বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি যাদের ভালবাসা. তাদের সবাইকে 'যায় যায় দিন' পত্রিকাটি বর্জন করার আহ্বান জানাচ্ছি। বাংলা, ইংরজেী মিশিয়ে যে জগাখিচুড়িী ভাষার পরিবেশন এদের, তাতে বাংলা ভাষার প্রতি সন্মানহীনতাই তারা প্রতি ছত্রে ছত্রে প্রকাশ করে। তাছাড়া বাংলা বানানের নিজস্ব নিয়মনীতি ভুলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে যে বানানে তারা লিখে থাকেন, তা ভাষাবিকৃতির এক জলন্ত উদাহরণ।
ভাষা আন্দোলনের সময় পকিস্তানী ও পাকিস্তানপন্থী কিছু বাংগালী বুদ্ধিজীবি মিলে উর্দু ও বাংলার মিশ্রণে এক আজগুবি ভাষার প্রচলন করতে চেয়েছিলেন। যেমন: 'ছাত্ররা না সমঝালে শিক্ষক সাহেবকে পুছ করিয়া জানিয়া লইবে' স্কুলপাঠ্য বইয়ে এধরণের লেখা শুরু করিেছলেন তারা। তাদের এই অপপ্রচেষ্টা ভাষা আন্দোলনের জোয়ারে নস্যাৎ হয়ে যায়। আজ শফিক রেহমান উর্দুর বদলে ইংরজেী মিশিয়ে একই ঘৃন্য খেলায় প্রয়াসী।
পত্রিকাটিতে প্রতিটি বিভাগের নাম ইংরেজীতে, যদিও লেখা বাংলা হরফে। প্রতিটি নামের যোগ্য প্রতিশব্দ বাংলায় রয়েছে, তারপরও ইংরেজীর ব্যাবহার। আমার জানা নেই, কোন ভাষাতাতি্বক বিচারে শফিক সাহেব এ ধরনের বানান ও উদ্ভট ভাষা ব্যাবহারে সাহসী হয়েছেন। এ ধরণের ভাষাবিকৃতি শুধুমাত্র সাধারণের জন্যেই নয়, শিক্ষার্থীদের জন্যেও বিভ্রান্তিকর। এ কারণে সচেতন ও উন্নত দেশগুলোতে ভারপ্রাপ্ত সরকারী সংস্থার পরিস্কার নিয়মনীতি রয়েছে। আমাদদের কি সেসব কিছুই নেই। বাংলা একাডেমির কি কাজ তাহলে?
পত্রিকাটি আমাদের সমাজের একটি বিশেষ সুবিধাভোগী ও সুবিধাবাদী শ্রেনীর মূখপত্র। তাতে আমার কিছু বলার নেই, নিজেদের অবস্থান খুজে নেয়ার প্রশ্নে তাদের সে স্বাধীনতা রয়েছে। পড়া বা না পড়ার ভার পাঠকের। কিন্তু বাংলা ভাষা নিয়ে তাদের এই স্বেচ্ছারিতার অধিকার তাদের নেই ও আমি তার কঠোর নিন্দা জানাই।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



