somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

'সাংবাদিকদের হাড্ডি ভাঙ্গ!' তখনকার মন্ত্রীর ডাক

১৮ ই এপ্রিল, ২০০৬ সকাল ৭:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাংবাদিকদের উপর আক্রমন নতুন কোন ঘটনা নয়। আওয়ামী আমলেও ন্যাক্কারজনক আক্রমনের শিকার হয়েছেন আমাদের দেশের সাংবাদিকরা। সেই সময়ের সমাকল্যান মন্ত্রী মোজাম্মেল হোসেন প্রকাশ্য সভায় সাংবাদিকদের প্রহারের জন্যে উস্কানি দিয়েছিলেন। 25 শে অক্টোবর 2001 সালে সাতক্ষীরার নিজদলের এক সভায় তার ঘোষনা ছিল দলীয় ক্যাডারদের প্রতি, "যেখানেই কোন সাংবাদিক দেখবে, পিটিয়ে হাড্ডি ভাংবে তাদের।" সাংবাদিকদের কোন অভিযোগ যাতে গ্রহন না করা হয়, এই মর্মে পুলিশদের প্রতিও নির্দেশ ছিল তার। প্রায় এক ডজন সাংবাদিক তার এই উস্কানীমুলক বক্তব্যে পালাতে বাধ্য হন।

কিন্তু তাদের দোষ ছিল কি? দেশের দক্ষিনপশ্চিমাংশে বন্যা হয়েছিল। বন্যার ত্রানসামগ্রী বিতরণ নিয়ে অসততা ও অব্যাবস্থা রিপোর্ট লিখেছিলেন তারা তাদের পত্রিকায়। আর এতেই নাখোশ হয়ে মন্ত্রীমহোদয় প্রকাশ্যে তাদের পেটানোর আহবান জানিয়েছিলেন।

মন্ত্রীমহোদয়ের এই উদ্দাত্ত আহবান বিফলে যায়নি। একদিন পরই সশস্ত্র আওয়ামী ক্যাডাররা সাতক্ষীরার প্রেসকাবে আক্রমণ চালায়। দৈনিক 'সাতক্ষীরা চিত্র' প্রধান সাংবাদিক আনিসুর রহিমের উপর দুইবার গুলি চালিয়ে মারাত্বকভাবে আহত করা হয় তাকে। অন্যান্য সাংবাদিকদের নির্মমভাবে পেটানো ও প্রেসকাবে ভাংচোর করা হয়।

এর আগে 20 শে অক্টোবরে আওয়ামী ক্যডাররা একই অভিযোগে দৈনিক লোকসমাজের রিপোর্টার সোহবাব হোসেনকে আক্রমণ করে। পুলিশ আক্রমণকারীদের একজনকে ধরলেও পরে আওয়ামী ক্যডারদের বিক্ষোভের মুখে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

এবছরের ষোলই এপ্রিলের ঘটনা তাই একক কোন ঘটনা নয়। এটা আমাদের দেশের রাজনীতি ও মতস্বাধীনতার সামপ্রতিক একটি চিত্র মাত্র। দেশে ক্ষমতাসীনদের চেহারা পাল্টেছে অনেকবার, কিন্তু তাদের বর্বরতা কখনোই সামান্যতমও পাল্টায়নি। এই ন্যাক্কারজনক চিত্র আমরা যুগ যুগ ধরে দেখে আসছি ও প্রতিদিনই আরো বেশী প্রকটভাবে দেখতে বাধ্য হচ্ছি।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×