"হিটলারের উচিৎ ছিল সমস্ত ইহুদী জাতিকে ধ্বংস করা।"
প্যালেষ্টাইনে ইহুদী দখল, আমেরিকার নগ্ন পপাতিত্ব, মুসলিমদের উপর ইহুদীদের জঙ্গী আগ্রাসন যখনই এসব বিষয়গুলো নিয়ে ভাবি, তখনই রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের প্রতি অন্যদের মতোই ঘৃণা জন্মায় আমার। চাই প্যলেষ্টাইনিরা তাদের আত্মনিয়ন্ত্রনঅধিকার ফিরে পাক। কামনা করি, ফিরে পাক তারা তাদের মাতৃভুমির উপর তাদের একচ্ছত্র অধিকার। কিন্তু "হিটলারের উচিৎ ছিল সমস্ত ইহুদী জাতিকে ধ্বংস করা" এই বক্তব্যের সাথে একেবারেই একমত হতে পারি না। এখানে বিবেক, মানবিক চিন্তাবোধের প্রশ্ন জড়িত। সুতরাং ঝগড়া হয় প্রায়ই ও তা অমীমাংসিতই থেকে যায় সাধারনতঃ।
অন্যদিকে মুখোমুখি হই আরেকটা সমস্যার। জার্মান শব্দটি শুনলেই নাজী শব্দটি আসে অনেকেরই ভাবনায়। আমদের এক তরুন ব্ল্লগারও কোন কোন এক তর্কে আমাকে ও জার্মান প্রবাসী আরেক ব্ল্লগারকে নাজী বলে অভিহিত করেছে। (তার অশিক্ষা ও কুশিক্ষাকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে ইচ্ছাকৃত ভাবেই 'করেছেন' না করে 'করেছে' শব্দটি ব্যাবহার করলাম) কিন্তু যতই জার্মান শিক্ষিত সমাজের সাথে পরিচিত হয়েছি, যতই কাছাকাছি এসেছি তাদের, ততই জার্মনদের অন্য চোখে দেখতে শিখেছি। এখনকার জার্মানরা তাদের নাজী ইতিহাসের কারনে সত্যিকারভাবেই লজ্জিত। এতটা লজ্জাবোধ কোন জাতির মাঝেই আমি দেখিনি। কাউকে ন্যাশনালিস্ট বলা একটা খারাপ গালির সমতুল্য। প্যাট্রিয়ট কোন ভাল ব্যবহৃত শব্দ নয় এখানে। হিটলার তাদের কাছে অচ্ছুতের মতোই। অনেক জার্মানরা হিটলারের শাষনকালীন সময়ে, নাজী বিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন । তারাই এখনকার জার্মানদের বীরত্বের প্রতীক।
বাংলাদেশে হিটলারকে ইহুদী নিধনের কারনে ও বৃটিশ উপনিবেশ শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধের কারনে একজন বড় রাষ্ট্রনেতা হিসেবে দেখা হয়। বাংলাদেশে স্কুলে পড়াকালীন সময়ে আমার এক পৃহশিক্ষক আমার উদ্ভট, কিন্তু মজাদার কর্মকান্ডে হিটলারের সাথে তুলনা করতেন আমার। হিটলারের এতই ভক্ত ছিলেন তিনি যে আমাকে নিয়ে হিটলারের ছবিও দেখতে যেতেন। আমার অপরিপক্ক মস্তিষ্কে ভলোই লাগতো এই তুলনা। এখন লজ্জা পাই ভেবে।
জার্মানী আসার পরই সর্বপ্রথম হিটলারকে হিটলারের মতোই দেখতে শিখি জার্মানদেরই কারণে। হিটলারকে নিয়ে তাদের যে লজ্জা, তা তাদেরকে ঘিরে থাকে প্রতি মূহুর্তে প্রতি পদক্ষেপে। এক দেশের অধীবাসীরা তাদের দেশনেতার হত্যাজজ্ঞের কারনে প্রতিমূহুর্তে সারা পৃথিবীর কাছে লজ্জিত, আর আমরা সেই নেতাকেই আমাদের ভেতরে সন্মানের আসনে বসাই। জার্মানরা যে হিটলারের ইহুদী নিধনের কারনে কতটা লজ্জিত, তার প্রমান দেন জার্মান চ্যান্সেলর উইলি ব্রান্ডট 1970 সনে পোলান্ডের ওরারশর এক গ্যাটোতে বিশ্ববাসীর সামনে হাটু গেড়ে ক্ষমা ্রেয়ে। তার এই স্বীকাররেক্তি ও ক্ষমা প্রার্থনার জন্যে তিনি পরে শান্তির জন্যে নোবেল পুরস্কার পান।
অনস্বীকার্য যে জার্মানীতে এখনও নাজী শক্তি রয়েছে। তবে তেমনি ভাবে আমাদের দেশেও রয়েছে মুসলিম মৌলবাদী, ভারতে হিন্দু জনসংঘ, ফ্রান্সে ল্য' পেনের দল বা আমেরিকায় কুকুকস ক্ল্যান। পৃথিবীর অন্যান্য অনেকে দেশে এ ধরণের অনেক দলই রয়েছে। এককভাবে জার্মানদের দোষী করা যায়না। আর আমরা নিজেরাই তো বলি "হিটলারের উচিৎ ছিল সমস্ত ইহুদী জাতিকে ধ্বংস করা"। আমরা বাঙ্গালীরা কি নাজী বা নাৎসী?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



