কোন কোন ফ্যানগ্রুপ সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেন। যেমন কোন রাজনৈতিক দল বা বিশেষ ধর্মের প্রতি অন্ধ আনুগত্য। যেহেতু এসব ফ্যানরা তাদের চিন্তা অন্যদের সবরকম যুক্তি তর্ক, বোধকে অগ্রাহ্য করে প্রতিষ্ঠিত করতে চান, উগ্রতাই তাদের একমাত্র হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়। এদেরকে ফ্যানাটিক বলা যেতে পারে। এদের প্রভাবে সমাজের ভেতরে সুবোধ চিন্তার ভারসাম্য নষ্ট হয়। ভিন্নচিন্তার মানুষের আত্মার ভেতরেও যে স্বকীয় বৈষিষ্টে বৈচিত্রময় সামাজিক চিন্তাধারা, তার পরিস্ফুটন এই সামাজিক প্রভাবে ঘটে না আর। ধর্ম ও রাজনৈতিক উস্মাদনায় পরিচালিত সামাজিক নিষ্পেষনে অংকুরেই বিলুপ্তি ঘটে তার।
অন্যান্য ফ্যানগ্রুপ মাঝে মাঝে নেতিবাচক প্রভাব ফেললেও তার ক্ষতিকারক দিকগুলো এতটা প্রকট নয়। কিছু কিছু ফুটবল ফ্যানের কারনে সংঘর্ষের সৃষ্টি হলেও তার স্থায়িত্ব একটা বিশেষ সময় ও পরিধির মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে। মিউজিক, শিল্প, থিয়েটার, ফিল্ম ও টেলিভিশন এর যারা ফ্যান, তারা তাদের উস্মাদনা সাধারনত: নিজেদের মাঝেই সীমাবদ্ধ রাখেন।
তারপরেও ফ্যান থাকবে, তাদের ভালোলাগার বৈপরিত্বও থাকবে। প্রতিদিনের গৎবাঁধা জীবনে প্রতিটি মানুষেরই উচ্ছাস প্রকাশের একটা ক্ষেত্র দরকার। কোন গোষ্টিবদ্ধতাকে আকড়ে ধরে এর প্রকাশ আরো বেশী নিবিড়ভাবে ঘটে। বদ্ধ পুকুরে আগাছা জস্মায় দ্রুত। সময়ে সময়ে স্রোতের বারে ভাসিয়ে নিতে হয় সে আগাছাকে। না হলে বাতাস ভারী হয়, নি:স্বাস নেয়া তখন অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।
আমি নিজেও মুক্ত নই এর প্রভাব থেকে। ফুটবল বিশ্বকাপে আমি এশিয়া ও আফ্রিকার গরীব ও দুর্বল দলগুলোর সমর্থক। তারা বাদ পড়ার পর আসে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার কথা। ইউরোপীয়ান প্রতিষ্ঠিত দলগুলোকে কখনোই সমর্থন করতে পারি না। তবে ইংল্যান্ড ও জার্মানীর প্রতি আমার সবচে' বেশী অপছন্দ। অর্থাৎ আমি এ দুটো দলের এন্টি ফ্যান। আমার বউ, ছেলে ও অনেক ঘনিষ্ট বন্ধুবান্ধব জার্মান দলের সমর্থক। জানি জার্মান দল হারলে তারা কষ্ট পাবে বেশ। আমি ইটালীর সমর্থকও না। তারপরেও কাল অনেক চেষ্টা করেও নিজের ভেতরে জার্মান দলের প্রতি সমর্থন আনতে পারলাম না। আমাদের এই অনুভুতিগুলোর কাছে আমরা এত বেশী শক্তিহীন কেন ?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




