কিন্তু রাস্তায় বেরিয়ে মনটা ভালো থাকলো না আর। কাঠফাটা রোদ ! রিকসা নেই বললেই চলে। একজন, দু'জন এতটা ইউক্যালিপটাস গাছের ছায়ায় সিটের উপর বসে গামছা নাড়িয়ে বাতাস করছে। তাকে দেখে এগিয়ে আসলো না কেউই। মন খারাপ করে হেঁটে হেঁটেই সেখানে গেলেন রফিক সাহেব। কেউ ফিরেও তাকালো না। জিজ্ঞেস করার পর যেতেও রাজী হলোনা কেউ। মনটা আরো খারাপ হলো তার, সেই সাথে রাগও হলো।
একটা বুড়ো রিকশাওয়ালা দুর থেকে আসছিল ধুকে ধুকে। সাধারনত: রফিক সাহেব এদের রিকশায় চড়তে চাননা। বাড়ী পৌছাতে সময় লাগে বেশী। তাছাড়া হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়লে তার নিজেরই ঝামেলা। এবার অনন্যোপায় হয়ে নিজেই এগিয়ে গেলেন সেদিকে। রিকশাওয়ালা তাকে দেখে থামালো তার রিকশা।
- কাঠালবাগান যাবে ?
- যামু। কাঠালবাগান কনে..?
- ইসকুলের কাছে। কত নেবে ?
- বারো টেকা লাগবো।
দশ টাকায় রফা হলো। রফিক সাহেব রিকশায় উঠলেন হুডটা টেনে বসলেন। রিকশাওয়ালা সেটাকে আরো ভালো আটকে দিল। বসেই আবার ডেল কার্নেগীর ভাবনায় ড়ুবে গেলেন তিনি। সামাজিক শিক্ষা, চলার সুগম পথ তৈরী, বড়দের প্রতি সন্মান, এসব নিয়ে কত ভেবেছেন লোকটি ! আজকাল তো এর মুল্যই দিতে চায়না কেউ। কিন্তু কতোক্ষন পরেই রিকশার গতি দেখে অধৈর্য হলেন তিনি।
- আরে মিয়া একটু টেনে যাওনা।
- সাব, গরমে দম নিতে পারতাছি না। জোরে টানমু কেমনে?
বলেও চেষ্টা করলো আরেকটু দ্রুত টানার। তারপরেও একটু গজগজ করলেন রফিক সাহেব। কাঠালবাগান স্কুল পেরিয়ে আরো আধা কিলোমিটারের মতো দুরে রফিক সাহেবের বাসা। রিকশাওয়ালা ধুকতে ধুকতে সেখানে এনে নামালো তাকে। তিনি তাকে ভাড়া দিলেন।
- সাব এই গরমে স্কুল ছাড়াইয়া এদ্দুর আইলাম। দুই টেকা বেশী দেননা সাব!
রফিক সাহেব তাকে একটাকা বেশী দিলেন। সেটা নিয়ে রিকশাওয়ালা একটু অসন্তুষ্ট হয়েই রিকশা ঘোরাল তার। সেদিকে তাকিয়ে মেজাজ খারাপ হয়ে গেল তার। রফিক কপালের ঘাম মুছে বাড়ীর দরজার দিকে ঘুরে বললেন,
- শুযোরের বাচ্চা।
রিকশাওয়ালা তার দিকে তাকালো একবার। তারপর মুখ ঘুরিয়ে প্যাডেলে চাপ দিল। কাজের বাচ্চা মেয়েটা থুলে দিল দরজা। তাকে পেয়েই দাঁত খিচলেন রফিক সাহেব।
- এতক্ষন লাগে দরজা খুলতে হারামজাদী ?
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মে, ২০০৬ ভোর ৬:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




