একটি দেশের রাষ্ট্রনৈতিক কাঠামোতে গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রয়োগ যখন ব্যার্থ হয়, তখন সে দেশে 'মার্শাল ল' বা একনায়কতন্ত্রী শাসনব্যাবস্থা ঘাটি গেড়ে বসতে পারে। সংসদীয় আইন কানুন বাতিল হয়ে যায়, কোন মানবিক বা রাজনৈতিক অধিকারের তোয়াক্কা না করেই কঠিন হাতে আভ্যন্তরিন অরাজকতাকে দুর করার চেষ্টা করা হয়। লোকজনের মনে সামান্য সময়ের জন্যে হলেও স্বস্তি ফিরে আসে। এটা বাইরের চেহারা মাত্র। পরিনামে একটি বিরাট তির মুখোমুখি পড়ে দেশটি। বিশ্বাসযোগ্যতা কমে যায় সে দেশের। কুটনৈতিক ও বৈদেশিক বানিজ্য অন্যান্য নানাবিধ সম্পর্কে টানাপোড়ন শুরু হয়। অন্যান্য দেশগুলোর সাথে পারস্পরিক সম্পর্কে ভাটা পড়ে। বিশ্বের কাছে সে দেশের মর্যাদা কমে যায়।
আমাদের দেশের আভ্যন্তরিন আইন কানুন ব্যর্থ হবার কারনেই মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে সন্ত্রাসীরা। আর ব্যর্থ হবার প্রধার কারণ হচ্ছেন আমাদের রাজনীতিকগন। এরা সৎ নন। দেশের বড় বড় মতাধর রাজনীতিকরাই এ সব সন্ত্রাসীদের লালন পালন করে থাকেন। এদেরকে ব্যাবহার করেই তারা তাদের রাজনৈতিক উচ্চাশা পুরণ করেন ও সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলেন। তারাই আবার জনগনের সামনে রকের ভুমিকা পালন করতে চান। র্যবের মতো সংস্থা গঠন করেন সন্ত্রাসী দমনের মানসে। এ সংস্থার হাতে জাতীয় পদক তুলে দিতেও দ্বিধা বোধ করেন না।
র্যাব কোন রকম গনতান্ত্রিক অধিকারের ধার না ধেরে একতরফাভাবে সন্ত্রাসীদের ক্রশফায়ারের দোহাইএ হত্যা করে। এ হত্যা আভ্যন্তরীন ও আন্তজর্াতিক রীতিনীতির পরিপন্থি হলেও দেশের মানুষ হাঁফ ছেড়ে বাঁচছে। প্রতিটি পদেেপই সন্ত্রাস আর অরাজকতার কবলে পড়ে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। তারা নিরুপায় হয়েই র্যাবের এই মানবতা বিরোধী কার্যক্রমে সমর্থন দিতে বাধ্য হচ্ছে। বিদেশে এ নিয়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে, মানবতাবাদী সংস্থাগুলো বাংলাদেশকে মানবতালঙ্ঘনকারী দেশ হিসেবে সামনের কাতারে দাড় করিয়েছে। দেশের ভাবমুর্তি নষ্ট হচ্ছে সারা পৃথিবীর সামনে। এসব দিকে নজর দেয়ার উপায় স্বাভাবিকভাবেই দেশের সাধারণ মানুষের নেই।
এমন একটি দেশের মানুষ হিসেবে আমরা তাহলে কোথায় ? অন্যায়কে অন্যায় জেনেও আমরা তাকে সমর্থন দিতে বাধ্য হচ্ছি। আমাদের বিবেকবোধের সঠিক ব্যাবহার আমরা করতে পারছি না। এটা আমাদের আত্মার অবয় নয় ? কাদের পাশার গুটি আমরা ? আর কতদিন এভাবে চলবে ? নাকি আমরা নিজেরাই ন্যায় অন্যায়ের বিচারবোধ হারিয়ে ফেলেছি ? এ প্রশ্নগুলোর সামনে দাঁড়ালে নিজেকে বড় অসহায় মনে হয়। এ দেশের মানুষ হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সাহস আর হয়না।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




