somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নাঈম জাহাঙ্গীর নয়ন
আমি অন্তর ভাঙা এক যুবক! সহজেই বুঝে যাই কান্নার সুরে-দুঃখটা কত গভীর,অনুভবে শিহরিত হই বাস্তব কত কঠিন, কতটা নির্মম হতে পারে মানুষ! shapnaneer.com 'স্বপ্ননীড়'।।

চৌদ্দবছর পরে...!!

১২ ই মে, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সুখদুঃখ হাসি কান্না সবার জীবনেই থাকে কম আর বেশি। প্রতিটি প্রাণেই কিছু স্বপ্ন থাকে, যে স্বপ্ন গুলো বেঁচে থাকার প্রেরণা হয়ে মন আকাশে ভেসে বেড়ায় সবসময়। মানুৃষ স্বপ্ন চোখে সুখের আশায় ঘর বাঁধে। কারো'বা ঘর বাঁধার আগেই সব সুখ, হৃদয়ে জমানো যতো আশা সবই দুঃস্বপ্ন হয়ে যায়। ঘর বাঁধার আগেই পুড়ে যায় কারো ঘর...!! জীবনের ঘরটাও বাঁধার আগেই পুড়ে গেছে। পুড়ে যাওয়া ঝঁলসানো ভালোবাসার দুঃসহ যন্ত্রণা ভুলে থাকতে মাঝেমধ্যেই নিঃসঙ্গ নীরব রাতের সাথে কথা বলে চলে যায় জীবনের অনেক রাত....

প্রতিটি প্রাণই ভালোবাসা খুঁজে, মনের মতো বন্ধু খুঁজে, ভালোবাসার মানুষটাকে নিয়ে কতশত সুখের গল্প সাজাতে চায় মনের মণিকোঠায়, তৃপ্তি আর ভালোবাসা সব একজনের মাঝেই খুঁজে পেতে চায়...!! আমারও একটা তৃপ্তির জায়গা ছিল, একটা মানুষ ছিল ভালোবাসার। স্বপ্ন ছিল তাকে নিয়ে দুনিয়ার যতো সুখ আর ভালোবাসা ভরে একটি ছোট্ট ঘর বাঁধার। যে ঘরে সে আর আমি অনন্তকাল সুখে থাকবো। জীবনের প্রথম যৌবনের আগমনে তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা শুরু সেই '৯৪-এর শেষের দিকে...! দীর্ঘ প্রায় সাত বছর কত অন্তরঙ্গ আর মধুর সম্পর্ক ছিল তার সাথে আমার! কতশত সুখস্মৃতি আর সে- আমার প্রতিটি মুহূর্ত কত মধুর করে তুলতো! তাকে ছাড়া পৃথিবীর বুকে ইচ্ছে ছিল না নিতে একদিন নিঃশ্বাস।

অথচ! সেই মানুষটি একদিন(২৩-২-২০০০ইং তারিখ রাগারাগি করে আমার কাছথেকে তার দেয়া শেষ চিঠিগুলো ও তার ছবি গুলো নিয়ে চলে যায়। আবার আসে কয়েকদিন পর, ক্ষমা চায় কষ্ট দেয়ার জন্য। আমি মেনে নেই সবকষ্ট ভুলে যাই দেখাতেই। আবার ২৯-৩-২০০০ইং তারিখ কি নিয়ে যেন কঠিন অবিশ্বাস করছে আমাকে, বলছে- আমার বিয়ে হয়ে যাবে কয়েকদিনের মধ্যেই, তুমি ভুলে যেও আমাকে। আমি বলেছিলাম- তুমি থাকতে পারবে তো! যদি পারো তো বিয়ে করেই নিও। আর যদি না থাকতে পারো, আমাকে প্রয়োজন মনে কর, যদি বিশ্বাস করতে পারো তবে চলে এসো আমার কাছে, আমি বুকে জড়িয়ে নেবো চিরদিনের জন্য। তখন অভিমান ভুলে হেসে হেসে বলেছিল, আমি তোমারি সাথী, থাকবো চিরদিন। আমি বলেছিলাম- তুমি যেও না, তোমাকে বিয়ে দিয়েই দিবে এবার। সে বলেছিল- আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবোনা কোনদিন, আমার বিয়ের আসর থেকে হলেও চলে আসবো তোমার কাছে। তুমি কোন চিন্তা করো না আমার জন্য। কিন্তু! সেবার আর ফিরে আসেনি আমার কাছে...! ১০-৪-২০০০ইং তার বিয়ে হয় অন্যত্র।)ছেড়ে যায় আমাকে। নিজের সুখটাকে বেশি প্রয়োজন মনে করে সুখী হতে চলে যায় আমার সুখের ভুবনে আগুন জ্বেলে। জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে দিয়ে যায় ছয়-সাত বছরের জমানো কত গভীর ভালোবাসা। কিছুই ছিল না অবশিষ্ট তাকে হারিয়ে... হারাবার। নিঃস্বতা আর নিঃসঙ্গতা গ্রাস করেছিল আমাকে। স্তব্ধ হয়ে বেঁচে ছিলাম, মরতে পারিনি, নিতেই হয়েছে নিঃশ্বাস জীবনের নিয়মে।

তার সাথে অবহেলা আর প্রতারণা পেয়ে ভেঙে যায় আমার মনের সমস্ত বিশ্বাস। কোন আশ্বাস পাইনি কোনভাবে, কোনকিছুতে। তার সাথে ভালোবাসার দিনগুলি আর সুখস্মৃতি গুলো খুব পুড়াতো আমায় সবসময়। ঘর থেকে বের হলেই তার স্মৃতিরা আমাকে ঘিরে রাখতো, আমি যেন স্তব্ধ রয়ে যেতাম, পিছন থেকে বারবার ডাকার পরও আমার কানে পৌঁছতো না কোন ডাক...! সেই নিঃস্বতা আর স্তব্ধতা কাটাতেই (২৮-১২-২০০০ইং)বাড়ি ছেড়ে চলে যাই তার নিষেধ করা সেই চাকরিতেই...! নিজেকে নির্বাসিত করে রাখাই ছিল আমার চাকরিজীবনেরর শুরু। ভেবেছিলাম জীবনটা নির্বাসিতই কাটিয়ে দেবো, আর কোন মায়ায় জড়াবো না নিজেকে, গড়তে চাই'বো না কোন সংসার মিথ্যে এই দুনিয়ায়...! সুখের সংসার সাজাতে প্রচুর বিশ্বাস আর ভালোবাসা থাকতে হয় মনে। আমার ছিল না! তাই ভাবতাম, সংসার সাজিয়ে লাভ কি, যদি বিশ্বাসই রাখতে না পারি। আমার যে বিশ্বাস যা ছিল সবই ভেঙে গিয়েছে! বাবা-মা, ভাই-বোন, আত্মীয় স্বজন, বন্ধু-বান্ধব কাউকেই আর বিশ্বাস করতে পারতাম না তখন। নতুন কোন স্বাদ আর ছিল না মনে...!!

চৌদ্দবছর পর.....

২৪-১০-২০১৪ইং তারিখ বসেই ছিলাম প্রতিদিনের মতো। তখন আমার পোষ্টিং এক হাওড় এলাকায়। চারিদিক পানিতেই ভরা থাকে বছরের বেশিরভাগ সময়। কোথাও যাওয়া হয় না। ফেসবুক দেখি আর বসেই থাকি। গতরাতে মিন্টু ফোন করে বললো তোর নাম্বার নিল সাথী ফোন করে। আমি দিয়ে দিয়েছি। তোর কাছে ফোন দিবে হয়তো। আমি সত্যিই খুব অবাক হয়েছিলাম সেদিন। এত বছর হয় মোবাইল কিনেছি, কতদিন ভাবতাম সে আমাকে খুঁজবেই কোনদিন। যদি সেই সুযোগ কোনদিন আসে সেই ভাবনায় আমার ফোন কখনো বন্ধ রাখতাম না। সে দেয়নি কখনো, খুঁজে নি কখনো। আজ এতদিন পর তার ফোন দেয়ার কথা শুনে আমি কতটা খুশি হয়েছিলাম তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না।

পরেরদিন সকাল কেটে দুপুর গড়িয়ে যাচ্ছে। তার ফোন আসলো না, ভাবছি হয়তো দিবেই না। দুপুরে খাওয়ার পর শুয়েই ছিলাম। হঠাৎ বেজে ওঠে বালিসের পাশে রাখা মোবাইল। অপরিচিত বাংলালিঙ্ক নাম্বার। দেরি না করে রিসিভ করলাম। চুপ হয়ে কানে ধরে আছি। ওদিক থেকে কোন সাড়া নেই.... আমি হ্যালো হ্যালো করছি। ফোন কেটে গেল...। আমি কল দিলে মোবাইল বলছে আপনার পর্যাপ্ত পরিমাণ ব্যালেন্স নেই। মাথা নষ্ট। তাড়াতাড়ি ওঠে বাজারের দিকে রওয়ানা দেই। বাজারে গিয়ে টাকা ভরে ফিরছি। আবারও ফোন সেই নাম্বার থেকে। আমি রিসিভ না করে হাটছি। কারণ, বাজারে অনেক লোকের কথায় হয়তো ফোনের কথা ঠিকমতো শুনবো না। কিন্তু আবার মিসকল দিলে আর থাকতে পারলাম না ফোন না দিয়ে। ফোন হচ্ছে..... রিসিভ করে আবারও চুপ।
হ্যালো.... একটা মেয়ের কণ্ঠ। কণ্ঠটা আমার খুব পরিচিত, ঠিক মিনতির মতো। তবুও একটু বোঝার জন্য কিছু বলছি না। সে আবারও হ্যালো...
কে আপনি....?
চিনতে পারলা না...?
এবার চিনেছি.....
তুমি ভুলেই গেছো সব...!
কেমনে বুঝলা...?
তুমি আমার কণ্ঠ শুনেও চিনতে পারলা না!
চিনেছিলাম তো....
হুম, মিথ্যে.... তুমি হ্যালো হ্যালো করলে কেন?
বুঝতে চাইছিলাম ভালো করে।
কেমন আছো তুমি....?
কি বলবো.... ভালোই তো আছি...!
হ্যা তাইতো দেখছি.... তুমি সব ভুলে গেছো...!
কিভাবে ভুলবোরে.... যদি ভুলতেই পারতাম!
একদিন তো আমার খবরও নিলা না, আমি কেমন আছি, কিভাবে আছি...?
সেই অধিকার তো ছিল না আমার....! তোমার বাড়িতে যাওয়ার অনেক ইচ্ছাকে বিসর্জন দিতে হয়েছে কেবল তোমাকে ভেবেই। তবুও মনিরার কাছে কয়েকদিন তোমার নাম্বার চেয়েছিলাম, দেয়নি। আমার নাম্বার সবার কাছেই দিয়ে রেখেছিলাম তুমি যদি কখনো একবার খুঁজো...!
হুম, চেষ্টা করনি, চেষ্টা করলে ঠিকই পাইতা...!
কতটা ইচ্ছা ছিল কথা বলার তা তোমাকে বুঝাতে পারবোনা। তুমি আমার নাম্বার কার কাছে পাইছো...?
ইচ্ছা থাকলে কতভাবে মিলানো যায়। আমি মেয়ে হয়ে তোমার নাম্বার আগে জোগাড় করলাম, আর তুমি ছেলে হয়ে পারলা না...!
হুম, খুব কাজের কাজ করেছো তুমি, আমার স্বপ্ন সত্যি করেছো....।
কিভাবে....!
এই যে ফোন দিছো....।
এতে স্বপ্ন পূরণের কি হইল।
আমার স্বপ্ন ছিল তোমার সাথে কোনদিন কথা হবে আমার। এই মোবাইল নাম্বারটা কিনার পর থেকেই ভাবতাম তুমি হয় তো ফোন দিবে। কারণ, আমার সাথে কথা বলার স্বাদ জাগবেই তোমার কোনদিন। তুমি এখন কোথায়...?
বাসায়...
কোন বাসায়....
শেরপুর....
শেরপুর...! শেরপুর কোথায়... ? আমি অবাক হয়েছি সে শেরপুর। কারন, তার তো শেরপুর থাকার কথা ছিল না। কিন্তু কেন!
আমরা বাসা নিয়েছি এখানে....।
কেন, কেন,
ছোট ছেলেটা মাদ্রাসায় কোরআন পড়ছে, সেজন্য তাকে নিয়ে যাওয়া আসার জন্য আমাকেও থাকতে হচ্ছে।
কতদিন যাবত আছো...?
পরাই একবছরই হলো...
এতদিন পরে আমার কথা মনে পড়লো...?
না, মনে পড়েছে অনেক আগেই। তোমার নাম্বার জোগাড় করাই ছিল অনেক ব্যাপার। কারো সাথে দেখাই হচ্ছিল না। গতকাল মিন্টুর সাথে দেখা হওয়ায় নাম্বারটা নিয়েছি। মিন্টু নাম্বার দিতেই চায় না... !
পরে...
পরে আর কি। বললাম দেও, কোন সমস্যা হবে না। পরে দিয়েছে। কিন্তু ফোন দিতে কেমন যেন ভয় হচ্ছিল।
কেন, ভয় কিসের...?
যদি রাগ করো তুমি!
তোমার সাথে রাগ করবো, আমি! অসম্ভব আমার জন্য!
তুমি সব ভুলে গেছো তাই না?
তুমি ভুলতে পারছো...?
ভুললে কি আর এতকষ্ট করে নাম্বার জোগাড় করে ফোন দিতাম।
এতদিন কেন মনে হল না!
হয়েছে, সাহস পাইনি। যদি তুমি আবার পাগলামি শুরু কর...
আমি ভালো ছিলাম কবে...!
না, বিয়ে করেছে, বাচ্চা হয়েছে, ভালো থাকেনি...!
বাচ্চা হইলেই ভাল থাকলাম!
না তো কি... ?
তোমার তো দুই বাচ্চা, তুমি কেন মনে রেখেছো!
ভুলা কি আর যায়....!
তাহলে আমি কি করে ভুলে থাকতে পারি....!
তোমার সাথে অনেক কথা আছে আমার, পরে বলবো। এখন রাখছি। তুমি ভালো থেকো।
এখন কি করবা...?
এতক্ষণ শুয়েই ছিলাম, এখনো গোসল করাই হয়নি!
কি বল! গোসল তো সকালেই করার কথা।
আরে না, তুমি আর ভালো চিন্তা করতে পারো না...!
খারাপটা কি করলাম! তোমার তো সকালেই গোসল করার কথা, নাকি?
হুম, প্রতিদিন কি সকালে গোসল করে মানুষ!
আমি তো সেরকমই ভাবি....
তুমি তো ভাববাই....
সত্যিই বলছি... বিশ্বাস করো, তোমার মতো সুন্দরী বউ পাশে থাকলে শুধু সকালে না, কতদিন যে দুপুর সন্ধ্যায় গোসল করাইতাম তার হিসেব থাকতো না।
তুমি বুঝি বউরে খুব ভালোবাসো...?
বাসি তো... তবে তোমাকে মনে করে মাঝেমধ্যে তোমার নাম বলে ফেলতাম! তখন কি হইতো আমিই জানি...!
মিথ্যা বলছো....
তুমি নিজেই জিজ্ঞেস করে জেনে নিও একসময়।
না, আমি যাবো না ঝুমার কাছে।
কেন?!
তোমার আম্মাকে ভয় হয় আমার। আন্টি যদি আগের মতই....
আরে না, তুমি সময় নিয়ে একদিন বেড়িয়ে যেও।
তুমি একসময় বউ বাচ্চাসহ বেড়িয়ে যেও, তারপর।
আচ্ছা, বাদ দেও। তোমার আসা লাগবে না।
তুমি কবে আসবা?
কেন, দেখা করবা নাকি?
খুব মন চাইতেছে দেখবার?
কেন বিশ্বাস হয় না?
না, হয়। আচ্ছা, রাতে কথা হবে তোমার সাথে এখন রাখি। বলেই কিছুক্ষণ লাইন না কেটেই চুপ করে, তুমি কি করছো বলে লাইনটা কেটে দিল।

সেদিন তার সাথে এভাবে এতগুলো কথা হবে আমি ভাবতেই পারিনি কোনদিন। আমি মনে সবসময় ভেবেছিলাম সে হয়তো আমাকে ভুলেই গেছে...! কিন্তু সেদিন কথা শুনে মনে হয়েছিল না, সে আমাকে ভুলতে পারেনি। সেও আমাকে মিস করেছে অনেকসময়। তার প্রতি এতদিনের জমে থাকা কষ্ট গুলোর কিছুই আর সেদিন বলিনি। আমি হয়তো সব ভুলেই গিয়েছিলাম! আমার কাছে মনে হয়েছে সেই আগের সাথীর সাথেই কথা বলছি। হাইরে ভালোবাসা সামান্য মোবাইলে কথা বলতেই চৌদ্দবছরের কষ্ট সব ভুলিয়ে দিতে পারিস!!!

সেদিন রাতের বেলায় আবার যখন ফোন দিল তখন মনে হল দুজন পাশাপাশি শুয়ে শুয়ে কথা বলছি। অনেক কথাই বললো রাতে। সেও আমার মতো প্রতি রাতেই মনে করেছে, নীরবে ভাসিয়েছে বুক চোখের জলে। তারও ছিল আমার মতো অন্তর জ্বালা।  তার কথা শুনে শুনে সেদিন নিজেকে খুব সুখী মনে করেছিলাম। ভেবেছিলাম আমি ভুল করিনি তাকে ভালোবেসে, সে আমার ভাগ্যেই ছিল না। তাই তাকে পাইনি। রাতে যখন বলছে, তুমি আসো, তখন মনে হয়েছিল পাখা যদি থাকতো তাহলে এখনি চলে যেতাম। আমি ভুলেই গিয়েছিলাম সে অন্য জনের দুই সন্তানের মা, সেও।

সেদিন থেকে আমাদের মাঝে প্রতিদিনই কথা হতো। দিনে অনেকবার। যখন সময় পেতো তখনই ফোন দিতো। আমি কেটে দিয়ে ফোন দিতাম। কথা বলা শুরু করলে যেন আর থামতেই চাইতো না। ধীরে ধীরে তার শেরপুর বাসা নিয়ে থাকার সব গল্প শুনলাম সেদিন। সে একাই থাকে তার ছোট ছেলেকে নিয়ে শেরপুর। স্বামী বাড়িতেই থাকে, কলেজ ব্যবসা সংসার সব সে বাড়ি থেকেই সামলাচ্ছে। সপ্তাহ শেষে বৃহস্পতিবার রাতে তার কাছে আসে আবার শনিবার সকালে চলে যায়। এভাবেই প্রায় একবছর যাচ্ছে শুনে অবাক হয়েছিলাম। প্রতিমাসে বাড়ি যাই। কোন কোন মাসে দুই তিনবারও যাওয়া হয়ে যায় তবুও তার সাথে কোনদিন দেখা হল না, কারো কাছে জানতেও পারলাম না! সেদিন তার সাথে কথা বলার সময় মনে হয়েছিল সেই আগের সাথীই আছে সে। সেই আগের মতোই ভালোবাসে আমাকে। আমি বারবার তাকে ভেবে ভেবে সেই ষোলো বছরের যুবকে পরিণত হই। পাই সেই আগের শিহরণ তাকে ভেবে...!

ভালোবাসা বুঝি এমনই এমনই হয়...! ভালোবাসার মানুষ বুঝি এভাবেই মুহূর্তে ভুলিয়ে দিতে পারে সবকষ্ট সব বিরহ যন্ত্রণা...! এর জন্যই বুঝি মানুষ ভালোবাসে...!!

কয়েকদিন সারারাত আমার সাথে কথা বললো মোবাইলে। কত কথা, কত কষ্ট তারও ছিল...! সবই বললো আমার সাথে, কথা যেন আর শেষই হতে চায় না...! আমি ট্রাই করতে মাঝেমধ্যে পুরনো দিনের কোন স্মৃতির শুরুটা বলে চুপ থাকতাম, সে বাকিটুকু বলে বলে কাঁদতো...! আমি মোবাইলে তাকে কিছুতেই শান্তনা দিয়ে থামাতে পারতাম না। শেষে আমিও কাঁদতাম, কান্নাজড়ানো কণ্ঠে সে তখন আমার কান্না থামাতে ব্যস্ত হয়ে পড়তো, কথায় কথায় আবার দুজন স্বাভাবিক হতাম।

এভাবেই কয়েকদিন চলার পর আমাকে বাড়ি যাওয়ার অনুরোধ, আমাকে নাকি খুব দেখতে ইচ্ছে করছে তার। আমি কয়েকদিন আগেই এসেছিলাম বাড়ি থেকে। তবুও তার সাথে দেখা করার জন্য সময় বের করেই ফেললাম চারদিনের মধ্যে। তিনদিনের অনুমতি নিয়ে একদিন চলেই গেলাম শেরপুর....

(চলবে...)

ছবিটি আমার মোবাইল থেকে এখন তোলা

(উপরের ছবিটি ফেসবুকে পেয়েছিলাম কোনএক কালেক্ট পোষ্টে, তাই চিত্রশিল্পীর নাম দিতে পারলাম না, দুঃখিত।)
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মে, ২০১৭ রাত ১২:৫৭
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

থাক অহমিকায়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


তোমার রঙিন আকাশে নেই
যে অমাবস্যার- অন্ধকার
ঝলমল করছে শুধু চাঁদ-
ডুবছ ডুবছ সুখমারী রাত!
উড়ছ শঙ্খচিলের ডানায়;
তোমার আকাশে অমাবস্যা নাই।

আমি মাটি বন্দি হয়েছি
মরার আগেই- মরার আগেই-
স্বপ্ন দেখি শুধু হুতুম পেঁচা হব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫০



বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন[

শেখ মুজিব ইতিহাসের খলনায়ক।
জাতীয় বেইমান।
পাকিস্তান ভাঙার অপরাধী।
- এই কথাগুলো আপনি বিশ্বাস করেন?
তাহলে আজ আপনাকে একটা অনুরোধ করব- একবার শুধু থামুন।

রাগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় কন্যা আমার- ৯৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৫

ফারাজা তাবাসসুম খান-
অনেকদিন তোমাকে নিয়ে লিখি না। খুব ব্যস্ত আছি। আমার সব সময় নিয়ে নিচ্ছে অফিস। আমি অফিস থেকে তোমাকে ফোন করলে তুমি কথা বলতে চাও না। আবার আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Mystic River – জোয়ারে ফিরে আসে সবকিছু

লিখেছেন রাজসোহান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৩১



১৯৭৫ সালের বোস্টন। শ্রমজীবী মানুষের সাধারণ পাড়া। রাস্তায় হকি খেলছিল তিনটে বাচ্চা ছেলে। হঠাৎ বল গড়িয়ে পড়ল ড্রেনে। খেলা ওখানেই শেষ। ফুটপাতের একপাশে তখন সদ্য ঢালা ভেজা সিমেন্ট। ছেলেগুলো কাঠি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×