somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডেল কার্নেগী ও রিকশাওয়ালা

১২ ই মে, ২০০৬ ভোর ৬:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দুপুরের ক্লাশটা থেকে বেরিয়ে বেশ ফুরফুরে একটা আত্মতৃপ্তিতে ভরে উঠলো রফিক সাহেবের মন। তৃপ্তির একটা বিশাল ঢেকুঢ় বেরিয়ে আসতে চাইলো গলা ফুড়ে। আসলে ডেল কার্নেগীর ক্লাশ নিতে পারাটাই তার জন্যে আনন্দের। মানুষকে মানুষের মত চলার, মানুষের মতো ব্যবহারের শিক্ষা দেয়ার চেয়ে বড় আনন্দের আর কি হতে পারে ? ছাত্র-ছাত্রীরাও এবার বেশ বুঝতে পেরেছে বলে মনে হলো। নিজের রুম থেকে ছাতাটা নিয়ে বেরুনোর পথে দু'জনের সাথে দেখা হয়েছিল করিডোরে। সসন্মানে সালাম জানিয়ে একপাশে সরে গিয়ে রফিক সাহেবকে পথ করে দিল। এই হলো সত্যিকারের শিক্ষা। শিক্ষককে, গুরুজনকে সন্মান করার চাইতে বড় আর কি হতে পারে!

কিন্তু রাস্তায় বেরিয়ে মনটা ভালো থাকলো না আর। কাঠফাটা রোদ ! রিকসা নেই বললেই চলে। একজন, দু'জন এতটা ইউক্যালিপটাস গাছের ছায়ায় সিটের উপর বসে গামছা নাড়িয়ে বাতাস করছে। তাকে দেখে এগিয়ে আসলো না কেউই। মন খারাপ করে হেঁটে হেঁটেই সেখানে গেলেন রফিক সাহেব। কেউ ফিরেও তাকালো না। জিজ্ঞেস করার পর যেতেও রাজী হলোনা কেউ। মনটা আরো খারাপ হলো তার, সেই সাথে রাগও হলো।

একটা বুড়ো রিকশাওয়ালা দুর থেকে আসছিল ধুকে ধুকে। সাধারনত: রফিক সাহেব এদের রিকশায় চড়তে চাননা। বাড়ী পৌছাতে সময় লাগে বেশী। তাছাড়া হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়লে তার নিজেরই ঝামেলা। এবার অনন্যোপায় হয়ে নিজেই এগিয়ে গেলেন সেদিকে। রিকশাওয়ালা তাকে দেখে থামালো তার রিকশা।

- কাঠালবাগান যাবে ?
- যামু। কাঠালবাগান কনে..?
- ইসকুলের কাছে। কত নেবে ?
- বারো টেকা লাগবো।

দশ টাকায় রফা হলো। রফিক সাহেব রিকশায় উঠলেন হুডটা টেনে বসলেন। রিকশাওয়ালা সেটাকে আরো ভালো আটকে দিল। বসেই আবার ডেল কার্নেগীর ভাবনায় ড়ুবে গেলেন তিনি। সামাজিক শিক্ষা, চলার সুগম পথ তৈরী, বড়দের প্রতি সন্মান, এসব নিয়ে কত ভেবেছেন লোকটি ! আজকাল তো এর মুল্যই দিতে চায়না কেউ। কিন্তু কতোক্ষন পরেই রিকশার গতি দেখে অধৈর্য হলেন তিনি।

- আরে মিয়া একটু টেনে যাওনা।
- সাব, গরমে দম নিতে পারতাছি না। জোরে টানমু কেমনে?

বলেও চেষ্টা করলো আরেকটু দ্রুত টানার। তারপরেও একটু গজগজ করলেন রফিক সাহেব। কাঠালবাগান স্কুল পেরিয়ে আরো আধা কিলোমিটারের মতো দুরে রফিক সাহেবের বাসা। রিকশাওয়ালা ধুকতে ধুকতে সেখানে এনে নামালো তাকে। তিনি তাকে ভাড়া দিলেন।

- সাব এই গরমে স্কুল ছাড়াইয়া এদ্দুর আইলাম। দুই টেকা বেশী দেননা সাব!

রফিক সাহেব তাকে একটাকা বেশী দিলেন। সেটা নিয়ে রিকশাওয়ালা একটু অসন্তুষ্ট হয়েই রিকশা ঘোরাল তার। সেদিকে তাকিয়ে মেজাজ খারাপ হয়ে গেল তার। রফিক কপালের ঘাম মুছে বাড়ীর দরজার দিকে ঘুরে বললেন,

- শুযোরের বাচ্চা।

রিকশাওয়ালা তার দিকে তাকালো একবার। তারপর মুখ ঘুরিয়ে প্যাডেলে চাপ দিল। কাজের বাচ্চা মেয়েটা থুলে দিল দরজা। তাকে পেয়েই দাঁত খিচলেন রফিক সাহেব।

- এতক্ষন লাগে দরজা খুলতে হারামজাদী ?
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মে, ২০০৬ ভোর ৬:১৮
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×