somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমরা কি মধ্যযুগের চাইতেও পিছিয়ে আছি ?

১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৭ সকাল ১০:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অভিযোগ করার আগে অভিযুক্তকারীকে তা প্রমান সহ অভিযোগ দাঁড করাতে হয়। এটা তার আইনগত ও অভিযোগকারী যদি সৎ হন, তাহলে নৈতিক দ্বায়িত্বের পর্যায়ে পড়ে। তারপরই অভিযুক্তের ইচ্ছে ও দ্বায়িত্বের উপর নির্ভর করে, সে অভিযোগকে খন্ডন করার।

আমাদের বাঙ্গালীদের সেসব বালাই নেই। আমরা প্রমাণ ছাড়াই ভুড়ি ভুড়ি অভিযোগ দাঁড করাতে জানি। কথায় ও মাঝে মাঝে শক্তির ব্যাবহারে অভিযুক্তকে ছিন্নভিন্ন করতে পারি। অভিযোগ করার আগে নিজেদের চেহারা একবার আয়নায় দেখে নেয়ার কোন প্রয়োজন অনুভব করি না আমরা। যাত্রাদলের অভিনেতার মতো গলা কাঁপিয়ে, জান গেল মান গেল বলে মুখর হয়ে উঠি। এ দিক দিয়ে আমরা অনেকটাই আমেরকিার বুশ চরিত্রের কাছাকাছি দাঁড়াতে পারি। ওখানেও নাকি অভিযুক্তকেরই দ্বায়িত্ব, নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার।

ব্লগেও আমাদের এই চরিত্রের প্রতিফলন ঘটছে প্রতিবারই। ছোট উদাহরণ দিচ্ছি: অবলীলায় বলে যাচ্ছি, ব্লগার 2, ব্লগার 8, ব্লগার 6 সবাই একই ব্যাক্তি। আমাদের এসব বলতে প্রমান লাগে না। প্রমান ছাড়া এসব বলতে আমাদের সামান্যও গলা কাঁপে না। "এর কারণে এটা হচ্ছে, পাঁচ এর জন্যে সতেরো দায়ী, বারোর জন্যে একুশ"- আমাদের নামতার শেষ নেই। এ নামতার জন্যে কোন প্রমান লাগে না, এ নামতা আমাদের মজ্জাগত। আমরা একেকজন একেকটা বিচারক, শুধুমাত্র নিজেদের বিচারটুকু করতে জানি না।

মাঝে মাঝে প্রশ্ন জাগে, আমরা কি আমাদের চিন্তা করার শক্তি হারিয়ে ফেলেছি? নাকি আমরা জাতিগতভাবেই এমন? এজন্যেই কি বলা হয়, হুজুগে বাঙ্গালী ? কতগুলো প্রবাদ মনে পড়ছে তাই। ভাঙ্গা কলসী নড়ে বেশী।
চিলে কান নিয়েছে ভেবে কানে হাত না দিয়ে চিলের পেছনে দৌড়ানো আমাদের স্বভাব।

মধ্যযুগে পাথর ছুড়ে মারা হতো অপরাধীদের। সবাই বেশ আনন্দের সাথে অংশ নিত তাতে। অপরাধীর রক্তাক্ত চেহারা দেখে পৈশাচিক আনন্দের সাগরে ভাসতো। এক বুদ্ধিমান বিচারক নিয়ম করলেন, যে জীবনে কোন অপরাধ করে নি, একমাত্র তারই অধিকার আছে পাথর ছোড়ার। তখন কেউ আর পাথর ছুড়তে এগিয়ে আসতে সাহস পেলো না।

হয়তো এটা মধ্যযুগ বলেই সম্ভব হয়েছে, নিদেনপক্ষে তারা পাথর ছোড়া থেকে বিরত হয়েছে। আমাদের বাঙ্গালীদের বেলায় এরপরও থামতো না কেউ। আমরা কি মধ্যযুগের চাইতেও পিছিয়ে?

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
২১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চোখ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:১৬

এতদিন উপমা হিসাবে জেনেছি কারোর চোখ থাকে পটল চেরা, কারোর থাকে বাবুই পাখির বাসার মতন।
এই প্রথম দেখলাম গ্রে'স এলিয়ানের চোখ - এত মায়ায় ভরা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দুনিয়ার আহার যোগাই, আমরা না পাই খাইতে

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৩৪



সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাওন হাওরের বর্গাচাষি আলী আকবর। কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ কৃষিকাজ করি খালি বাঁইচ্যা থাকার লাগি। কোনো লাভ নাই।’ হিসাব কষে বলেন, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুম আর গুপ্ত

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫


খোঁজ করলে দেখাি যাবে, কুকুর-বিড়াল পালকদের অনেক কাছের আত্মীয়-পরিজন অনেক কষ্টে জীবন কাটাচ্ছে। তাদের প্রতি কোনও দয়া-মায়া নেই; অথচ পশুদের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

=পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯


মনে আছে ছেলেবেলায়
ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি এলে,
পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে
হাঁটতাম পথে এলেবেলে।

অতীত দিনের বৃষ্টির কথা
কার কার দেখি আছে মনে?
শুকনো উঠোন ভিজতো যখন
খেলতে কে বলো - আনমনে?

ঝুপুর ঝাপুর ডুব দিতে কী
পুকুর জলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তালেবান ঢাকায়, রাষ্ট্র ঘুমায়

লিখেছেন মেহেদি হাসান শান্ত, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩২

জুলাই অভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশে অনেক কিছু নতুন হইছে। নতুন সরকার, নতুন মুখ, নতুন বুলি। কিন্তু একটা জিনিস খুব চুপচাপ, খুব সাবধানে নতুন হইতেছে, যেইটা নিয়া কেউ গলা ফাটাইতেছে না। তালেবানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×