somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"হিটলারের উচিৎ ছিল সমস্ত ইহুদী জাতিকে ধ্বংস করা!"

২৪ শে মার্চ, ২০০৬ সকাল ৯:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেকদিন যাবৎ দেশের বাইরে আছি। দেড় দু'বছরে একবার যাওয়া হয় দেশে। যখনই কেউ শোনে জার্মানীতে বাস, তখনই কথা ওঠে হিটলারের। বাংলাদেশে হিটলারের কদর নেহায়েৎ কম নয়। তার নিশৃংশতা নিয়ে না ভেবে তার একটা অসম্পূর্ন কাজ নিয়েই সবাই আফসোস করে বেশী। আফসোসটা হচ্ছে,
"হিটলারের উচিৎ ছিল সমস্ত ইহুদী জাতিকে ধ্বংস করা।"
প্যালেষ্টাইনে ইহুদী দখল, আমেরিকার নগ্ন পপাতিত্ব, মুসলিমদের উপর ইহুদীদের জঙ্গী আগ্রাসন যখনই এসব বিষয়গুলো নিয়ে ভাবি, তখনই রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের প্রতি অন্যদের মতোই ঘৃণা জন্মায় আমার। চাই প্যলেষ্টাইনিরা তাদের আত্মনিয়ন্ত্রনঅধিকার ফিরে পাক। কামনা করি, ফিরে পাক তারা তাদের মাতৃভুমির উপর তাদের একচ্ছত্র অধিকার। কিন্তু "হিটলারের উচিৎ ছিল সমস্ত ইহুদী জাতিকে ধ্বংস করা" এই বক্তব্যের সাথে একেবারেই একমত হতে পারি না। এখানে বিবেক, মানবিক চিন্তাবোধের প্রশ্ন জড়িত। সুতরাং ঝগড়া হয় প্রায়ই ও তা অমীমাংসিতই থেকে যায় সাধারনতঃ।

অন্যদিকে মুখোমুখি হই আরেকটা সমস্যার। জার্মান শব্দটি শুনলেই নাজী শব্দটি আসে অনেকেরই ভাবনায়। আমদের এক তরুন ব্ল্লগারও কোন কোন এক তর্কে আমাকে ও জার্মান প্রবাসী আরেক ব্ল্লগারকে নাজী বলে অভিহিত করেছে। (তার অশিক্ষা ও কুশিক্ষাকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে ইচ্ছাকৃত ভাবেই 'করেছেন' না করে 'করেছে' শব্দটি ব্যাবহার করলাম) কিন্তু যতই জার্মান শিক্ষিত সমাজের সাথে পরিচিত হয়েছি, যতই কাছাকাছি এসেছি তাদের, ততই জার্মনদের অন্য চোখে দেখতে শিখেছি। এখনকার জার্মানরা তাদের নাজী ইতিহাসের কারনে সত্যিকারভাবেই লজ্জিত। এতটা লজ্জাবোধ কোন জাতির মাঝেই আমি দেখিনি। কাউকে ন্যাশনালিস্ট বলা একটা খারাপ গালির সমতুল্য। প্যাট্রিয়ট কোন ভাল ব্যবহৃত শব্দ নয় এখানে। হিটলার তাদের কাছে অচ্ছুতের মতোই। অনেক জার্মানরা হিটলারের শাষনকালীন সময়ে, নাজী বিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন । তারাই এখনকার জার্মানদের বীরত্বের প্রতীক।

বাংলাদেশে হিটলারকে ইহুদী নিধনের কারনে ও বৃটিশ উপনিবেশ শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধের কারনে একজন বড় রাষ্ট্রনেতা হিসেবে দেখা হয়। বাংলাদেশে স্কুলে পড়াকালীন সময়ে আমার এক পৃহশিক্ষক আমার উদ্ভট, কিন্তু মজাদার কর্মকান্ডে হিটলারের সাথে তুলনা করতেন আমার। হিটলারের এতই ভক্ত ছিলেন তিনি যে আমাকে নিয়ে হিটলারের ছবিও দেখতে যেতেন। আমার অপরিপক্ক মস্তিষ্কে ভলোই লাগতো এই তুলনা। এখন লজ্জা পাই ভেবে।

জার্মানী আসার পরই সর্বপ্রথম হিটলারকে হিটলারের মতোই দেখতে শিখি জার্মানদেরই কারণে। হিটলারকে নিয়ে তাদের যে লজ্জা, তা তাদেরকে ঘিরে থাকে প্রতি মূহুর্তে প্রতি পদক্ষেপে। এক দেশের অধীবাসীরা তাদের দেশনেতার হত্যাজজ্ঞের কারনে প্রতিমূহুর্তে সারা পৃথিবীর কাছে লজ্জিত, আর আমরা সেই নেতাকেই আমাদের ভেতরে সন্মানের আসনে বসাই। জার্মানরা যে হিটলারের ইহুদী নিধনের কারনে কতটা লজ্জিত, তার প্রমান দেন জার্মান চ্যান্সেলর উইলি ব্রান্ডট 1970 সনে পোলান্ডের ওরারশর এক গ্যাটোতে বিশ্ববাসীর সামনে হাটু গেড়ে ক্ষমা ্রেয়ে। তার এই স্বীকাররেক্তি ও ক্ষমা প্রার্থনার জন্যে তিনি পরে শান্তির জন্যে নোবেল পুরস্কার পান।

অনস্বীকার্য যে জার্মানীতে এখনও নাজী শক্তি রয়েছে। তবে তেমনি ভাবে আমাদের দেশেও রয়েছে মুসলিম মৌলবাদী, ভারতে হিন্দু জনসংঘ, ফ্রান্সে ল্য' পেনের দল বা আমেরিকায় কুকুকস ক্ল্যান। পৃথিবীর অন্যান্য অনেকে দেশে এ ধরণের অনেক দলই রয়েছে। এককভাবে জার্মানদের দোষী করা যায়না। আর আমরা নিজেরাই তো বলি "হিটলারের উচিৎ ছিল সমস্ত ইহুদী জাতিকে ধ্বংস করা"। আমরা বাঙ্গালীরা কি নাজী বা নাৎসী?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সিটিজেন ভিজিল্যান্টি থেকে কালেমার মিছিল: সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কতগুলো অশনি সংকেত - প্রথম পর্ব

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৮


গত মাসে আমেরিকায় "সিটিজেন ভিজিল্যান্টি" নামে মুসলিম ও অভিবাসীবিদ্বেষী একটি সিনেমা মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটি প্রথমদিকে দর্শকদের মধ্যে তেমন জনপ্রিয় হয়নি। পরে যখন ইলন মাস্ক এক্স প্ল্যাটফর্মে তার ২৪ কোটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

'গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড' আন্দোলন কেন ব্যর্থ হলো

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



মাও সে তুং-এর গৃহীত "গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড" (১৯৫৮-১৯৬০) আন্দোলনটি মূলত অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা, চরম অব্যবস্থাপনা এবং ভুল কৃষি নীতির কারণে মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও মানবিক বিপর্যয়ে পরিণত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ ফিরতে পারে, তবে…

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২০




১। ২০১২ থেকে সংঘটিত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১২ বছরের গু/ম, খু/ন, অ*পশাসন, গণতন্ত্র হ*ত্যা, নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বং*স, দুর্নী*তি, বাকস্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার হরণের মাত্রা এমন চরমই ছিল যে, শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিনেমা-গান-খেলাধুলা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ২:১৭

আইন সমাজ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি নয়। আইন দৃশ্যমান, প্রতিরোধযোগ্য। সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো মানুষকে নিজেই নিজের আনন্দ নিষিদ্ধ করতে শেখানো। জীবন থেকে আনন্দের উচ্ছেদ ঘটানো। এই কাজটি বাংলাদেশে গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রতি বছর জুলাই আসলেই কি কাউয়া ক্যাচাল লাগতে হবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:৫০


জুলাই মাসটা আবার ঘুরে ফিরে আসতেই দেশের রাজনৈতিক পাড়ায় পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যারা গত দুই বছর আগের আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলেছেন, তাদের কাছে এই জুলাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×