একটা বস্তুতে গতি সঞ্চারণ করা হলে, সে সেই গতিবেগে অসীম সময়ে চলতে থাকবে।
তারপরেও থেমে পড়ে সে বস্তু একসময়। কেন ? কারন একটাই, ফ্রিকশন। ফ্রিকশানের কারনেই থেমে যায় বস্তুটি।
তারপরও কি সুত্রটি বাতিল হয়ে গেল ? না, এ সুত্র বাতিল হতে পারে না।
স্বাধীনতার সংজ্ঞাও একই কারনেও বাতিল নয়।
তারপরও মানুষ তার স্বাধীনতাকে ব্যাহত করতে বাধ্য হয়। সেখনেও একটিই কারণ। ফ্রিকশান। সে ফ্রিকশান তৈরী হতে পারে প্রাকৃতিক কারনে, দুজন নারী পুরুষের একসাথে জীবন পথে যাবার কমিটমেন্টের কারনে, পারিপার্শিকতা, সমাজ ও রাষ্ট্রবদ্ধতার কারনে। অনেক অনেক কারন থাকতে পারে। এ ফ্রিকশান নিজ থেকেই তৈরী হয়। এর কোন প্রতিরোধ নেই।
তারপরও নিউটনের সুত্রের মতোই স্বাধীনতার সংজ্ঞা পাল্টানো যায়না।
এই স্বাভাবিক নিয়মে আসা ফ্রিকশান এর সাথে সাথে কিছু কিছু ফ্রিকশান নিজে থেকে তৈরী করা হয়। কাদের জন্যে ? একটি উদাহরণ শিশুদের জন্যে। হামাগুড়ি দিয়ে কোন শিশু বিছানার প্রান্তে এলে তাকে সবিয়ে দেয়া হয়। কারন ? সে শিশুর যতটুকু স্বাধীনতাবোধ তৈরী হয়েছে, তার প্রতি আমাদের আস্থাহীনতা। এ আস্থাহীনতা যুক্তিবহির্ভূত নয়। আরেকটি উদাহরণ: অপরাধী, তাদেরকে জেলে ঢোকানো হয়। কারণ, একই- তাদের স্বাধীনতাবোধের প্রতি আস্থাহীনতা। এরাও এদের স্বাধীনতাকে ভোগ করতে শেখেনি। শিশুদের বেলায় তা তার নিজেদের জন্যে তির কারণ হয়ে দাড়ায়, অপরাধীদের বেলায় অন্যদের জন্যে। আরো অনেক উদাহরণ থাকতে পারে।
নারীদের বেলায় ফ্রিকশান কেন তৈরী করা হয়? তারা কি শিশুদের মতো অবোধ নাকি একজন অপরাধীর মতো সমাজের ক্ষতির কারণ ? যদি তা না হয়, কেন এই কৃত্রিম ফ্রিকশান। আমাদের সমাজে এই তৈরী করা ফ্রিকশানের পরিমান ভয়াবহ ভাবে বেশী ও যে পোষ্ট নিয়ে আমার এত আপত্তি, তারাই একে আরো বেশী ভয়াবহ করে তোলেন।
একজন নারী ছেলেমেয়ে মানুষ করবেন না বাইরের পেশা বেছে নেবেন, তা নির্ভর করবে কার নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও পারিপার্শিকতার উপর, তা বাইরের কেউ ঠিক করে দেয়ার অধিকার রাখে না। তিনি হিজাব পড়বেন কি পড়বেন না, সে সিদ্ধান্তও তার নিজের। তিনি শিশু নন। অপরাধীও তিনি নন। তাহলে কোন যুক্তিতে খর্ব করা হবে তার অধিকার ?
একজন পরিনত ও সুস্থমস্তিস্কের মানুষের জন্যে তার প্রাপ্য স্বাধীনতার অধিকার সার্বজনীন। সেখানে দ্বিতীয় কোন প্রশ্নই উঠতে পারে না। যেহেতু মানুষটি পরিনত ও সুস্থমস্তিস্কের, তিনি নিজেই তার স্বাধীনতার সীমা নির্ধারন করবেন। সেখানে যদি কোন সমস্যা হয়, তার কারন আমরা, আমাদের সমাজব্যাবস্থা ও আমাদের রাষ্ট্রনীতি ও আমাদের ধর্ম। পরিবর্তন আনতে হবে সেখানেই। সে মানুষটিকে কারণ হিসেবে দেখা যেতে পারে না। আমাদের সমাজ সেই ভুলটিই করছে প্রতিনিয়ত।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

