somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের বর্তমান বিশ্ব ও একটি ছোট্ট পরিত্রমা

০৫ ই এপ্রিল, ২০০৬ সকাল ৮:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি, দুটো মানব ও মানবতাবিধ্বংসী বিশ্বযুদ্ধের পর অলিখিত নতুন এক নিয়ম পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ছোট ছোট রাজতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙ্গে গনতান্ত্রিক কাঠামোর বিস্তার হয়। রাষ্ট্রনৈতিক সমাজব্যাবস্থাকে ভিত্তি করে দু'টো জোট তৈরী হয়। একটি পশ্চিমি ধনতাস্ত্রিক জোট ও আরেকটি পুর্ব সমাজবাদী জোট। এরই নিক্তিতে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয় এই দুই জোটের ভারসাম্যহীনতা যাতে কোন বিধ্বংসী পর্যায়ে না যেতে পারে। আরেকটি যুদ্ধের ধংসলীলা যাতে পৃথিবীবাসীকে দেখতে না হয়। এই জাতিসংঘই ছিল তখনকার একটি মাত্র স্থান, যেখানে সব দেশের রাষ্ট্রনেতারাই মুখোমুখি হতে পারেন।

কিন্তু তারপরেও জাতিসংঘে একটি সার্বক্ষনিক অচলাবস্থা বিরাজমান। নিরাপত্তা পরিয়দে দুই জোটের অনঢ় ও নীতিবোধ বিবর্জিত অবস্থান কার্যকরী কোন পদেেপর সহায়ক ছিলনা। এই অচলাবস্থায় নতুন কোন বিশ্বযুদ্ধের শুরু না হলেও একটি যুদ্ধপরিস্থিতি সবময়েই বিরাজমান ছিল। পরিনামে শুরু হয় বিরামহীন অস্ত্রপ্রতিযোগিতা। এতে আরেকটি যুদ্ধের সম্ভাবনা ও আনবিক অস্ত্রের ভীতি জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বিশ্বরাজনীতির নিয়ন্ত্রণ গ্রহন করে।

আশি শতাব্দীর মাঝামাঝি আরেকটি বড় ধরণের পরিবর্তন ঘটে পৃথিবীর রাজনৈতিক ধারায়। পশ্চিমা জোটের বানিজ্যিক প্রসার, বড় বড় বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর একত্রীকরণ তাদেরকে অর্থনৈতিকভাবে আরো বেশী শক্তিশালী করে তোলে। এর উত্তর দেয়ার মতো কোন ক্ষমতাই পুর্ব জোটের ছিলনা। বরং সে দেশগুলোতে এক ধরণের অর্থনৈতিক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। এই অর্থনৈতিক মন্দা, সাধারন মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রন অধিকারের উপর ত্রমবর্ধমান আঘাত ও কম্যুনিষ্ট ও সোসালিষ্ট ক্ষমতাচক্রের সেচ্ছাচারিতা এই দেশগুলোর অধিবাসীদের ক্রমশ:ই বিদ্রোহী করে তোলে। এই প্রতিযোগিতায় তারাই যে বিজিত, তা সময়মতো অনুধাবন করেন পুর্ব জোটেরই একজন ক্ষমতাশীন রাজনীতিবিদ। সুতরাং এই অসম প্রতিযোগিতার সমাপ্তি টেনে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে নতুনভাবে সাজানোর পদক্ষপে নিলেন। সোভিয়েট ইউনিয়নের মিশাইল গর্বাচভ তার পেরিষ্ট্রোয়িকার দের সঙ্গী করে শান্তি ও মানবিকতার সপক্ষে অবস্থান নিয়ে 1990 সালে পুর্ব জোটের অবসান ঘটালেন । 'শান্তিপূর্ন পৃথিবীর' যে সপ্ন একদিন বিরাজমান, তার কাছাকাছি আসার এক অভুতপুর্ব সুযোগ তৈরী হলো।

কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলো বিশ্বশান্তির এই অভূতপুর্ব সুযোগকে কাজে লাগাতে সচেষ্ট না হয়ে নিজেদের জয় ও আত্মপ্রচারে ব্যাস্ত হয়ে উঠলো। যদিও নতুন পৃথিবী ও শান্তির স্বপক্ষে বুলি আওড়ানো হলো বারবার, সবার আগে রইলো তাদের সেচ্ছাচারী, আগ্রাসী ও উন্নাসিক দৃষ্টিভঙ্গী। একমাত্র পরাশক্তি হিসেবে অবশিষ্ট রইলো আমেরিকা। তাদের সে মতা নিয়ে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার সে সুযোগ তাদের হাতে আসল, তারা তার অপব্যাবহার করে তাদের নিজস্ব প্রতাপ প্রতিষ্ঠাতেই ব্যাস্ত হয়ে উঠলো। নিজেদেরকে একধরণের সেচ্ছাচারী 'বিশ্বপুলিশ' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করলো তারা। শুধুমাত্রই আমেরিকানদের স্বার্থরক্ষা এই বিশ্বপুলিশের একমাত্র দ্বায়িত্ব। জুনিয়ার বুশের একটি বাক্যেই তাদের বক্তব্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। " যারা আমাদের মতের অনুসারী নয়, তারাই আমাদের শত্রুপক্ষ।" নতুন শত্রুপক্ষ তৈরী হলো এভাবেই। ইরাক ও পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মগোষ্ঠি মুষলমানদেরকে তারা তাদের প্রধান শত্রুপক্ষ হিসেবে দাঁড় করালো। এর প্রতিবাদী শক্তি হিসেবে সারা পৃখিবীব্যাপী ধর্মীয় মৌলবাদ ও সন্ত্রাস। সে সব প্রতিরোধ এখন অবধি শান্তিপুর্ন, সেগুলোও একসময় সন্ত্রাস, অপরাধ ও অবশেষে পৃথিবীব্যাপী রক্তয়ী যুদ্ধে পরিনত হতে পারে।

সন্ত্রাস বিরোধী আখ্যা দিয়ে যুদ্ধকে শান্তির সপক্ষে যুদ্ধ হিসেবে সাজানো হয়েছে। নিজেদের প্রতিরক্ষা হিসেবে আমেরিকানরা যে কারণ দেখায়, তা তাদের অর্থনৈতিক আগ্রাসনেরই ফসল। যেহেতু তাদের সবগুলো যুদ্ধই তথাকথিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, যুদ্ধবন্দীদের সন্ত্রাসী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাধারণ যুদ্ধবন্দী হিসেবে তাদের যে অধিকার তাদের প্রাপ্য, তারা তা পায়না। লোকচুর আড়ালে ভয়াবহ নির্যাতন ও মানবিক অপমানের শিকার হয় তারা। এখানে আরও উল্লেখযোগ্য যে, যেহেতু এই যুদ্ধ সস্ত্রাসবিরোধী মুখোসের অন্তরালে চলছে, সাধারণ মানুষের সাধারণ আত্মনিয়ন্ত্রণঅধিকারও হৃাস পাচ্ছে প্রতিদিনই।

পরিসংখ্যাবিদদের মতে ধনী দেশগুলোর শোষনের প্রভাবে প্রতিদিন গড়ে এক লক্ষ মানুষ মারা যাচ্ছেন। 2500 মিলিয়ন দরিদ্রের সম্পদ প্রথম 340 জন ধনীর হাতে। এই দরিদ্রদের নেই পান করার পর্যাপ্ত পানীয় জল, প্রতদিনের আহার ও শিক্ষার কোন ব্যাবস্থা। এবং এই দরিদ্রদের মাঝে সে অংশটি প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে, যারা জনে, তাদের এই দুরবস্থায় কাদের সবচেয়ে বেশী অবদান। একসময় তারা যখন তার উত্তর দিতেও সচেষ্ট হবে, তখন হয়তো আরেকটি নতুন পৃথিবীর মুখোমুখি হবো আমরা।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিংকর্তব্যবিমূঢ়

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৩৩


দীর্ঘদিন আগে আমার ব্যক্তিগত ব্লগ সাইটের কোন এক পোস্টে ঘটা করে জানান দিয়ে ফেইসবুক থেকে বিদায় নিয়েছিলাম। কারণ ছিলো খুব সাধারন বিষয়, সময় অপচয়। স্ক্রল করে করে মানুষের আদ্য-পান্ত জেনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গেরুয়া মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ: একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও শিক্ষা।

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮


দীর্ঘ ১৫ বছরের টিএমসির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই ভূমিধস জয়ের পেছনে অবশ্য মোদি ম্যাজিকের চেয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যর্থতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজের দোষ দেখা যায় না, পরের দোষ গুনে সারা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই মে, ২০২৬ রাত ২:১০


ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পতন নিয়ে বাংলাদেশে যে পরিমাণ চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে, তা দেখে অবাক না হয়ে উপায় নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলেই দেখা যায় অদ্ভুত সব তত্ত্ব। ফেইসবুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×