আমাদের দেশের ইতিহাসও একই রকম। দুর্ভাগ্যক্রমে আমাদের মা কেউ ই না। হাসিনা বা খালেদা যে কোন মূল্যে মা হতে চান। মা হওয়ার প্রতিযোগিতায় সন্তান মারা গেলেও তাদের কিছু যায় আসে না। যে কোন মুল্যেই তাদের মা হওয়া চাই। শেখ মুজিবের স্বাধীনতা পুর্ব রাজনৈতিক আন্দোলন নিশ্চয়ই অনেক গৌরবের। কিন্তু সে কথা আমাদের বলতে দেয়া হবে না। তার একমাত্র দাবীদার আওয়ামী লীগ, বাঙ্গালী জাতি নয়। আমাদের তাকে জাতির পিতা বলতে হবে না, আওয়ামী লীগই তা আমাদের উপর চাপিয়ে দেবে।
ঠিক তেমনিই স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া। স্বাধীনতার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, জিয়া স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছিলেন। আর বাকী ইতিহাস না জনলেও চলে। বি এন পি বিষয়টা এমনিই আমাদের উপর চাপিয়ে দিতে চায়। কিন্তু শেখ মুজিবের একনায়কতন্ত্রের কথা আ: লীগ কখনোই স্বীকার করবে না। জিয়ার সামরিক একনায়কতন্ত্রের কথা বি এন পি ও মানবে না।
তারচেয়েও দু:খের বিষয় তথাকথিত বুদ্ধিজীবিরাও নিরপেক্ষ মত দেবেন না। এর মাঝামাঝি জাতাকলে পড়েছে আস্তমেয়ের মতো নতুন প্রজন্মের মানুষরা, যারা আমাদের দেশের ভবিষ্যতের কর্ণধার হতে পারেন। ময়লাগুলো তাদেরকেই কার্পেটের নীচ থেকে উদ্ধার করে আস্তাকুড়ে ফেলতে হবে।
কথায় কথা এসে যায়। হুমায়ুন আজাদকে যারা খুন করতে চেয়েছিল, শহীদ বুদ্ধিজীবিদের যারা খুন করেছে, তাদের কি কোন আদর্শগত মিল নেই? অথচ স্বাধীন হয়েও আমাদের পূর্বসুরীরা এ নিয়ে তেমন মাথা ঘামান নি। শুধু দেশ স্বাধীন করেছেন কিন্তু এর সঠিক ইতিহাস সংরক্ষনের কোন চেষ্টাই করেন নি। কোন প্রশ্ন উঠলেই, "আহা! তুমি তবে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি"- অথচ স্বাধীন মানেই হচ্ছে চিন্তায়ও স্বাধীন। হয়তো একদিন আমরা এর বেড়াজাল থেকে মুক্ত হবো, যখন স্বাধীনতা ও তার ইতিহাস কারো ব্যাক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে না।
সে কারনে আস্তমেয়ের দাবী আমরা আমাদের উন্নাসিকতা নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব কার্পেটের নীচে চালান করে দিই। আসলে আমাদের উচিৎ নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের জাতির ইতিহাস পরিস্কার করে তুলে ধরা, যাতে তারা প্রসারিত দৃষ্টি নিয়ে সামনের দিকে তাকাতে পারেন। তা না হলে আমরা রয়ে যাব সেই তিমিরেই, যে তিমিরে এতদিন ছিলাম।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



