somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নির্বাক

১৯ শে মে, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাত প্রায় দুইটা বাজে । নেহাল বাসা থেকে বের হইছে সেই ১০ টার দিকে । সেই থেকে অনবরত হেটে যাচ্ছে । কোন দিকে যাচ্ছে সে নিজেও জানেনা । মনটা অস্থির , তাই যখন যে রাস্তায় ইচ্ছা সেই রাস্তাতেই হেটে চলেছে । নিজেকে আজ হিমুর মত লাগছে । যদিও নেহাল একদমই হিমুর মত নয় । সে খুব বেশি হাটে না , খালি পায়ে একদমই চলতে পারে না ।

নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান সে । এখনো নিজে উপার্জন করে না । বাপের টাকায় চলে । তিন মাস হল অনার্স শেষ করেছে । চাকরির জন্য ছোটাছুটি করছে কিন্তু চাকরি পাচ্ছে না । ছাত্র ভাল হলেও ঘুষের টাকা দিতে পারেনা বলে চাকরি হয়না ।

সমবয়সী সবারই চাকরি হয়ে গেছে । আর সে এখনো তার বাবার পাঠানো টাকায় চলে বলে খুবই হীনমন্যতায় ভোগে ।

এতদিন হলে থাকতো, গত এক মাস হলো একটা মেসে উঠেছে নেহাল । খরচ বেড়ে গেছে । চলতে হিমসিম খাচ্ছে ।

আজ মা ফোন দিয়েছিলো । বাবা নাকি অসুস্থ । বয়স হয়েছে, আর কত ? মা বললো, "বাবা একটা কিছু করার চেষ্টা কর, তোর বাপ যে আর পারেনা । তোর বোনটাও তো বড় হইছে । তুই কিছু না করলে কেমনে চলে বল বাপ । "
বলতে বলতে মায়ের গলাটা ধরে আসছিল ।আস্তে করে ফোনের লাইনটা কেটে দেয় নেহাল ।

সেই থেকে মনটা অস্থির, কি করা যায় ? কিছু ভাবতে না পেরে রাস্তায় বেরিয়েছে । হাটছে তো হাটছেই ।

হাটতে হাটতেই হঠাৎ চোখে পড়লো "লাভলী হোটেল এন্ড রেস্ট্রুরেন্ট "
সে সম্বিত ফিরে পেল । নেহাল বুঝতেই পারেনি কখন সে নীলক্ষেত চলে এসেছে । নীলক্ষেতের এই হোটেলটিতে হলে থাকাকালীন অনেকবার খেয়েছে । হোটেলের সবাই তাকে চেনে ।

হোটেলের সামনে আসতেই তার মনে হল সে খেয়ে বের হয়নি । প্রচন্ড ক্ষুধা অনুভব করলো । নেহাল পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করলো । সেখানে আছে মাত্র ১১০০ টাকা । মাসের আজ ১৭ তারিখ । এই সামান্য টাকা দিয়ে কিভাবে সে চলবে তাই ভাবতে লাগলো ।

ভাবনায় বাধ সাধলো মোবাইলে আসা কল । পকেট থেকে মোবাইল বের করে দেখে পুশন কল দিয়েছে । কল রিসিভ করবে কি করবে না সেই সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে ভুগতেই কল কেটে গেল । মোবাইল পকেটে রাখতেই আবার কল । এবার কলটি রিসিভ করে ।

: হ্যালো

: তোমার না রাতে খাওয়ার পরে কল দেয়ার কথা ছিল ?

: হুম

: দাওনি কেন ? কতসময় ধরে ওয়েট করতেছি জানো ? আমার কি টেনশন হয়না ?

: টেনশন কেন ? আর ফোনে টাকা নেই ।

: ফোনে টাকা নেই এটা এখন কেন বলো ? বিকেলে যখন দেখা হইছে তখন বললা না কেন ?

: বললে কি করতে ?

: কি করতাম মানে ? উল্টাপাল্টা কথা বলতেছ কেন ?

: এত রাত হইছে ঘুমাওনি কেন ?

: আপনার সাথে কথা না বলে কি আমি গত তিন বছরে একবারও ঘুমিয়েছি ?
এই তুমি কোথায় ? তোমার পাশে গাড়ির আওয়াজ কেন ?

: বাইরে ।

: বাইরে মানে !!!!!!!

: বাইরে মানে নীলক্ষেতে ।

: এত রাতে তুমি নিলক্ষেতে কি করো ?

: ভালো লাগছিলো না তাই হাটতে হাটতে চলে এলাম ।

: হাটতে হাটতে !!!!!!!!!! এতদূর থেকে কিভাবে হেটে গেছ ? কি হইছে তোমার ? ভালো লাগছিলো না আমাকে বলতে, আমি সময় দিতাম, ফোনে কথা বলতাম, তাই বলে তুমি এত রাতে বাইরে যাবে ? এই তুমি খেয়ে বের হইছিলা ?

: না খেতে ইচ্ছা করছিলো না ।

: খেতে ইচ্ছে করছিল না মানে ? একটা চড় মারবো ফাজিল পোলা । নীলক্ষেতে হোটেল খোলা আছে না ?

: হুম ।

: যাও এখুনি খেয়ে নাও । খাওয়া শেষ করে আমাকে ফোন দিবা । ও তোমার ফোনে তো টাকা নেই, আমিই ফোন দিব ৩০ মিনিট পরে । যাও তারাতারি খেয়ে নাও । তোমার সাথে ঝগড়া আছে আমার ।

: পাগলী একটা, ফোন রাখো ।

পুশনের সাথে পরিচয় হয়েছিল বছর তিনেক আগে । এক মাসের মাথায়ই ভালবাসার শুরু । অসম্ভব ভালবাসে দুজন দুজনকে । কিন্তু কিছুদিন ধরে মানসিক অস্থিরতার কারনে নেহাল পুশনকে একটু এড়িয়ে চলছে । এটা নিয়ে পুশন নেহালের উপড় ভীষন ক্ষেপে আছে ।

মোবাইল পকেটে রেখে হোটেলে প্রবেশের জন্য রাস্তা পার হতে শুরু করে নেহাল, হঠাৎ দ্রুতগতির একটা মাইক্রো এসে ধাক্কা দেয় নেহালকে । ছিটকে দূরে গিয়ে পরে নেহাল । দোকানের লোকেরা ছুটে গিয়ে নেহালকে নিয়ে হাসপাতালের দিকে যেতে থাকে । তখনো বেচে আছে নেহাল । নেহালের চোখের সামনে ভেসে আসতে থাকে বাবা, মা, বোনের ছবি । মনে পড়তে থাকে পুশনের সাথে মধুর ঝগড়াগুলো । ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পরে নেহালের শরীর । তারপর হারিয়ে যায়.........
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মতামত পোস্ট: ২২ সালে লিখেছিলাম: যে শঙ্কা ছিলো তা আজকের বাস্তবতা

লিখেছেন অর্ক, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৩১



আমাদের কওমি জননী সত্যি কি অসাম্প্রদায়িক? হলে কতোটা? প্রশ্ন থাকলো সবার কাছে। তেতুল হুজুর মাওলানা শফি খুব ভক্তিভরে তাকে কওমি জননী উপাধি দিয়েছিলেন। এমনি এমনি তো আর নয়। অত্যন্ত মহব্বত... ...বাকিটুকু পড়ুন

"রিকন্সিলিয়েশান"....ইহা কি খায় নাকি মাথায় দেয়?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



সত্যি সত্যিই তাদের সুযোগ ছিলো ২৫ শে মার্চ এর পর যাবতীয় অপকর্ম জনগণের কাছে স্বীকার পূর্বক,
/মুক্তিযুদ্ধে তাদের দ্বারা নৃশংসতার শিকার জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা,
/তাদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে এবং,
/সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেরা লেখক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৭



বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো লেখক এক কথায় - হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস মধ্যাহ্ন বা দেয়াল - এর পাশাপাশি রাখার মতো বাংলাদেশে আর কোনো উপন্যাস আছে কিনা আমার জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ডায়াটে একদিনের খাবার=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১

ডায়াটের প্রথম দিকে-একদিনের খাবার। বর্তমানে আমাদের দেহে রোগসুগের অভাব নাই। ডায়াবেটিস, প্রেসার, ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ বলা নাই কওয়া নাই শরীরে এসে বাসা বাঁধে।

আর এসব রোগের একমাত্র কারণ আনহেলদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×