একটা স্ট্যান্ডে থামলো সে বাস। একজন যাত্রী উঠলো, না না, একজন নয়, দু'জন। এক মহিলা ও তার শিশু। ড্রাইভারের আসনের কাছাকাছি বড় একটা সীটে জাকিয়ে বসলেন মহিলা। কত বয়েস হবে, ভাবলাম আমি। কুড়ি থেকে পঁচিশ ? শিশুটিকে কোলে জড়িয়ে কি তার শান্তি ! বাইরের ঝড় বৃষ্টির কোন স্পর্শ নেই এই শান্তির নিস্কলুষ শরীরে।
একসময় শিশুটিকে হাত ধরে বাসের মেঝেয় নামিয়ে দিলেন মা। শিশুটি মায়ের হাত ধরেই হামাগুড়ি দেয়ার চেষ্টা করলো। এক বার, দুই বার, বারবার। একসময় হাত ছেড়ে দিলেন মা। শিশুটি প্রায় বাসের অর্ধেক পেরিয়ে আবার ফিরে এলো মায়ের কাছে। বাইরে অঝোর বৃষ্টি আর ঝড়। মা ছবির বই বের করলেন শিশুর জন্যে। বইটি হাতে নিয়ে একটা দুটো ছবি দেখালেন, নিজেও হাসলেন। একসময় মায়ের হাত থেকে বইটি নিয়ে নিল শিশু। বইটি হাতে নিয়ে দাঁড়ালো, এক পা , দু পা হাটলো। তারপর দৌড়ে বেড়ালো সারা বাসময়। মায়ের দৃষ্টিও সন্তানের সাথে দৌড়ে বেড়ালো সারা বাসময়। বাইরে তখনো অঝোর বৃষ্টি আর ঝড়। যাত্রী আমরা তিনজন আর ড্রাইভার।
সন্তান ফিরে গিয়ে বসলো মায়ের পাশে। হঠাৎ দেখলাম মায়ের ব্যথাতুর চোখ। সন্তান একটু ক্ষুব্ধ মায়ের উপর। তার চোখেও ব্যথার জল। ওদের কথার আওয়াজ শুনলেও বোঝার মতা ছিল না আমার। বাইরের বৃষ্টি তখন আরো জোরে আছড়ে পড়ছে জানলায়।
একটা বাসস্ট্যান্ডে থামলো বাস আবার। সঙ্গীহীনা হয়ে গেলেন মা। নেমে গেলো তার সন্তান। জানিনা আগে থেকেই ঠিক করা ছিল, নাকি অকস্মাতই ঘটলো। কিন্তু মা তখন একা। বাসে যাত্রী আমরা দুজন আর ড্রাইভার।
কয়েকটা স্ট্যান্ড পেরিয়ে আরেকটা বাসস্ট্যান্ডে থামলো বাস। মায়ের মুখে সেই কমনীয়তা আর নেই। বয়সের ভারে কান্ত আর জরাগ্রস্থ। চোখের দৃষ্টিতে মালিন্য আর হাজারো শ্রাবনের জল। ড্রাইভারের হাত ধরে ধরে নামলেন মা। ভারী একটি একটি পা ফেলে এগিয়ে গেলেন সামনে।
বাস ছাড়লো আবার। বাইরে তখনো অঝোর বৃষ্টি আর ঝড়। যাত্রী আমি একা আর ড্রাইভার।
জানলায় বৃষ্টির জোর আওয়াজ। সামনে অনন্তের কোন এক বাসস্ট্যান্ড।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



