somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জাহাজী জীবনের গল্প (2), সাইপ্রাসের লারনাকা

২৬ শে মে, ২০০৬ দুপুর ১২:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দ'ুদিন পর কোন এক বিষন্ন ভোরে জাহাজ থামল লারনাকায়। আমার ডিউটি ছিলনা, কান্ত শরীরে কেবিনে ঘুমে মগ্ন। বাইরে অন্য খালাসীদের হাকডাকে ঘুম ভাংল। দ্রুত বাইরে এসে দাঁড়ালাম। সামান্য ঝিরঝিরে বৃষ্টি লারনাকার আকাশ থেকে ঝড়ে পড়ছে মাটিতে, সমুদ্রের নোনা জলে।

সমুদ্র পাড়ের এক অপুর্বসুন্দর শহর লারনাকা। সাইপ্রাস নিয়ে গ্রীস আর তুরস্কের টানাহেচড়া কাস্মীর সমস্যার কথা মনে পড়িয়ে দেয়। দু'দেশের নিয়ন্ত্রণে দুটো অংশ। লারনাকা গ্রীস-নিয়ন্ত্রিত অংশের রাজধানী। খ্রিীষ্টপুর্ব তেরোশ শতাব্দীতে এই শহর প্রতিষ্ঠা করা হয়। খ্রীষ্টজস্মেরও আগের বিখ্যাত চিন্তাবিদ সেনন এই শহরেরই বাস করতেন। তখন এ শহরের নাম ছিল কিটিয়ন।

লারনাকা ভালো করে দেখা হয়নি। এর মাঝেই কিছুটা পরিবর্তন এসেছে আমার কাজের ধারায়। যান্ত্রিক বিষয়গুলো নিয়ে আমার জানাশোনা আছে বলে আমাকে মেশিরঘরে কাজ দেয়া হলো। দুপুর বারোটা থেকে বিকেল চারটে ও রাত বারোটা থেকে সকাল চারটে অবধি আমার কাজের সময়। এ সময়টায় মেশিনরুমে থাকা ও মেশিনের তদারকি আমার দ্বায়িত্ব। একনর ইনজিনীয়ার একই সময়ে দ্বায়িত্বে থাকবেন। তবে তার সময় কাটে অফিসার্স রুমে ঘুমিয়ে বসেই। দরকারে একবার দুবার নীচে নেমে আসেন।

সকালে নাস্তা ছেড়ে বন্ধুকে সাথে নিয়ে শহরের কেন্দ্রে ছুটলাম। সামান্য ঘুরে এক কফিশপে বসলাম দুজনে। এই কফিশপেই প্রেমিক প্রেমিকার প্রকাশ্য চুম্বন চোখে পড়ল। লজ্জা পেলাম, অবাকও হলাম বেশ। পুরোরো ঐতিহ্যের ছড়ানো ছিটানো শহর এই লারনাকা। অনেক কিছু দেখার ইচ্ছে হলেও জাহাজে ফিরে আসতে হলো। আমরা তো আর ট্যুরিস্ট নই, এখন খেটে খাওয়া মানুষ।

আমাদের সম্পর্কে কিছু বলা দরকার বলে মনে করছি। দুজনই সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে বেরিয়েছি। আমার সঙ্গী আসলে আমার এক বন্ধুর বড় ভাই। ওনি পড়াশোনার সাথে সাথে সাংবাদিকতাও করেছেন। দেশ থেকে বেরিয়েছিলাম চারজন। উদ্দেশ্য দেশ দেখা ও উচ্চশিক্ষা। তার প্রস্তুিত হিসেবেই জাহাজে এই কাজ। এ অবধি আসতে অনেক চড়াই উৎরাই পেরোতে হয়েছে। ইস্তাম্বুলে এসে আলাদা হতে হয়েছে আমাদের আর্থিক কারনে। একজন জাহাজে যোগ দিয়েছে আগেই, আরেকজন ফিরে গেছে তখনকার শাহ্ এর দেশ ইরানে। আমরা দ'জন ইস্তাম্বুলে হাড়ভাঙ্গা খাটুনীতে রসদ জোগাড়ের পর জাহাজে। জাহাজে যা রসদ জোগাড় তা পরে লাগবে পড়াশোনার কাজে।

জাহাজ সম্পর্কেও আরো কিছু বলা দরকার। আগেই বলেছি, ছাবি্বশ বছরের পুরানো। তিনটে জেনারেটারের দুটোই সবসময় বিকল। মেশিন ডিজেল চালিত। প্রায়ই নানা ধরণের গড়বড় দেখা যায়। মাল তোলা ও খালাসের জন্যে বাস্পচালিত ক্রেন রয়েছে। তবে আধুনিক বন্দরগুলোতে বন্দরেরই ইলেকট্রিক ক্রেন ব্যাবহার করা হয়। বাস্পচালিত ক্রেন ব্যাবহার করা অনেক গরুরগাড়ী টানার সমতুল্য। কাহিনী বর্ননায় এর কথা পরে আসবে। জাহাজের ত্রু-সংখ্যা বাইশজন। এদের মাঝে সাতজন অফিসার। এদের ছ'জনই গ্রীক, একজন ইথিওপিয়ান। সাধারন খেটে খাওয়াদের মাঝে আমরা দু'জন বাংলাদেশী বাদে অন্যরা সোমালিয়া, ইজিপ্ট, নাইজেরিয়া ও ঘানার লোক।

লারনাকায় পোর্টের ক্রেন দিয়েই সিমেন্ট তোলা হল। কাল সকালেই আমাদের রওয়ানা হতে হবে গ্রীসে পেরিয়াসে। জাহাজের দোলুনীর কথা ভাবলেই জ্বর আসে শরীরে। অন্যরা দুধ চিনি ছাড়া কালো কফি খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এমনিতেই গ্রীক কফি বেশ কড়া। এর মাঝে দুধ চিনি বাদ দিলে তো বিষময় এর স্বাদ! তারপরেও চালাতে হবে। সামনের ভাল দিনের আশায় রাত বারোটায় আবার গিয়ে ঢুকলাম মেশিনরুমে।

চলবে......
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

লেখালিখি হতে পারে আপনার বিক্ষিপ্ত মনকে শান্ত করার খোরাক।

লিখেছেন মাধুকরী মৃণ্ময়, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:২৯

এই যেমন আমি এখন লিখতে বসছি। সর্বশেষ লিখেছি ২০২১ সালে জুলাই এর দিকে। লিখতে গিয়ে আকাশে বাতাসে তাকাচ্ছি, শব্দ, বিষয় খুজছি। কিন্তু পাচ্ছি না। পাচ্ছি যে না , সেইটাই লিখছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ২:৩৩


নট আউট নোমান ইউটিউব চ্যানেলের ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান ভাই একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক। বাংলাদেশে এখন আমরা এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে বাস করছি যেখানে প্রকৃত দেশপ্রেমিক আর ভুয়া দেশপ্রেমিকের পার্থক্য করা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রফিকুল ইসলামের ২য় বিয়ে করার যুক্তি প্রসঙ্গে chatgpt-কে জিজ্ঞেস করে যা পেলাম...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৭ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



ইসলামে একাধিক বিয়ে বৈধ, তবে সেটা বড় দায়িত্বের বিষয়। শুধু “বৈধ” হলেই কোনো সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তম বা সবার জন্য উপযুক্ত হয়ে যায় না। Qur'an-এ বহু বিবাহের অনুমতির সাথে ন্যায়বিচারের শর্তও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×