somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভ্রমন: ক্রোয়াশিয়ায় সমুদ্রউপকুল ও অষ্ট্রিয়ায় ইউরোপের সবের্াচ্চ পথ

১৩ ই জুন, ২০০৬ বিকাল ৩:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ক্রোয়াশিয়ায় বেড়াতে গিয়েছিলাম গত বছর সামারে। জার্মানী থেকে অস্ট্রিয়া, ইতালী, স্লোভেনিয়া হয়ে যেতে হয়। ওখানে উমাগ নামে একটি ছোট শহর আছে আড্রিয়াটিক সাগরের পারে। ছোট্ট একটি বাংলো ভাড়া করেছিলাম এক সপ্তাহের জন্যে সমুদ্রের ধারেই। আমাদের বাংলোর সামনে বিশাল এক শষ্যক্ষেত, ডানদিকে সমুদ্র। যারা বাংলোগুলো ভাড়া দিয়ে থাকেন, তাদেরই রেষ্টুরেন্টে সকালের নাস্তা ও রাতের খাবারের ব্যবস্থা ছিল।

কয়েকটি দিন সাঁতার কেটে ও আশেপাশের নৈসর্গিকতা উপভোগ করে কাটালাম। সৌন্দর্যের অফুরন্ত ভান্ডার ক্রোয়াশিয়ার এই উপকুল ভাগ। সার্বিয়া থেকে আলাদা হবার পর দনি পুর্ব বিস্তারি সমুদ্রের পুরো সৈকতই ওদের দখলে। তবে বেশীরভাগই পাথুরে সৈকত। পানিতে নামতে গেলে বেশ সাবধানে নামতে হয়। ট্যুরিস্ট সেন্টার ও ক্যম্পিং এলাকার ছড়াছড়ি। ইটালীর প্রভাব দেখা যায় বেশ। বাড়ীঘরের চেহারাও ইটালীয়ান ধাঁচে। ঢোকার আগে প্রতিটি শহরের নাম ইটালীয়ান ও ক্রোয়াশিয়ান ভাষায় লেখা। কোন কোন শহরের নাম দুই ভাষায় এক হলেও দু'বার লেখা রয়েছে। প্রথম বুঝতে পারিনি। যেমন একটি শহরের নাম পুলা, কিন্তু শহরে ঢোকার সময় পুলা পুলা লেখা দেখে ভেবেছিলাম এটাই শহরটির নাম।

যুগোস্লাভিয়া সময়ে এ এলাকাটি ছিল ধনী ইউরোপীয়ান দেশগুলো মধ্যবিত্তদের অবকাশ যাপনের স্থান। ইটালী ও ফ্রান্সের তুলনায় এখানে বেড়ানো ছিল তুলনামূলক ভাবে অনেক অনেক সস্তা। একধরনের ট্যুরিজম-উপনিবেশ ছিল এ এলাকাটি - বিশেষ করে জার্মানদের জন্যে। এখন আর সে অবস্থা নেই। সেজন্যে জার্মানরা এখনও আফসোস করে।

ফেরার সময় সোজাপথে না এসে অষ্ট্রিায়ায় পাহাডী ঘুরপথ বেছে নিলাম। হঠাৎই লেখা দেখলাম ইওরোপের সবচে উঁচু পথ সামনে। আমিও সেদিকেই গাড়ী ছোটালাম। 2800 মিটার উঁচু। নিয়ে যায় ওটসতালার গ্লেচারএ। গ্লেচারের ইংরেজী প্রতিশব্দ জানামতে একই। বাংলায় বলতে গেলে বলতে হয়, গ্লেচার এক চির বরফের স্থান, বারো মাসই বরফে ঢাকা । সাপের মতো অাঁকাবাঁকা রাস্তায় চালাতে চালাতে কতোক্ষনের মাঝেই সামার পাল্টে যেন শীত চলে এলো। গাড়ী থেকে বাইরে বেরুনোর আগে গরম কাপড় পড়ে নিতে হলো। মনে হল পৃথিবী ছাড়িয়ে অন্য কোথাও চলে এসেছি আমরা। আশে পাশের অন্য পাহাড়ও উপর থেকে দেখতে পাচ্ছি। পাহাড়ের চুড়োয় বরফের সফেদ টুপি। মনে হল যেন মেঘের উপর দাঁড়িয়ে আছি । শরীরটাকে বেশ হালকা মনে হলো। বরফ গলা জলের ঝির ঝির শব্দ পাহাড়ের কোনায় কোনায়। পাহাড়ের খাদে ঘিরে বিশাল দেয়াল। সেখানে বরফ গলা জলকে জমিয়ে রাখার জন্যে এক বিশাল জলাধার তৈরী করা হয়েছে। প্রয়োজনঅনুযায়ী বিভিন্ন শহরগুলোতে সরবরাহ করা হয়।

চড়াই উৎরাই পেরিয়ে খানিক নামার পরও গ্রীস্ম ফিরে এলো আবার। আমরা তখন ফিরতি পথে, আমাদের শহর মিউনিখে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আমার মন খারাপ, ফুল দিয়ো=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৮



অকারণে মন ভালো না আজ
তুমি কোথায়?
এসো এক গুচ্ছ রঙ্গন নিয়ে
বাঁধো আমায় ভালোবাসার সুতায়।

অকারণে ভালো লাগে না কিছু;
তুমি কই গেলে?
রক্ত রঙ ফুল নিয়ে এসো;
উড়ো এসে মন আকাশে - প্রেমের ডানা মেলে।

কী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায় দূরে থেকে....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫


সূর্যমুখী
অন্যান্য ও আঞ্চলিক নাম : রাধাপদ্ম, সুরজমুখী (হিন্দি)
সংস্কৃত নাম : আদিত্যভক্তা, সূর্যকান্তি, সূর্যকান্তিপুষ্প
Common Name : Sunflower, Common sunflower
Scientific Name : Helianthus annuus

সূর্যমুখী একটি বর্ষজীবী ফুলগাছ। সূর্যমুখীকে শুধু ফুলগাছ বলাটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে

লিখেছেন আরোগ্য, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:২১

গতবছর এই মে মাসের ১৭ তারিখেই আমার চোখের প্রশান্তি, আমার কর্মের স্পৃহা, আমার জননী এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ও আমাদের কাছ থেকে মহান রব্বের ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমান। আব্বু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইচ্ছে করে

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

ইচ্ছে করে ডিগবাজি খাই,
তিড়িং বিড়িং লাফাই।
কুমারী দীঘির কোমল জলে
ইচ্ছে মতো ঝাপাই।

রাস্তার মোড়ে সানগ্লাস পরে
সূর্যের দিকে তাকাই,
সেকান্দর স্টোর স্প্রাইট কিনে
দুই-তিনেক ঝাঁকাই।

ঝালমুড়িতে লঙ্কা ডাবল,
চোখ কচলানো ঝাঁঝে,
ছাদের কোণে যাহাই ঘটুক,
বিকেল চারটা বাজে।

ওসবে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !... ...বাকিটুকু পড়ুন

×