কেউ যদি মনে করে একটি গাছের চারপাশ ঘুরে দশবার নাচলেই বৃষ্টি নামবে, তাহলে সে তা করতে পারে। আমার কোনই আপত্তি থাকবে না। তবে আমাকে নাচতে বললে আমি তা করবো না। আসলে বেশীরভাগ মানুষই সত্যসন্ধানী নয়। তারা খোঁজে একটি ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুভুতি। তুলনামূলকভাবে এটি একটি সহজতর পথ। এখানে একটি অন্ধ ও ভোতা বিশ্বাসকে আকড়ে ধরে সবরকম বৈজ্ঞানিক প্রশ্ন, যুক্তি ও পথকে অস্বীকার করা যায়।
তারপরেও আমার চোখ, কান বন্ধ করে নি:শ্চুপ থাকায় তেমন সমস্যা হতোনা, যদি ধর্ম মানবজাতির জন্যে শুধুমাত্র মঙ্গলই বয়ে নিয়ে আসতো। প্রায় প্রতিটি ধর্ম প্রতিষ্ঠার পেছনে রয়েছে রক্তয়ী যুদ্ধ, সাধারন মানুষের উপর অবর্ননীয় অত্যাচার। সে যুদ্ধ এখনও চলছে। এমনকি অতি উন্নত দেশের অতি সভ্য মানুয়েরাও সে যুদ্ধে অস্ত্র হাতে খুনী হতে দ্বিধা বোধ করেনা। প্রতিদিন পত্রিকা-টেলিভিশনে মানব জাতির এই বিপর্ষয়ের সংবাদ পড়ে মুহুর্তেও ভাবার অবকাশ ঘটে না যে পৃথিবীটা একজন ভালো, সৎ ও দয়ালু ঈশ্বরের হাতে পরিচালিত। ঈশ্বর নিজে এই হানাহানি, হিংসা, অত্যাচার কিভাবে সহ্য করেন তা জানার ক্ষমতা আমার নেই। আর যখন দেখি ঈশ্বরেরই অনুসারীরা ধর্মের নামে সারা পৃথিবীতে হানাহানি ও হত্যাজজ্ঞে মত্ত, তখন ঈশ্বরের প্রতি আমার বিশ্বাস ও ভালোবাসা কি করে অটুট রাখবো তার কোন উত্তর আমার জানা নেই। খ্রীষ্টান বা মুসলিমদের ইতিহাস শুধুমাত্র ধর্ম ও মানবতার ইতিহাস নয়। প্রত্যেকেই যে যার ঈশ্বরকে যে ভাবে খুশী তৈরী করে নিজেদের কাজেই লাগিয়েছে।
বিশ্বাস কোন বিজ্ঞান মানে না। বিশ্বাস কোন একটি পথকে শুধুমাত্র অন্ধভাবে অনুসরণ করতে বলে। কারণ আমাদের আগের মানুষরাও সেই পথটিই দেখিয়েছেন। যে ঈশ্বর শুধুমাত্র এই অন্ধবিশ্বাসের জোরেই মানুষের মস্তিষ্কে বিরাজমান, ও তার কারনে মানবতার যে ক্ষতি, আমরা আজ সেই ক্ষতিরই মুখোমুখি।
তারপরেও ধর্মের প্রতি মানুষের দূর্বলতা থাকবেই। এতটাই প্রকট সে দূর্বলতা যে, এজন্যে তারা তাদের সুস্থ মাথার চিন্তা ও বিজ্ঞানকেও জলান্জলী দিতে তৈরী। আমার কাছে তার একটাই কারণ। পৃথিবীটাকে আমরা যেমন ভাবে দেখতে ও পেতে চাই, তা সেরকম নয়।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



