ব্যরে গড়ে প্রায় 400 টি এ ধরণের ঘটনা ঘটে বাংলাদেশে। আসমা আখতারের উপর এসিড ছোড়ে তার এক চাচাত ভাই। 14 বছর বয়েসী আসমা আখতারকে বিয়ে করতে চেয়েছিল সে। তাতে রাজী না হওয়ায় এই পৈশাচিক প্রতিশোধ । প্রামান্য চিত্রে রূপালী নামের আরেক জন কিশেরেীকে। বিয়ে পর বেশী যৌতুক চেয়ে না পেয়ে স্বামী ও শশুর মিলে তাকে এসিড পান করতে বাধ্য করে। কোন কোন ক্ষেত্রে শিশুদের উপরও এসিড ছোড়া হয়েছে।
এসিড ক্ষতিগ্রস্থদের সাহায্য ও পূনর্বাসনের জন্যে মনিরা রহমান এসিড সারভাইবাল ফাউন্ডেশান গড়ে তোলেন। আমাদের এই নষ্ট, পচা সমাজে আসমাদের মতো মেয়েদের সাংসারিক জীবনে কোন ঠাই খুজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। এসিড সারভাইবাল ফাউন্ডেশান এই মেয়েদেরকে প্রথমে শারিরীক ও মানসিক ভাবে সুস্থ করায় প্রয়াসী হয়। মাঝে মাঝে বিদেশ থেকে প্লাস্টিক সার্জন আনা হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্থদের চেহারার বিকৃতি সামান্যই দুর করা যায়। তারপর বিভিন্ন ট্রেনিং এর মাধ্যমে পেশাগত শিক্ষায় শিক্ষিত করা হয় তাদের। এ বছর মনিরা রহমার তার সেবাধর্মী কাজের জন্যে "এমন্যাষ্টি" পদকে ভুষিত হন।
এতটা বর্বরতা ও পৈচাশিকতা বাংলাদেশ ও ভারত ছাড়া আর কোথাও দেখা গিয়েছে বলে আমার জানা নেই। কেন এমন হয় ? কেন আমরা প্রতিক্ষেত্রেই নিষ্ঠুরতা ও বর্বরতার সবরকম সীমা ছাড়িয়ে যাই ? কি শিক্ষা দিয়েছে আমাদেরকে আমাদের ধর্ম ও সমাজ ? ধর্ম ও সমাজের কোন ভালো প্রভাবই যদি আমাদের উপর না পড়ে, তাহলে লাভ কি এগুলো মেনে চলে ? মাঝে মাঝে মনে হয়, জাতি হিসেবে আমরা পৃথিবীর সবচে' নিকৃষ্টতমো জাতি।
বদরুল ভাই, ওহিদ ভাই, ওয়ালী ভাই, আপনারা ঠিকই বলেছেন। আমাদের দেশের মেয়েদের বোরকা পড়েই বাইরে যাওয়া দরকার। শুধু বাইরে না, ঘরেও বোরকা পড়া দরকার। চাচাত, মামাত ভাইরা তো ঘরেই আসে। পুরুষদের এই নিশৃংসতা থেকে বাঁচার জন্যে আর কি উপায় ? কিন্তু তা ও যথেষ্ট নয়। আরো অনেকেরই বোরকা পড়া জরুরী। শান্তিকামী মানুষদের বোরকা পড়া দরকার সন্ত্রাসের হাত থেকে বাচার জন্যে। সৎ মানুষের বোরকা পড়া দরকার অসৎদের হাত থেকে বাচার জন্যে। জনগন বোরকা পড়বে রাজনীতিবিদদের হাত থেকে বাঁচার জন্যে। স্কুলে যাবার পথে বাচ্চা মেয়েদের জন্যেও বোরকা জরুরী। আমি অনেক বয়েসী পুরুষকেও তাদেরকে নোংরা মন্তব্য করতে দেখেছি।
আরেকটা কারনেও আমাদের বোরখা পড়া দরকার। কারনটি হচ্ছে লজ্জা। কাল টি ভির সামনে আমার দুজন জার্মান বন্ধুও ছিল। তাদের সামনেও আমার বোরখা পড়া উচিৎ ছিল। কাল অফিসে যাওয়ার আগে একটা বোরখা কিনে, পড়ে অফিসে যাব। নাহলে কলিগদের সামনাসামনি দাঁড়াতে লজ্জা পাব খুব।
প্রগতিশীল ভাইবোনদের জন্যেও আমার কিছু বলার আছে। আপনাদের লেখা দেখে বোঝা যায়, আপনাদের লেখনীর অনেক জোর। কিন্তু চিন্তায় আপনাদের দৈর্বল্য এত বেশী যে, কুপমুন্ডকতার সীমা আপনারা আপনাদের লেখনীতে একেবারেই পেরুতে পারছেন না। বর্তমান সমস্যাগুলো নিয়ে কোনই ভাবনা নেই আপনাদের। আপনারা এখনো 'ইসলাম ধর্মে কামকেলী', 'হদিসের অর্থহীন ব্যাখ্যা' নিয়ে অপ্রয়োজনীয় তর্কযুদ্ধে মত্ত। ইসলাম ধর্মে কামকেলী র আমাদের বর্তমান সমাজে তার কতটুকো প্রভাব ফেলেছে ? এ নিয়ে এত চাপাবাজির কি দরকার ? তারপর শুরু করেছেন বানর নিয়ে মহাকাব্য। তাতে বানর যে মাথায় উঠছে, আপনাদের লেখনীশক্তি যে অপাত্রে নষ্ট হচ্ছে সেদিকে কোনই নজর নেই আপনাদের। আমি নিজেকে প্রগতিশীল হিসেবেই ভাবি। তবে আপনাদের প্রগতিশীলতার চেহারা দেখলে আমার নিজেরও বোরখা নীচে লুকোতে ইচ্ছে করে।
আসুন, আমরা এ সব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলি। আমাদের ডাক একজন, দুজনের কাছে পৌছুলেও দশজন না হলেও একজন আসমা বেচে যাবে এই সন্ত্রাসের কবল থেকে। আপনাদের লেখনীর জোর ব্যবহার করুন এই প্রতিবাদে। আসুন না, একটা কিছু ভালো হলেও অর্জন করি! নাহলে একদিন সমগ্র বাংলাদেশকেই ঢেকে দিতে হবে বোরখায়!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



