বেরিয়ে অনেকন বৃষ্টিতে ভিজলো সে। কিন্তু তার ভেতরের কষ্ট কমলো না তাতে। বাড়ী ফিরলো সেদিন শুভ অনেকটা রাত করেই । মা'র আগামীকাল সন্ধ্যায় গানের প্রোগ্রাম আছে। হয়তো কোথাও রিহার্সেল নিয়ে ব্যাস্ত। কিন্তু ড্রয়িং রুমের বাতি জ্বলতে দেখতে পেলো সে। শুভ ভেতরে ঢুকলো। বাবা বসে আছেন জসীম চাচাকে নিয়ে সোফায় টেলিভিসনের সামনে, মা সেলাই নিয়ে ব্যাস্ত। হয়তো আগামীকাল সন্ধ্যায় গানের প্রোগ্রামের জন্যে।
বাবা ও জসীম চাচা কাকে নিয়ে কথা বলছিলেন, শুভ সহজেই বুঝতে পারলো। বাবা হেসে উঠলেন জসীম চাচার করা কোন এক তীর্যক মন্তব্যে।
দম বন্ধ আসলো শুভর। ওখানে আর থাকতে চাইলো না। কিন্তু যাবার আগে মায়ের মুখের দিকে একপলক তাকাতে পারলো। কিন্তু সে মুখে কষ্টের এক ফোঁটা চিহ্নও দেখতে পেলোনা।
পরদিন সন্ধ্যায় শুভ একা তার ঘরে। আবছা অন্ধকার হয়ে এলেও বাতি জালানো হয়নি তখনো। শাহিদা এসে ঢুকলেন। শুভ মায়ের মুখের দিকে তাকালো।
মা, তোমার গানের প্রোগ্রাম ছিলনা আজ ?
শাহিদা কোন উত্তর দিলেন না। একটা বিষন্ন হাসি উঁকি দিল তাঁর ঠোঁটের কোনায়। খাটে রাখা হারমোনিয়ামটায় হাত বোলালেন একবার। তারপর কোলের কাছে টেনে বসলেন সেটাকে। গুনগুন করে গাইলেন,
'চিরসখা হে, ছেড়োনা মোরে ছেড়োনা'। কিন্তু কয়েকটি কলি গাওয়ার পরই গান থামিয়ে শুভর চোখের দিকে তাকালেন। সে দৃষ্টিতে এতোটা কষ্ট ছিলো যে, শুভ এগিয়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরলো মা কে। কিন্তু সমুদ্রকে বুক থেকে মুক্তি দেয়ার বাসনা তার তাতেও কমলো না।
বাইরে জুতোর শব্দ ও কথা ও হাসি শোনা গেলো। বাবা ফিরছেন জসীম চাচাকে নিয়ে তাঁর সান্ধ্যকালীন আড্ডার জন্যে।
-0-0-
প্রাকৃতিক উদারতা কোন এক শান্তির ছোঁয়াচে নিবিড় করে শুভর আজন্ম অস্তিত্ব। বুকের ভেতরের সমুদ্রকে নিজের চারপাশে দেখতে পেয়ে কোন এক উত্তাপে যেনো গলতে থাকে জমাট বাঁধা কষ্টগুলো। প্রাণ ভরে নি:শ্বাস নিলো একবার। অনেক বন্দর ঘুরে আসা অসি চাচার চিঠিটা গুছিয়ে রাখলো ড্রয়ারে। মা কে লেখার জন্যে টেনে নিলো প্যাডটি হাতের কাছে।
-0-0-
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



