somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভ্রমন: মিটেনওয়াল্ড থেকে ইন্সব্রুক, সবচে' সুন্দর পথ

২৯ শে মে, ২০০৬ সকাল ১১:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জার্মানীর মিটেনওয়াল্ড থেকে অষ্টিয়া ইন্সব্রুক অবধি যে পথটি গিয়েছে, তার সৌন্দর্য অনেকসময় কল্পনার চোখেও ধরা পড়ে না। প্রায় আশি কিলোমিটার এই পথের বাদিকে খাড়া পাহাড় ও ডানে প্রায় দেড় হাজার মিটার নীচে ছোট ছোট শহর । ডানদিকে আরো তিন-চার কিলোমিটার পরেই সেদিকেও উচু হয়ে উঠে গেছে আরো ক'টি পাহাড়। নীচে ইন নদী একে বেঁকে। নদীর পাশেই হাইওয়ে ও আরেকটু দুরেই ট্রেনলাইন। উপর থেকে গাড়ী ও ট্রেনকে খেলনার মতো মনে হয়।

অর্ধেক পথ আসার পরই বিপদজনক একটি বাঁক নেমে গেছে নীচের দিকে। সেখানে বাঁদিকে আরো একটি বাঁক নেবার পরই আমার সবচেয়ে প্রিয় রেষ্টুরেন্ট রাস্তার ডানদিকে। বাইরে থেকে দেখলে সাধারন ট্রা্যকারদের বিশ্রামের জায়গা বলেই মনে হয়। খাবার দাবারও ভালো নয় তেমন। তবে আমার কাছে সবচেয়ে আকর্ষনীয় হচ্ছে রেস্টুরেন্টের ডানদিকে জানালায় বসার পর বাইরের দৃশ্য। খাবার বা পানীয়ের মান আরো খারাপ হলেও আমার কোন আপত্তি থাকবে না। গরমের সময় উপরের ছাদে বসার ব্যাবস্থা করা হয়। তখন আরো ভালো লাগে। কোন কোন মেঘলা দিনে দেখা যায় ইন নদীর উপর রৌদ্র মেঘের লুকোচুরি। নদীর বাঁকের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেঁকে যাওয়া মেঘ মুহুর্তেই মিলিয়ে যায় রোদের আলোয়, পরমুহুর্তেই মেঘ রোদ সরিয়ে তার জায়গা খুঁজে নেয়। প্রকৃতির এই শিল্পময় লীলাখেলা যে কোন নাটকের পাত্রপাত্রীকে হার মানাতে সক্ষম। রাস্তাটি শেষ হবার পর সমতলে নেমেই ইন্সব্রুক শহর।

একবার ইন্সব্রুকে না গিয়ে ডাদিকে পাহাড়গুলো আরো কাছ থেকে দেখতে চাইলাম। ভ্যালি পেরিয়ে পাহাড়গুলোর কাছাকাছি আসতেই একটা স্রোতস্বিনী খাল দেখতে পেলাম। পাহাড় থেকে নেমে আসছে দূরন্ত গতিতে। খাল বা একে ঝর্ণাও বলা যেতে পারে। খালের বাদিক ঘেসে একটা রাস্তা। সেই রাস্তা ধরে গাড়ী ছুটালাম। প্রায় দশ কিলোমিটার খালের পাশাপাশি যাবার পর একটা গ্রামে এসে খালটি উঠে গেল আরো খাড়া বাদিকের এক পাহাড়ে। মুল রাস্তা থেকে আরেকটি ছোট রাস্তা উঠেছে সেদিকে। আমি বাঁদিকেই চালালাম গাড়ী। প্রায় এক কিলোমিটার আসার পর একটু বাঁয়ে বেকে সোজা। খালের নিশানা ডানদিকে আরো খাড়া এক পাহাড়ে। হতাশ হলাম বেশ। গাড়ী থামিয়ে বাইরে এসে ঝর্ণাধারার কাছে বিদায় চাইতে গেলাম। হতাশা আনন্দে পরিনত হতে সময় লাগলো না। ছোট এক ব্রীজের উপর দিয়ে একটি পাথুরে পথ উঠে গেছে খালের ডানদিক ঘেসে। জার্মানীতে এসব রাস্তায় গাড়ী নিয়ে ওঠা নিষেধ। এখানে কোন নিষেধাজ্ঞা দেখতে পেলাম না। গাড়ী ঘুরিয়ে তাই রওয়ানা হলাম এই পাথর বিছানো পথেই।

গাড়ীর আওয়াজ ছাপিয়ে শুনতে পেলাম ঝর্ণার ঝমঝম আওয়াজ। পাথরের কণায় পিছলে যাচ্ছিল গাড়ীর চাকা। সঙ্গীরা ভয় পেল বেশ। আমি সাবধান হলাম। উল্টো দিক থেকে আরেকটা গাড়ী নামতে দেখে সাহস বাড়ল আরো। প্রায় পাঁচ কিলোমিটারের মতো আকানো বাকানো পথ বেয়ে খাড়া উপরে উঠে এলাম। পাশাপশি দেখছি ঝর্ণার জলধারা, শুনতে পাচ্ছি জলপ্রপাতের শব্দ কখনো জোরে, কখনো আস্তে। এবার শেষ হলো পথ। কিন্তু ঝর্ণার উৎপত্তি দেখা হলো না। উৎপত্তি আরো উঁচুতে বরফসাদা চুড়োয়। পথের শেষেই একটি রেষ্টুরেন্ট। তার বারান্দায় পাহাড়ের দিকে মুখ করে বসে কফিতে কান্তি নিবারণ হলো আমাদের। তারপর ঝর্ণার আশেপাশে ঘুরে ফিরে সময় কাটিয়ে ফেরৎ পথ ধরলাম। ফেরৎ পথের বর্ণনা পরের অধ্যায়ের জন্যে রইল।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন ভালো না

লিখেছেন সামিয়া, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৭



চোরাবালির মতো টেনে ধরা নিঃশব্দ বিকেলে,
অদৃশ্য কিছু হাত ছুঁয়ে যায় ভাঙা স্মৃতির ধূলি,
বেঁচে আছি এইটুক স্বীকারোক্তি,
তোমারে দেখিনা বহুদিন, তবু রয়ে যাও ভীষণ ভুলই।

সমুদ্র ডাকে দূর থেকে নোনা হাওয়ার ভাষায়,
অপেক্ষারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

লেখালিখি হতে পারে আপনার বিক্ষিপ্ত মনকে শান্ত করার খোরাক।

লিখেছেন মাধুকরী মৃণ্ময়, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:২৯

এই যেমন আমি এখন লিখতে বসছি। সর্বশেষ লিখেছি ২০২১ সালে জুলাই এর দিকে। লিখতে গিয়ে আকাশে বাতাসে তাকাচ্ছি, শব্দ, বিষয় খুজছি। কিন্তু পাচ্ছি না। পাচ্ছি যে না , সেইটাই লিখছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ২:৩৩


নট আউট নোমান ইউটিউব চ্যানেলের ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান ভাই একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক। বাংলাদেশে এখন আমরা এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে বাস করছি যেখানে প্রকৃত দেশপ্রেমিক আর ভুয়া দেশপ্রেমিকের পার্থক্য করা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×