পুরো ব্যস্ত ব্যাবসায়িক এলাকা, রাস্তার পাশে পার্ক করার কোন স্থান নেই। অফিসের সামনে বিশাল চত্তরে গাড়ী পার্ক করার জায়গা রয়েছে। কিন্তু তা আমাদের ও আরো কয়েকটি অফিসের জন্যে নির্ধারিত। মাঝে মাঝে অন্য গাড়ীও এনে পার্ক করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বাধ সাধেন এক জার্মান ভদ্রলোক। জ্ব্যলজেলে হলুদ পোষাক পড়ে প্রচন্ড বৃষ্টি ও বরফের মাঝেও তিনি প্রতিদিন পাহাড়ায়।
সকালে যখন শীতের চাবুকে কাঁপতে কাঁপতে অফিসে ঢুকি, দেখি চারিদিকে নজর রেখেও হিমেল বাতাসের আড়াল খুজছেন। বলি,
- গুটেন মরগেন হের গ্রাইস! (সুপ্রভাত জনাব গ্রাইস)
উত্তরে ওনিও আমার নাম বলে সুপ্রভাত জানান। আমি একা না, আমার মতো প্রতিটি কলিগ, আমাদের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর হের গ্রাইসকে সুপ্রভাত জানান।
তারপর দেখা হয় আমাদের দারোয়ান হের শ্রাম এর সাথে। তাকেও নাম নিয়ে সুপ্রভাত জানাই আমরা সবাই। সেই সাথে একটা দুটো কুশলবার্তাও চলে। তার স্ত্রীর পা ফুলে যাওয়ায় কদিন আগে হাসপাতালে যেতে হয়েছিল।
অফিসে প্রতিটি তলায় দুটো করে রান্নাঘর আছে। ওখানে বোতলে নানা ধরণের পানীয় সাজনো রয়েছে। পাশপাশি কফি মেশিনে কফিও বানিয়ে নেয়া যায়। রান্নাঘর পরিস্কার ও দেখাশোনা করেন ফ্রাও মিলোভিচ নামের বসনিয়ার এক মহিলা। সকালে দেখা হলে তাঁকেও সুপ্রভাত জানাই নাম ধরেই। খুব ভদ্র হলেও বেশ দাপুটে ভদ্রমহিলা। তিনি থাকলে তাঁর কঠিন দৃষ্টিকে ভয় পাই বলেই বেশ সাবধানে কফি বানাই, যাতে সামান্যও না ছলকায়।
এটা একটা সফটওয়ার হাউজ। আমরা জার্মানীর বীমা কোম্পানীগুলোর জন্যে প্রোগ্রাম তৈরী করি।
আমাদের দেশের হের গ্রাইস, হের শ্রাম ও ফ্রাও মিলোভিজ রা হচ্ছে আবদুল, গফুর আর বুয়া। ঝাড়ুদারনী কমলাদাসী আর মেথর নাথুরামের কথা নাহয় বাদই দিলাম।
আমরা আমাদের কোন গুনাবলীতে এগিয়ে? ধর্ম? সমাজ? মানবতা?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



