পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ এবং শ্রেষ্ঠ নেতা হযরত মুহাম্মাদ মোস্তফা (সঃ)। আমাদের বিজ্ঞ মুক্তমনাদের কাছে তিনি আবার ততোটা সম্মান পান না! মুক্তমনারা নিজেকেই সর্বের সর্বা ভেবে বসে থাকেন! অথচ তার প্যান্টের তলা ফুঁটা! হাদীসে পাওয়া যায় কেয়ামতের ময়দানেও একমাত্র হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) ই আল্লাহর সঙ্গে কথা বলতে পারবেন। তাঁর উম্মতদের জন্য সুপারিশ করতে পারবেন। মুসনাদে আহমদ এর বর্ণনায় পাওয়া যায়, শেষ বিচারের দিনে মানুষরা একটু ভরসার আশায় দিকবেদিক ছুটাছুটি করবে! প্রথমেই তারা ছুটে যাবে আদি পিতা হযরত আদম (আঃ) এর কাছে। কিন্তু হযরত আদম (আঃ) বলবেন, আজ আমিও ভয় করছি! না জানি আমার ভাগ্যে আল্লাহপাক কি রেখেছেন! আমি আল্লাহপাকের আদেশ অমান্য করে নিষিদ্ধ গাছের ফল খেয়ে ফেলেছিলাম! না জানি সেই অপরাধ আল্লাহপাক ক্ষমা করেছেন কিনা! নাফসি! নাফসি! আমার কি হবে! আমার কি হবে!
আদি পিতা বলবেন তোমরা মূসার কাছে যাও! মানুষজন মূসা (আঃ) এর দৌড়ে যাবে! তারা মূসা (আঃ) কে অনুরোধ করবেন যেন নি তাদের হয়ে সুপারিশ করেন! তখন মূসা (আঃ) ও একই কথা বলবেন! আমি নিজেই আজ ভয়ে আছি! আমি একজন মানুষকে খুন করেছিলাম! যদিও তাকে খুন করার মত কোন অপরাধ সে করেনি। আমি জানি না আল্লাহপাক আমাকে ক্ষমা করেছেন কিনা! নাফসি! নাফসি! আমার কি হবে! আমার কি হবে! তোমরা ঈসার কাছে যাও!
মানুষজন আবারো ঈসা (আঃ) এর কাছে ছুটে যাবে! কিন্তু ঈসা (আঃ) ও একই কথা বলবেন! তিনি বলবেন, আমি নিজেও আজ ভীষন ভয়ে আছি! জানি না আল্লাহপাক আমাকে ক্ষমা করবেন কিনা! আমার উম্মতরা আমাকে খোদা বানিয়ে উপাসনা করেছিল! এই ভয়াবহ শিরকের কোন দায় আমার উপর চলে আসে কিনা আমি সেই ভয় করছি! নাফসি! নাফসি! আমার কি হবে! আমার কি হবে! তোমরা বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) এর কাছে যাও! মানুষজন বিশ্বনবীর কাছে এক দৌড়ে চলে যাবে! বিশ্বনবী শেষ পর্যন্ত কাউকে হতাশ করবেন না! তিনিই একমাত্র পয়গম্বর যিনি কেয়ামতের ময়দানে আল্লাহপাকের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলবেন! উম্মতদের জন্য সুপারিশ করতে পারবেন। সবক্ষেত্রেই তিনি শ্রেষ্ঠ!

মুসলিমদের কাছে এই মানুষটি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ নেতা! আসুন দেখে নেই ইউরোপীয়দের কাছে কোন মানুষটি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ নেতা হতে পেরেছেন! ১৯৭৪ সালে বিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিন থেকে বিশ্বের খ্যাতিমান,ইতিহাসবিদ,শিক্ষক এবং লেখকদের নিকট একটি প্রশ্ন করা হয়েছিল। প্রশ্নটি ছিল, “হু অয়্যার হিষ্টরিজ গ্রেটেস্ট লিডার্স”? অর্থাৎ কারা ছিলেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ নেতা? প্রশ্নের জবাবে অনেকে বলেছিলেন হিটলার আবার কেউ কেউ বলেছিলেন গান্ধিজী,বুদ্ধ,লিংকনসহ আরও অনেকের নাম। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতিমান মনস্তত্ব বিজ্ঞানী এবং শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক জুলেস ম্যাসারম্যান এই বিষয়ে একটি মানদন্ড প্রদান করেছিলেন। তিনি বলেন, “ শ্রেষ্ঠ নেতাকে অবশ্যই তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে”।
১) অনুসারীদের জন্য কল্যাণের নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে।
২) এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে যেখানে মানুষরা তুলনামূলক নিরাপদ বোধ করবে।
৩) অনুসারীদের জন্য দিতে হবে বিশ্বাসের একটি দলিল বা সুনির্ধারিত বিশ্বাস মালা।
অধ্যাপক জুলেস ম্যাসারম্যান উপরোক্ত তিনটি মানদন্ড দিয়ে হিটলার,পাস্তর,সিজার,কনফুসিয়াস এবং আরো অনেকের বিচার বিশ্রেষন করেন। পাস্তর ও সলকের মত ব্যক্তিরা এ নাম্বার নিলিখের বিচারে নেতৃৃত্বের আসন পেতে পারেন। এছাড়া গান্ধি ও কনফুসিয়াস একদিকে এবং আলেকজান্ডার হিটলার ও সিজার অন্যদিক থেকে দুই নাম্বার নিরিখের বিচারে নেতা হিসাবে বিবেচনার যোগ্য। আর তৃতীয় নিরিখের বিচারে যীশু অর্থা ঈসা (আঃ) ও বুদ্ধ নেতৃত্বের হকদার। তবে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা হচ্ছেন হযরত মুহাম্মাদ মোস্তফা (সঃ)। যিনি একাই উপরোক্ত তিনটি শর্তই পূরণ করেছেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




