়ে দিচ্ছে!

মনে হচ্ছে, এই জাতির কোনো অতীতই নেই।
বাঙালির স্মৃতিশক্তি আসলেই কচুপাতার পানির মতো-এক ঝাপটায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×