somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শিশুশিক্ষা: বেত্রাঘাতে হাতের পাতা রক্তলাল

১১ ই জুলাই, ২০০৬ ভোর ৬:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছোট বেলায় অনেক মার খেয়েছি স্কুলে। দুষ্ট ছিলাম, মার খেতে তো হবেই। হাই স্কুলে পড়ার সময় সবচে ভয় পেতাম আমরা ইংরেজীর টিচার টাইগার স্যারকে। পড়া না পারলে বেতের ঘায়ে লাল হতো হাত আর পিঠ। অংক স্যার ছিলেন আরেক বিভীসিকা। মাঝের আঙ্গুল ও তর্জনী বাকা করে অদ্ভুত ভাবে পেটে চিমটি কাটার ষ্টাইল ছিল তার। ব্যথায় কুকড়ে যেতাম। ইতিহাস স্যার একবার ডাষ্টার ঠুকে একজনের মাথায় রক্ত বের করে দিয়েছিলেন। আরবী স্যার আমাদেরই এক গরীব বন্ধুকে তার বিভিন্ন জায়গায় সেলাই করা সার্টের জন্যে টিটকিরি দিতেন। অথচ বিভিন্ন জায়গায় সেলাই করা হলেও খুব পরিস্কারই থাকতো তার সার্ট।

তখন ভাবতাম এই শাস্তিই আসলেই প্রাপ্য। আমাদেরই দোষ, পড়া না পারলে বা দুষ্টুমি করলে টিচাররা তো মারবেনই। কিন্তু এখন অন্যরকম ভাবি। একজন কোমলমতি শিশুর শৈশবের নিদারুন ভার এই অত্যাচারগুলো। একটি শিশু বা বালকের কল্পনাশক্তি অনেক বেশী বিস্তারিত। এ বিস্তারিত চোখে সে পৃথিবীকে দেখবে, ভাববে, আরো নতুন ভাবনার মাঝে বিকশিত করবে নিজেকে। সেখানে তাদের সাথে সহযোগিতা না করে, তাদের খোলা প্রশ্নের কোন উত্তর না দিয়ে শারিরীক শাস্তির মাধ্যমে তাদেরকে পথে আনার চেষ্টা করা হয়। সেই সাথে মানসিকভাবে তাদেরকে অন্য ছাত্রদের সামনে ছোট করা হয়। এটা ছোট বেলায় মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিলাম, এখন বড় হয়ে তা করতে পারি না।

আজ পত্রিকায় পড়লাম, কোন এক মাদ্রাসায় এক বাংলার হুজুর ছাত্রদেরকে এক ভয়াবহ প্রক্রিয়ায় শাস্তি দিয়ে থাকেন। পড়া না পারলে প্রচন্ড বেত্রাঘাতের পর বাইরে থেকে বালি এনে ছাত্রদের কানে ডলা হয়। অনেকের কানে নাকি ঘা দেখা দিয়েছে একারণে। অভিবাবকদের অনেক অনুরোধেও হুজুর তার এই অত্যাচারের মাত্রা কমান নি। এমনকি ছাত্রীরাও তার এই অত্যাচারের হাত থেকে রেহাই পায়নি। অভিবাবকরা মাদ্রাসার সুপারের কাছে অভিযোগ করেও কোন ফল পাননি। এখন উপজেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ব্যবস্থা নেবেন বলে শোনা যাচ্ছে।

ইউরোপের দেশগুলোতে ছাত্রদের উপর মধ্যযুগীয় শারিরীক শাস্তি আইন করে নিষেধ করে দেয়া হয়েছে। এমনকি বাবা মা ও যদি শারিরীক অত্যাচার করেন, তার বিরুদ্ধে আইনসঙ্গত ব্যাবস্থা নেয়া যেতে পারে। দ্বিতীয়টি আমার কাছে একটু বাড়াবাড়ি মনে হলেও কোন কোন সময়ে প্রয়োজনীয় বলেই মনে হয়। তবে প্রথম আইনটি আমাদের দেশেও শর্তহীন ভাবে প্রতিষ্ঠিত করা অবশ্যই জরুরী।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শরীফ থেকে শরীফা ইস্যু কেন চাঙা হচ্ছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:১৭


দেশে ট্রান্সজেন্ডার ও সমকামী ইস্যু নিয়ে জল ঘোলা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমকামী ইস্যুতে একের পর এক বহিষ্কারের ঘটনার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে দুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্প - অভাগীর সুর ব্যঞ্জনা – পর্ব ১ -

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


শহরটা রাতে কখনও পুরো ঘুমোয় না। কেউ প্রেমে জাগে, কেউ স্বপ্নে, কেউ অপরাধবোধে।আর কেউ কেউ জেগে থাকে অভাবে। তিনতলার ছোট্ট ভাড়া-বাড়িটির জানালার পাশে বসে শিরীন হারমোনিয়ামের রিডে আঙুল রাখল।

বাইরে তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মদিনে তাহাদের জন্য শুভকামনা। আমার জন্মদিনের স্মৃতি...

লিখেছেন করুণাধারা, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬



একেকটা জন্মদিন পার করা মানে জীবন বইয়ের একেকটা পৃষ্ঠা পড়ে ফেলা, কয়েক বছর পরপর সেই বইয়ের একেক অধ্যায় শেষ হয়! বইটা ট্রাজেডি না কমেডি, একেবারে শেষ পর্যন্ত না পৌঁছালে তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুপ - একদম চুপ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



আমরা শুধু চুপ থাকবো -
আমাদের কথা বলার মুখ নেই
আমাদের দেখার মতো চোখ নেই
আমাদের শোনার মতো কান নেই
মনে হয়, মনে হয় -
আমাদের হাত-পাও নেই।

আমাদের বিবেক নেই
আমাদের চিন্তা-চেতনাও নেই
আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২





হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

...................................................................
মানচিত্রের আঁকাবাঁকা রেখায় তারে পাবেনা,
সে নদী তো চেনা কোনো ঠিকানায় যাবে না।
তার কোনো কূল নেই, নেই কোনো ঘাট,
সে বয়ে চলে একা, বুক জুড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×