যেদিন থেকে তিনি এ বাড়ীতে আসেন না, তার আগের দিন সন্ধ্যায় মার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে শুভর ঘরে এসেছিলেন তিনি। শুভ একটা লেখা নিয়ে ব্যাস্ত ছিল। কিন্তু অসি চাচার চেহারা দেখে চেয়ার ছেড়ে তাঁর দিকে এগিয়ে গেলো। এতোটা বিবর্ন, এতোটা বিদ্ধস্ত চেহারা তাঁর সে কখনো দেখেনি। একটা সিগারেট ধরাতে গিয়ে কাঁপছিলো হাত। কাঁপছিলো ঠোঁট দুটোও। কোন এক অপ্রত্যাশিত আঘাতে যেনো কথাও বলতে পারছিলেন না তিনি। শুভর কাছে বিদায় চাইতে গিয়েও কোন শব্দ বের করতে পারলেন না। ও ছুটে জল আসতে গেলো রান্নঘরে। ফিরে দেখে অসি চাচা আর নেই।
দৌড়ে রাস্তায় বেরিয়েও পেলোনা সে অসি চাচাকে। মায়ের ঘরে টোকা দিল সে। মা দরজা খুললেন একমুখ হাসি নিয়ে। শুভ সে হাসির আড়াল ভেদ করে অন্য কিছুও দেখতে চাইলো।
চলে গিয়েছেন তোর অসি চাচা ? হাসি মুখ হলেও খুব কান্ত শোনালো মায়ের গলা।
হ্যা। ছোট্ট উত্তর শুভর।
খেয়ে যেতে বললাম, শুনলেন না। অনেকটা অনুযোগের মতোই বললেন মা ।
কি হয়েছে তোমাদের ? সরাসরি প্রশ্ন করলো শুভ।
কেনো ?
অসি চাচাকে এতোটা কষ্ট পেতে আমি কখনো দেখিনি।
মায়ের চেহারা তারপরও নির্বিকার, চোখে এক ধরণের ভাবলেশহীন দৃষ্টি ও গলার স্বরে অস্বাভাবিক শীতলতা। কিন্তু তাতে মা যে সত্যি বলছেন না, সেটা শুভর কাছে আরো স্পষ্ট হলো।
জানিনা, ওনি তো মাথা ধরার কথা বলে চলে গেলেন।
শুভ তীব্র দৃষ্টিতে মায়ের মুখের দিকে তাকালো কতোন। অনেক খুঁজেও সেখানে সত্যের কোন চিহ্ন পেলোনা। আর কোন কথা না বলে বেরিয়ে এলো মায়ের ঘর ছেড়ে। সারারাত ঘুমালো না শুভ। শুধু নিজের বুকের ভেতর যে সমুদ্র, তার মুক্তির প্রত্যাশায় বিছানায় এপাশ ওপাশ করলো।
মা'র বাইরের পৃথিবী আগের মতোই। কিন্তু রাতে শুভ টের পায় যে, মা একা একা বারান্দায় পায়চারী করেন। সে নিজের ঘরে বসেই অনুভব করে মায়ের অস্থির যন্থ্রনা। কিন্থু যতোই সে তা টের পায়, ততোই তার অমতার দেয়াল আরো শক্ত হয়।
-0-0-
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



