somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আস্ত মেয়ের দাবী ও আমাদের স্বাধীনতা

২৬ শে মার্চ, ২০০৬ সকাল ৯:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মুক্তির সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগা্রম আমিও দেখেছি। আমাদের স্বাধীনতা দলীয়করণও দেখেছি। এই প্রসঙ্গে একটা গল্প মনে পড়ছে। দুই মা একটি শিশুর মাতৃত্ব দাবী করছেন। সবাই দু'জনকে একজন বিচারকের কাছে নিয়ে গেল। বিচারক একটি বৃত্ত একে শিশুটিকে তার ভেতর দাঁড় করিয়ে বললেন, 'আপনারা শিশুটির দু'হাত ধরে টানুন। যে শিশুটিকে নিজের দিকে টেনে নিয়ে যেতে পারবে, সেই আসল মা।' একজন প্রাণপণে শিশুটিকে নিজের দিকে টানল। ব্যথায় কুঁকড়ে উঠল শিশুটি। শিশুটির কষ্ট দেখে অন্য মা তার হাত ছেড়ে দিল। বিচারক যে মা বাচ্চাটির হাত ছেড়ে দিল, তাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি শিশুটি দিয়ে দিলে কেন ?' 'মা হয়ে সন্তানের কষ্ট সহ্য করতে পারছিলাম না।' বলাই বাহুল্য তিনিই সত্যিকারের মা।

আমাদের দেশের ইতিহাসও একই রকম। দুর্ভাগ্যক্রমে আমাদের মা কেউ ই না। হাসিনা বা খালেদা যে কোন মূল্যে মা হতে চান। মা হওয়ার প্রতিযোগিতায় সন্তান মারা গেলেও তাদের কিছু যায় আসে না। যে কোন মুল্যেই তাদের মা হওয়া চাই। শেখ মুজিবের স্বাধীনতা পুর্ব রাজনৈতিক আন্দোলন নিশ্চয়ই অনেক গৌরবের। কিন্তু সে কথা আমাদের বলতে দেয়া হবে না। তার একমাত্র দাবীদার আওয়ামী লীগ, বাঙ্গালী জাতি নয়। আমাদের তাকে জাতির পিতা বলতে হবে না, আওয়ামী লীগই তা আমাদের উপর চাপিয়ে দেবে।

ঠিক তেমনিই স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া। স্বাধীনতার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, জিয়া স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছিলেন। আর বাকী ইতিহাস না জনলেও চলে। বি এন পি বিষয়টা এমনিই আমাদের উপর চাপিয়ে দিতে চায়। কিন্তু শেখ মুজিবের একনায়কতন্ত্রের কথা আ: লীগ কখনোই স্বীকার করবে না। জিয়ার সামরিক একনায়কতন্ত্রের কথা বি এন পি ও মানবে না।

তারচেয়েও দু:খের বিষয় তথাকথিত বুদ্ধিজীবিরাও নিরপেক্ষ মত দেবেন না। এর মাঝামাঝি জাতাকলে পড়েছে আস্তমেয়ের মতো নতুন প্রজন্মের মানুষরা, যারা আমাদের দেশের ভবিষ্যতের কর্ণধার হতে পারেন। ময়লাগুলো তাদেরকেই কার্পেটের নীচ থেকে উদ্ধার করে আস্তাকুড়ে ফেলতে হবে।

কথায় কথা এসে যায়। হুমায়ুন আজাদকে যারা খুন করতে চেয়েছিল, শহীদ বুদ্ধিজীবিদের যারা খুন করেছে, তাদের কি কোন আদর্শগত মিল নেই? অথচ স্বাধীন হয়েও আমাদের পূর্বসুরীরা এ নিয়ে তেমন মাথা ঘামান নি। শুধু দেশ স্বাধীন করেছেন কিন্তু এর সঠিক ইতিহাস সংরক্ষনের কোন চেষ্টাই করেন নি। কোন প্রশ্ন উঠলেই, "আহা! তুমি তবে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি"- অথচ স্বাধীন মানেই হচ্ছে চিন্তায়ও স্বাধীন। হয়তো একদিন আমরা এর বেড়াজাল থেকে মুক্ত হবো, যখন স্বাধীনতা ও তার ইতিহাস কারো ব্যাক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে না।

সে কারনে আস্তমেয়ের দাবী আমরা আমাদের উন্নাসিকতা নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব কার্পেটের নীচে চালান করে দিই। আসলে আমাদের উচিৎ নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের জাতির ইতিহাস পরিস্কার করে তুলে ধরা, যাতে তারা প্রসারিত দৃষ্টি নিয়ে সামনের দিকে তাকাতে পারেন। তা না হলে আমরা রয়ে যাব সেই তিমিরেই, যে তিমিরে এতদিন ছিলাম।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
২৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা ভয়ংকর

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



বাঙালির উদরঘাটতি থাকলেও উৎসবে সদা মশগুল!
দ্যাশ নতুন কইরা স্বাধীন হইছে গো!
রঙবেরঙে পতাকায় বিলুপ্ত স্বজাতির মানচিত্র!

শুধু পতাকায় সীমাবদ্ধ নেই!
মনে হচ্ছে পাল্টে গেছে জাতীয়তা!
মধ্যরাতে ভেঙে যায় সুনিদ্রা কর্কশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০১


জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

আমাদের দৃষ্টিতে, তথাকথিত "জুলাই" বাংলাদেশের জন্য কোনো গৌরবের অধ্যায় নয়; বরং এটি জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা, অর্থনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাংগুক অচলায়তন

লিখেছেন মাসুদ রানা শাহীন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৯


ভয় পাবেন না
আশার পিদিম জ্বালিয়ে রাখুন
প্রাণের ধুকপুকি জাগিয়ে রাখুন
হেরে যাবেন না।

ঘাবড়াবেন না
নতুন স্বর ও সাহসী উচ্চারণে অনবদ্য হোন
ক্ষুরধার সৃষ্টির ঔজ্জ্বল্যে উদ্ভাসিত হোন
থামবেন না।

নগদমূল্যে বিকোবেন না
ক্লান্ত শিরায় নতুন রক্ত বইয়ে দিন
তাতিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতিসত্তার পরিচয়ের বাজার

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:২১

ইতিহাসে কোনো আদর্শ সত্যিকার অর্থে মরে না। সে শুধু নাম বদলায়, পরাজিত আদর্শেরও পুনর্জন্ম হয়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগ একটি আসনও পায়নি। কিন্তু সেই রাতে মুসলিম লীগ মরেনি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×