somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

(ছোটগল্প) সমুদ্র সুখ - 6

২৩ শে মার্চ, ২০০৬ রাত ২:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শুভ খুব পছন্দ করতো অসি চাচাকে। বাবা মা'র শীতল, মাপা সম্পর্কের আবদ্ধতায় অসি চাচাই ছিলেন তার আসল অবলম্বন। বাবা তো থেকেও না থাকার মতোই ছিলেন। স্কুলে ভর্তি বা সেজন্যে ধরাধরি করতেন তিনি, মা বা বন্ধুদের সাথে কোনরকম ভুল বোঝাবুঝিতে শুভর সাথে কথা বলতেন, সান্তনা দিতেন তিনিই। তার প্রথম প্রেমের কাহিনী অসি চাচাই সবার আগে জেনেছেন, তারপর মা। সবরকম বিষয়েই খোলামেলা কথা হতো ওদের দু'জনের।

ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন অসি চাচা খুব সহজ সরল একটা মানুষ। বিভিন্ন অঙ্গনে তার অনেক আসাযাওয়া, সাফল্য থাকলেও, এসব তার সারল্যের উপর কোন প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবে তাঁর এতোটা সোজা পথে চলার কারণে, অনেক সময় কোন কোন পরিবেশে তাঁকে বেশ অসহায় মনে হতো। বিশেষ করে মায়ের অনেক মনগড়া আক্রমণে তিনি কেমন যেনো বোবা হয়ে যেতেন, প্রতিরার কোন মতা থাকতো না তাঁর। তখন শুভর মনে হতো, এ বাড়ীর, এখানকার মানুষের সবরকম স্পর্শ থেকে দুরে থাকলেই ভালো থাকতে পারবেন তিনি।

মনে পড়ে, তার সামনেই দু'জনের ঝগড়ায় পর শুভ একা ছিল অসি চাচার সাথে তাঁর গাড়ীতে।

মা তোমাকে এতো উল্টোপাল্টা বলল, তুমি তো কিছু বললে না।
কেন ? আমিও তাকে যা বলার বলেছি। উত্তর দিলেন অসি চাচা বাইরের দিকে তাকিয়ে।
বলেছ, কিন্তু মা'ই তোমাকে বলে বেশী। আর আমি দেখেছি, অনেকবারই অন্যায়ভাবে। শুভ্র মানতে চাইল না।
তুই কি চাস্, আমিও তোর মাকে অন্যায় কিছু বলি ? তার চোখাচোখি তাকালেন অসি চাচা।
কিন্তু সেটা যে তুমি করবে না, আমি ভালো করেই জানি। শুভও তার চোখ সরালো না।
তবে আমাকে কি করতে বলিস তুই ?

শুভ কোন উত্তর দিলনা। গাড়ীর জানলা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকলো কতোন। বাইরে মিছিল চলছে কোন এক রাজনৈতিক দলের। হরতাল ডাকেনি, তাই ভাংচুর হচ্ছে না তেমন। কিন্তু ভাংচুর হচ্ছে শুভর বুকের ভেতর। একটা অব্যক্ত ব্যাথা যেনো দলা পাকিয়ে হাতুড়ী পেটাচ্ছে বুকের প্রতিটি কোষে।

তুই তোর মা কে ভালোবাসিস শুভ ? জানলা দিয়ে সিগারেটের ছাইটা ঝাড়তে ঝাড়তে প্রশ্ন করলেন অসি চাচা।
হ্যা, বাসি। যদিও তার উপর অনেক রাগ আছে আমার।
প্রকাশ করিস সে রাগ ?
সবসময় করিনা। চুপ করে থাকি। উত্তর করলো শুভ।
কেনো করিস্ না ? সিগারেট শেষ হলো অসি চাচার।
কেনো করি না, তা তুমি নিজেও জানো অসি চাচা। কিন্তু তারপরেও মায়ের এতোটা অন্যায় কথাবার্তা অন্ততপ েতোমার সহ্য করা উচিত না।
কিন্তু কথা সবসময় সবকিছু প্রকাশ করেনা শুভ ! সাবধানে, রাস্তার মাঝের একটা গর্তকে পাশ কাটিয়ে চালাতে চালাতে বললেন অসি চাচা।
কিন্তু এতোটা মিথ্যে সবসময় মেনে নেয়া যায়না। অসহায় একটা ভাব ফুটে উঠলো শুভর চেহারায়।

অনেকন কোন কথা হলোনা দুজনের মাঝে। শহরের অনেকটা শেষ সীমানায় এসে পৌছুলো ওদের গাড়ী। দুপাশের দোকানপাটের ঘনত্ব কমে এসেছে। কয়েকটা ইতস্তত: ছড়ানো ছিটানো গাছপালা কিছুটা হলেও সবুজের অস্তিত্ব প্রকাশ করছে, কিন্তু ক'দিনের জন্যে কে জানে।
অসি চাচা নীরবতা ভেঙ্গে স্বগোক্তির মতোই বললেন,

একটা বিশ্বাসের বলে আমি এতদিনও আছি। সেটা ভাঙ্গলে আমি নিজেই হয়তো আর পারবো না। চলে যাব কোথাও।
শুভ তাকালো অসি চাচার দিকে। নিজের জন্যে কিছু করার একটা সুস্থ ইচ্ছে তো সবারই থাকা দরকার। ওনার কি সেটাও নেই ?
তাই করো অসি চাচা। একটা কিছু করো সুধুমাত্র তোমার নিজের জন্যে। একটা বিষন্ন আকুতি ভেসে আসলো শুভর কথায়।

অসি চাচা চুপ করে থাকলেন। কিন্তু সে চুপ থাকার মাঝে যে কতোটা যন্ত্রনা তাঁর বুকে হাতুড়ী হানলো, শুভ টের পেলো তা। মা গান করেন সবরকম আবেগ অনুভূতি নিয়ে। আত্মার ভেতরের ভাব শুদ্ব না হলে এরকম কি কেউ গাইতে পারে ? সেটা না হলে শুভ তো মাকে ভালোবাসতে পারতো না। কিন্তু বাইরে মা এমন কেন ? শুভর ধারণা, মায়ের ভেতরে কোথাও কোন বড় একটা কষ্ট লুকিয়ে রয়েছে, যা তিনি কাউকেই কথনো প্রকাশ করেননি। আর যদি কিছু প্রকাশ করে থাকেন, একমাত্র অসি চাচার কাছেই। অসি চাচাও সেটা জানতেন বলেই, নিজে কষ্ট পেয়েও মায়ের অনেক অন্যায়কেই প্রশ্রয় দিতেন। কিন্তু মায়ের আত্মার ভেতরে যে সৌন্দর্য ছিল, তার স্পর্শে তিনি যে কতোটা সুখী হতেন, সে ও শুভ অনুভব করেছে বহুবার। মাকেও তখন অনেক সুখী মনে হতো। মনে হয় মা ও ভালোবাসতেন অসি চাচাকে, কিন্তু সে ভালোবাসার জন্যে নিজের বাইরের খোলস ছিড়ে বেরুনোর মতা ও সাহস ছিলনা তাঁর।

সেদিন অসি চাচার সাথে অনেক বেড়ানো হয়েছিল শুভর। মাকে নিউমার্কেটে ছেড়ে দিয়েছিল তারা। মা'র কেনাকাটা করার ছিল তাঁর কোন এক বন্ধুর সাথে। জসীম চাচারও ঘনঘন আসাযাওয়া ছিল বাড়ীতে। বাবা ও মায়ের সাথে একসাথে আড্ডাও দিতে দেখেছে তাঁকে। কিন্তু অসি চাচা সে আড্ডায় থাকতেন না বললেই চলে। শুভর সাথেও তেমন এতটা আলাপ হয়নি তাঁর।
-0-0-
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আমার মন খারাপ, ফুল দিয়ো=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৮



অকারণে মন ভালো না আজ
তুমি কোথায়?
এসো এক গুচ্ছ রঙ্গন নিয়ে
বাঁধো আমায় ভালোবাসার সুতায়।

অকারণে ভালো লাগে না কিছু;
তুমি কই গেলে?
রক্ত রঙ ফুল নিয়ে এসো;
উড়ো এসে মন আকাশে - প্রেমের ডানা মেলে।

কী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায় দূরে থেকে....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫


সূর্যমুখী
অন্যান্য ও আঞ্চলিক নাম : রাধাপদ্ম, সুরজমুখী (হিন্দি)
সংস্কৃত নাম : আদিত্যভক্তা, সূর্যকান্তি, সূর্যকান্তিপুষ্প
Common Name : Sunflower, Common sunflower
Scientific Name : Helianthus annuus

সূর্যমুখী একটি বর্ষজীবী ফুলগাছ। সূর্যমুখীকে শুধু ফুলগাছ বলাটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে

লিখেছেন আরোগ্য, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:২১

গতবছর এই মে মাসের ১৭ তারিখেই আমার চোখের প্রশান্তি, আমার কর্মের স্পৃহা, আমার জননী এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ও আমাদের কাছ থেকে মহান রব্বের ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমান। আব্বু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইচ্ছে করে

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

ইচ্ছে করে ডিগবাজি খাই,
তিড়িং বিড়িং লাফাই।
কুমারী দীঘির কোমল জলে
ইচ্ছে মতো ঝাপাই।

রাস্তার মোড়ে সানগ্লাস পরে
সূর্যের দিকে তাকাই,
সেকান্দর স্টোর স্প্রাইট কিনে
দুই-তিনেক ঝাঁকাই।

ঝালমুড়িতে লঙ্কা ডাবল,
চোখ কচলানো ঝাঁঝে,
ছাদের কোণে যাহাই ঘটুক,
বিকেল চারটা বাজে।

ওসবে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !... ...বাকিটুকু পড়ুন

×