somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নাটক: নেতাই (প্রথম অঙ্ক)

১৬ ই মে, ২০০৬ ভোর ৪:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শেষ দুটো লেখা পোষ্ট করেছিলাম আমাদের সমাজের অবহেলিত কিছু মানুষদের নিয়ে। এবার একই বিষয় নিয়ে লেখা আমারই এক ছোটগল্পের নাট্যরূপ। তিনটি অঙ্কে ভাগ করে পোষ্ট করছি। আশা করি পড়বেন ও আপনাদের মন্তব্য জানাবেন।
....................................................................................

চরিত্র

নেতাই 10-15 বছর বয়েসী বাসার চাকর
মালিক 45-50 বছর বয়েসী নব্য ধনী ব্যাবসায়ী
মালকিন মালিকের স্ত্রী
মেজমালিক 10-15 বছর বয়েসী মালিকের পুত্র
দিদিমনি 22-27 বছর বয়েসী মালিকের কন্যা
সাহেব দিদিমনির বয়ফ্রেন্ড
মামা মালিকের চেয়েও ধনী মালিকের শালা
সকিনা খালা 30-35 বছর বয়েসী বাড়ীর রাধুনী
তিনজন ডাকাত
মেজমালিকের তিন বন্ধু
বাদাম বিক্রেতা
ট্রেনে বরযাত্রী

প্রথম অঙ্ক

চরিত্র: নেতাই, মেজমালিক, তিন বন্ধু, বাদামওয়ালা।

দৌড়ানোর দৃশ্য বাস্তবায়িত করার জন্যে পর্দা ও প্রজেক্টরের ব্যাবহার হলে ভালো হয়।
জগিং করতে করতে মেজমালিকের প্রবেশ ও প্রস্থান। হাপাতে হাপাতে নেতাইএর প্রবেশ।

নেতাই: (কিছুন দম নিল নেতাই।) আমার দেহি নারিভুরি বাইর অইয়া আইতাসে। সারাদিন দৌড়ের উপর। হেগো খাইয়া দাইয়া কোন কাম নাই, খালি সকাল বেলা ঘুম থেইক্কা উইঠ্যা এই একটু দৌড়। এতে নাকি শইল বালা থাহে, সাইস্থ বালা থাহে। দৌড় শুরু অয় ফজরের আজানের আগেই। বেলা বাড়লে তো আবার রাস্তায় মানুষের জোয়ার শুরু অইয়া যাইব। কিন্তু আমি যে এত দৌড়াই সারাদিন, আমার সাইস্থ্য বালানা কেন। আমার দৌড় তো রাইতেও শেষ অয়না।
(মেজমালিকের দিকে ঈশারা করে)
আর অই হালায় মানুষ ভালানা। হালায় এত ভালা ভালা খাওন খায়, সুন্দর সুন্দর ডেরেস্ পরে, মুখটা এমুন গান্দা করে কেমনে .... বুজি না।

স্টেজের বাইরে মেজমালিকের নেতাই, নেতাই চীৎকার শোনা গেল। মেজমালিক দৌড়াতে দৌড়াতে যেই পথ দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল, সেই পথেই ফিরে এল স্টেজে।

মেজমালিক: এই শালা শুয়ারের বাচ্চা। এখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেন ? দৌড়া, আমার সাথে সাথে দৌড়া।
নেতাই: পায়ে জাম ধইরা গেছে সার। আমি আর পারুম না। একটু জিরাইয়া লই।
মেজমালিক: (চোথ মুখ বিকৃত করে) ইডিয়ট ... জাম ধইরা গেছে না পাছায় চর্বি জমছে ? ছোটলোকের বাচ্চা। দিল এই শুয়ারের বাচ্চা এই সাত সকালে মেজাজটা বিগড়ে !

বলেই প্রচন্ড একটা চড় কশালো মেজমালিক নেতাইএর গালে। নেতাই কোন কথা না বলে মেজমালিকের পেছনে ছুটতে ছুটতে স্টেজ থেকে বের হয়ে গেল।

যে পথ দিয়ে প্রবেশ করেছিল সে পথেই আবার দৌড়াতে দৌড়াতে মেজমালিক ও নেতাইএর প্রবেশ।
তিনজন চকরা-বকরা পোষাক পড়া মেজমালিকের বয়সী ছেলে এসে ঢুকলো স্টেজে তাদের বিপরীত দিক থেকে। মেজমালিক খুব খুশী হয়ে ওদের সাথে গল্প করতে থাকলো। নেতাই দুরে দাঁড়িয়ে দেখল ওদেরকে।

1ম ছেলে: (মেজমালিকের পিঠে চাপ্পড় মেরে) এই শালা, এই সাত সকালে দৌড়াচ্ছিস কোথায় ?
মেজমালিক: এটাও বুঝিস না শালা ? জগিং করছি ...... জগিং।
2য় ছেলে: (নেতাইএর দিকে দেখিয়ে) জগিং করছিস্ ভালো। তা এই ছাগলটা পেছনে পেছনে দৌড়াচ্ছে কেন ?
মেজমালিক: তোরা তো দেখছি শালা কিছুই জানিস্ না। ফিলিম দেখিস্ , ডিস্কো নাচিস্ , কিন্তু বডিগার্ড চিনিস না। ওটা হচ্ছে আমার বডিগার্ড।
3য় ছেলে: শালার পাটখড়ির মতো শরীর, ফু দিলেই উড়ে যাবে বাতাসে, ওই শালা বডিগার্ড ? ওতো তোর চাকর, সবসমযের চাকর। তুই আমাদের দোস্ত, ও তাই আমাদেরও চাকর।

সবাই মিলে হাসলো হো হো করে। একজন বাদামওয়ালা বাদাম নিয়ে যাচ্ছিল। ওরা কিনে মজা করে খেলো।
1ম ছেলে হঠাৎ নেতাইকে ডাকলো কাছে।

1ম ছেলে: এই ব্যাটা, এদিকে আয় জলদী !

ভয়ে ভয়ে ছেলেটার দিকে এগিয়ে গেলো নেতাই।

1ম ছেলে: যা, এক প্যাকেট সিগারেট নিয়ে মোড়ের দোকান থেকে।
2য় ছেলে: দেরী করবি না। যাবি আর আসবি।

মেজমালিক আর 3য় ছেলেটি নিজেদের মাঝেই কিছু একটা বলাবলি করছিল হেসে হেসে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত
ভাবেই এগিয়ে এলো ওরা নেতাইএর দিকে।

3য় ছেলে: এই শালা, তোর নাম কি রে ?
নেতাই: আমার নাম রহিম বাদশা।

ভয়ে ভয়ে উত্তর দিলো নেতাই। কি জানি কেনো, নেতাই নামটা বলতে ইচ্ছে হলো না ওর। চট করে এসে
তার কানটা টেনে ধরলো তার মেজমালিক। এতো জোরে যে চোখে পানি এসে গেলো ওর। তারপরেও চটাস্
শব্দে একটা চড় এসে পড়লো তার গালে।

মেজমালিক তোর নাম রহিম বাদশা হলো কবে থেকে শালা, উল্লুকের বাচ্চা। তোর নাম না আমি নেতাই রেখেছি। উঠবস কর কান ধরে ! বল্ বার বার, আমার নাম নেতাই, আমার নাম নেতাই।

অন্যরা খুব মজা করেই হেসে হেসে এ দৃশ্য দেখছিলো। নেতাই কান ধরে উঠবস করলো। সবাই মিলে গুনলো দশবার।

মেজমালিক: এবার ভাগ শালা। যাবি আর আসবি। যদি দেরী করিস, তাহলে বাপের নামটিও ভুলিয়ে ছাড়বো।

পড়ি কি মরি করে দৌড়ালো নেতাই (প্রস্থান)। মেজমালিক ও বন্ধুরা নিজেদের মাঝে গল্প করতে করতে স্টেজ থেকে বেরিয়ে গেলো।
নেতাইএর প্রবেশ। দর্শকদের দিকে তাকিয়ে বললো

নেতাই: বাপে করে কুলির কাম। কোন দিন বোজগার অয়, কোনদিন অয়না। যেইদিন রোজগার অয়, সেইদিন মেজাজ ভালা থাকে, যেদিন অয়না, সেইদিন এমনেই মাইর দেয়। আর মারনেরর সময় হাত আর মুখ একলগেই চালায়। কিন্তু এই শালার মুখে যা ছোটে, তার লগে বাপ আর আমি মিল্লাও পারমু না। নামটাও বদলাইছে। নামডা রাখছিল রহিম। মেজাজ বালা থাকলে আদর কইরা ডাকতো রহিম বাদশা। কিন্তুক এই বাড়ীতে যহন আমারে দিয়া গেল, কইল হেরা, ন্যাতার মতো কি পইরা আছে এই পোলা, এর নাম অইব নেতাই। সকিনা খালা কইছে, নেতাই অইল হিন্দুগর নাম । মুসলমানের ঘরে জন্ম, হিন্দুগর নামে ডাহে। না, না বেশী কতা কওনের সময় নাই। মাইর খাওয়ন লাগব আবার। যাই .... দৌড়াই।

পর্দা পড়বে। প্রথম অঙ্ক সমাপ্ত



সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

লেখালিখি হতে পারে আপনার বিক্ষিপ্ত মনকে শান্ত করার খোরাক।

লিখেছেন মাধুকরী মৃণ্ময়, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:২৯

এই যেমন আমি এখন লিখতে বসছি। সর্বশেষ লিখেছি ২০২১ সালে জুলাই এর দিকে। লিখতে গিয়ে আকাশে বাতাসে তাকাচ্ছি, শব্দ, বিষয় খুজছি। কিন্তু পাচ্ছি না। পাচ্ছি যে না , সেইটাই লিখছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ২:৩৩


নট আউট নোমান ইউটিউব চ্যানেলের ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান ভাই একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক। বাংলাদেশে এখন আমরা এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে বাস করছি যেখানে প্রকৃত দেশপ্রেমিক আর ভুয়া দেশপ্রেমিকের পার্থক্য করা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রফিকুল ইসলামের ২য় বিয়ে করার যুক্তি প্রসঙ্গে chatgpt-কে জিজ্ঞেস করে যা পেলাম...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৭ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



ইসলামে একাধিক বিয়ে বৈধ, তবে সেটা বড় দায়িত্বের বিষয়। শুধু “বৈধ” হলেই কোনো সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তম বা সবার জন্য উপযুক্ত হয়ে যায় না। Qur'an-এ বহু বিবাহের অনুমতির সাথে ন্যায়বিচারের শর্তও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×