somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছোট মানুষদের কথা বলি, শুনবেন ?

১০ ই মে, ২০০৬ সকাল ৮:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ধর্ম নিয়ে অনেক বড় বড় আলোচনা চালিয়েছি আমরা। হাদিসের সত্যতা, এর উৎস, ব্যুৎপত্তি, আধ্যাতিকতা, সুফীবাদ নিয়ে কথার ফুলঝুড়ি ছড়িয়েছি। সাধারণ মানবিকতার কথা আমরা তেমন একটা তুলতে চাইনা, অথচ এর উপর ভিত্তি করেই প্রসারিত হয় ধমর্ শিক্ষা। আমি তাই অতি সাধারন মানুষের কথা তুলতে চাচ্ছি। এই সাধারন মানুষগুলো আমাদের বাড়ীর কাজের মানুষ, যাদেরকে আমরা চাকর বলে থাকি। কেউ কেউ নাক হয়তো সিটকাবেন। বলবেন, " ব্যটার কাজ নেই আর, চাকরের কথা লিখছে। তা, লুঙ্গী গামছা পরে ওদের দলে যোগ দিলেই পারে!" এরকম বলেছিলেনও একজন কোন এক তর্কে। আমি বলেছিলাম," না ভাই, তা হতে দিচ্ছি না। তাহলে তো আমাকে এখনই লাথি মেরে মাটিতে ফেলবেন।"

পৃথিবীর অনেক দেশ ঘুরেছি। কিন্তু কোথাও কাজের লোক বা অধস্তনের সাথে এত দুর্ব্যাবহার করতে দেখিনি কাউকে যেমন আমাদের দেশে ও উপমহাদেশে করা হয়। আমার এক দেশী বন্ধু তার মরক্কোর বউকে নিয়ে গিয়েছিল দেশে। কাজের মেয়ের এ অবস্থা দেখে মরক্কোর এই মহিলা বড় একটা ধাক্কা খেয়েছেন। বলেছেন, " তোমাদের কাজের বাচ্চা মেয়েটা যে কামিজ পড়ে থাকে, তা কখনো শুকোতে দেখিনি। সবসময় ধোওয়াধুয়ির কাজে ভিজে থাকে। আর সবাই তাকে ধমক দিয়ে কথা বলে, এমনকি ভাইয়ের ছোট্ট ছেলেটাও।" বলাবাহুল্য মরক্কো কোন ধনী দেশ নয়। তারপরেও সে দেশে শ্রেনীবৈষম্যের এতোটা কুপ্রভাব নেই যা আমাদের দেশে দেখা যায় প্রতিনিয়ত। ইউরোপে কাজের লোকের সাথে এক টেবিলেই বসে খাওয়াদাওয়া হয়। তাদেরকে আপনি করে বলা হয়। মানুষ হিসেবে সন্মান করা হয়। কোন পাঠক কি আমাদের দেশে এটা কল্পনা করতে পারেন ?

আমাদের দেশে তাদেরকে সারাদিন একমুহুর্তও বিশ্রাম দেয়া হয়না। প্রত্যেকটি কথার সাথে ধমক তাদের প্রাপ্য। বাসী, পঁচা, নিকৃষ্টতম খাবার দেয়া হয় তাদের। তাদের খাবার জায়গা হচ্ছে রান্নাঘরের নোংরা মেঝে। অনেকসময় তা তাদের ঘুমোনেরও জায়গা। মোদ্দাকথা এই যে, একটি মানুষ হিসেবে যতোটা সন্মান তাদের প্রাপ্য, আর যৎসামান্য অংশও তাদের ভাগ্যে জোটে না। কিন্তু এমন অবস্থার কারন কি? ধর্ম আমাদেরকে সাম্যবাদের শিক্ষা দিয়েছে। আমরা তার কতটুকু পালন করি ? করতে পারি না কেন ? কারন আমি বলবো আমাদের ভেতরে মনুষ্যত্ব নেই। অধস্তনের প্রতি মনুষত্বহীনতা আমাদের জাতীয় চরিত্রের অংশ। একটা অল্পবয়স্ক ছেলে একজন রিক্সাচালককে তুই করে বলতে দ্বিধা করে না। একজন মুটে, যিনি সকাল থেকে রাত অবধি অকান্ত পরিশ্রমে সংসার চালান, তাকে আমরা মানুষ মনে করি না। আমরা আমাদের সুবিধার জন্যে তাদেরকে একটা শ্রেনীতে ফেলেছি। সেখানেই তাদের ও তাদের সন্তানসন্ততিদের সাবর্ক্ষনিক স্থান। এ অবস্থা থেকে কোন মুক্তি তাদের নেই, আমরা তা হতেও দেব না। আমরা আমাদের ধর্ম, জাতি নিয়ে বড় বড় কথা বলে যাব, কিন্তু যে প্রশ্ন মনুষ্যত্বের কথা বলে, তার মুখোমুখি হবার সাহস আমাদের নেই।

ধর্ম মানুয়ের জন্যে, পশুর জন্যে নয়। যার ভেতরে মনুষ্যত্ব নেই, সে কি মানুষ, আমরা কি মানুষ ? অমানুয়ের কি কোন ধর্মের অধিকার আছে, মুসলিম, হিন্দু , বৌদ্ধ বা খ্রীষ্টান। তার কি কোন জাতিগত স্থান রয়েছে ? আমার মতে নেই। যাদের আছে,তারা পালন করেন তাদের ধর্ম সমাজ ও প্রতিপত্তির কারনে, তাদের আত্মার উৎকর্ষতার জন্যে নয়। যাদের ভেতরে মনুষ্যত্ব অনুপস্থিত, ধর্মে তাদের উপস্থিতি কোন যুক্তিতে সিদ্ধ ?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯২

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১৯



বিএনপি সরকার দেশে ক্ষমতায় আসতে না আসতেই দেশে প্রতারকের সংখ্যা বেড়ে গেছে।
প্রতারক সব আমলেই ছিলো। কিন্তু বিএনপির আমলে যেন প্রতারকের উৎসব শুরু হচ্ছে। দেশে বেড়ে গেছে মারামারি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘স্বর্ণামতি সেতু’ থেকে

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ৩০ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯



আমাদের গ্রামের পাশ দিয়ে একটা নদী বয়ে গেছে। তার একটা আদুরে নাম আছে, ‘স্বর্ণামতি’। কে, কবে, কেন নদীটির এ নাম দিয়েছে, তা আমার অজানা। তবে নামটি আমার খুবই প্রিয়। এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ষড়যন্ত্রঋতু

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:২৯

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সারাবছরই ঐক্যের ঋতু, এখানে রাজনীতিতে শত্রু না থাকলে মিত্র টেকে না। যতদিন হাসিনা ছিল, স্বাধীনতাবিরোধীরা ছিল একটি সুখী পরিবার। বাম জানত ডানকে ঘৃণা করতে হয়, কিন্তু আপাতত স্থগিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার পছন্দের বাংলা গানগুলো

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ রাত ১:১১


অনেকদিনের ইচ্ছে পছন্দের বেশকিছু গান নিয়ে একটা পোস্ট দেব। দেওয়া হয়নি, কারণ, বিষয়টা সময়সাপেক্ষ। আজ হুট করে বসেই পড়লাম। রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুলগীতি, লালনগীতিসহ নানান ধরনের গানের একটা তালিকা করছি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি টুপ করে চলে আসবো

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:১৯


আমি হাসিনা। আমি আমার স্বামী ওয়াজেদ মিয়াকে কোনদিন স্বামীর মর্যাদা দেইনি। সে জ্ঞানী হলেও আমি সবসময় তাকে বাসার কাজের লোকের চেয়ে বেশি কিছু মনে করিনি। আমি সবসময় মৃণাল কান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×