ধর্ম নিয়ে আলোচনা এখানে সবসময় চলে, সামনেও চলবে। পক্ষে ও বিপক্ষে দুটো দল রয়েছে। অন্যান্য অনেক অলোচনার মাঝে একদল ধর্মকে বৈজ্ঞানিক প্রমানে মহাব্যাস্ত, আরেক দল ধর্মকে তাতি্বক আলোচনায় মিথ্যে, জীবনের েেত্র অপ্রয়োজনীয় প্রমানে বদ্ধপরিকর। এই রশি টানাটানিতে কোন দলই সামান্যতমও ছাড় দিতে প্রস্তুত নয়।
"সবরকম বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার উত্তর কোরানেই রয়েছে"- একদিকে এমন এক দাবী, "কোরানে সব বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সঠিক নয়" আরেকদিকে কোরানের কাছে এই প্রত্যাশা। আমার কাছে দুটোই বাড়াবাড়ি ও রাষ্ট্র ও সমাজভিত্তিক বৈজ্ঞানির চিন্তার পরিপস্থি। যে দেশে ধর্মের অনুশাসন রাষ্ট্রনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করায় সচেষ্ট হয়, সে দেশেই সমাজ, সামাজিক অধিকার, শিক্ষা, প্রায় প্রতিটি দিকেই ধর্মীয় বৈষম্য রাষ্ট্রীয় উন্নতির চাকাকে ব্যহত করে। অন্যদিকে ধর্ম একটি মানুষের নিজস্ব আত্মার ভেতরে বসবাসকারী, সযত্নে লালিত বিশ্বাস। এই বিশ্বাসের ভেতরে বৈজ্ঞানিক যুক্তির কোন স্থান নেই, কোন প্রমানও নেই। সে প্রমান খুঁজতে যাওয়া বা প্রত্যাশা করা নিতান্তই বাতুলতা মাত্র। পরিনামে শুরু হয় বিভিন্ন পরস্পরবিরোধী ব্যাখ্যার এদিক সেদিক অবিরাম ছোড়াছুড়ি। এতে যে অর্থহীন রশি টানাটানি চলে, তাতে ব্যহত হয় ধর্মের স্বাভাবিক প্রসার আর রাষ্ট্র ও সামাজিক অগ্রগতির পথ।
একটি সমাজে ধর্মের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। অনেকেই ধর্মীয় চিন্তার মাঝে নিজের আত্মার শান্তি খুজে পান। সেটা সে মানুষটির একান্ত নিজস্ব অনুভূতি। সামাজিক শান্তির ও সুবিচারের জন্যেও ধর্মের প্রয়োজন অনেক ক্ষেত্রে। ধর্মভয়েও কেউ কেউ সামাজিক অপরাধ থেকে নিজেকে বিরত রাখেন। মৃত্যু পরবর্তী শাস্তির ভয় শানিত খাড়ার মতো চমকে ওঠে চোখের সামনে। এসব অস্তিত্বের সামনে সাধারন মানুষের নিরাপত্তার প্রশ্নে ধর্মের প্রভাব অস্বীকার করার নয়। তবে একজন সত্যিকারের সামাজিক শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষ ধর্মের প্রভাবে না থেকেও সমাজকে ভালো কিছু দেবার মতা রাখেন। তার অবদানও অস্বীকার করার নয়। আসলে সত্যিকারের লক্ষ হচ্ছে, জীবনের বিভিন্ন পথে প্রতিটি মানুষের সামাজিক অধিকার ও পারস্পরিক কর্তব্যবোধের প্রতিষ্ঠা। একই লক্ষে পৌছানোর অনেক পথ থাকতে পারে। এ পথগুলো পরস্পরবিরোধী না হয়ে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই পরস্পরের সম্পূরকও হতে পারে।
"যত মত, তত পথ", কথাটি ফেলে দেয়ার মতো নয়। ধর্মীয় মতের প্রশ্নেও এ কথাটি প্রযোয্য। প্রত্যেক ধর্মেরই ভালো দিক রয়েছে। ধর্মহীন শিক্ষার বেলাতেও একই কথা প্রযোয্য। শুধুমাত্র পথের আলাদা বিস্তার। আমরা বিকল্প পথের কথা ভাবলেই অন্ধকার দেখি। আমাদের দৃষ্টিকে যতোটা পারি সঙ্কুচিত করি। নানা ধরনের অপাংতেও ব্যাখ্যায় নিজের চিন্তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমানে ব্যাস্ত হয়ে পড়ি। এতে নষ্ট হয় আমাদের চিন্তার মানবিক দিকগুলো, আর বিনষ্ট হয় সামাজিক ব্যক্তিত্ব। অথচ আমরা সবাই জানি যে প্রসারিত দৃষ্টিভঙ্গি সামাজিক ও মানবিক অগ্রগতির সবচেয়ে উর্বর ভুমি।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



