somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শরাবন তহুরা আর বেহেশতের হুর-পরীর লোভে?

২০ শে মে, ২০০৬ বিকাল ৫:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার এক অতি পরিচিত জন থাকেন বাংলাদেশে। আমার জানা মতে বাংলাদেশে যতগুলো সৎ লোক আছেন, তাদের মাঝে অন্যতম। ওনি বেশ ধর্মভীরু মানুষ। আমি নিজে ধার্মিক নই। তারপরেও সে মানুষটির প্রতি আমার প্রগাঢ় শ্রদ্বা ও বিশ্বাস। আমি মাঝে মাঝে আমার প্রবাসী জীবনের বেড়াজাল পেরিয়ে তার সাথে কথোপকথনে ডুবে যাই। বেশ বড় সরকারে চাকুরে ছিলেন, এখন অবসরে। অর্থপ্রতিপত্তিতে লালে লাল হবার সুযোগ ছিল অনেক, কিন্তু সবসময় সৎপথে থেকেছেন। ওনার ছেলেমেয়েরাও তার মতোই হয়েছেন ও বাবাকেই তাদের আদর্শ হিসেবে দেখেন। রিটিায়ার করেও বাবা তাদের চোখের মনি হয়ে আছেন।

একদিন তাকে ফোন করলাম। কুশল বিনিময় হল। তার শারিরীক অবস্থার কথা জানতে চাইলাম। ওনি হাসতে লাগলেন। হাসতে হাসতে বললেন,

- আরে মিয়া, এখন তো আমার ভাল সময়। দুদিন পরেই পৃথিবী থেকে বিদায় নেব। কোনরকমে বেহেশতে পৌছাতে পারলে ইহজগতের জঞ্জাল ছেড়ে শরাবন তহুরা আর বেহেশতের হুরপরীদের নিয়ে থাকবো।
ওনার হাসি টা বেশ অদ্ভুত মনে হলো আমার কাছে। মনে হলো নিজেকেই নিজে টিটকিরি করছেন। আমি বললাম
- এটা তো লোভ, এই লোভেই এটা কষ্ট করেছেন সারা জীবন। আর ধর্ম আপনাকে এই লোভই দেখাচ্ছে?
বলা বাহুল্য, সৎ পথে থাকার কারনে তাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে সারাজীবন। অনেকগুলো ছেলেমেয়ে ছিল, নিজে অনেক সময় অসুস্থ ছিলেন। কিন্তু এ অবস্থাতেও কখনো কোন পদস্খলন হয়নি তার।

- আরে লোভ তো বটেই। আর ভালো কিছু করলে তার পুরস্কার থাকতে হবে না। শরাবন তহুরা আর বেহেশতের হুরপরী তো বড় পুরস্কার!

ওনার কথাগুলো বেশ শ্লেষাত্বক মনে হল। আর সেখানেই আমার খটকা। বক ধার্মিক ওনি নন। প্রচুর পড়াশোনা করেছেন। অফিসে ছোট কাগজে আয়াৎ লিখে নিয়ে যেতেন, যাতে ভুলে না যান। খোলামেলা মনের মানুষ। আমার এক জার্মান বন্ধু বাংলাদেশে বেড়াতে গিয়েছিল। দুজনের ধর্মবিষয়ক অনেক গল্প হয়। বন্ধুটি বৌদ্ধ ধর্মকে সেরা ধর্ম হিসেবে মনে করে প্রশ্রয়ের হাসি হেসে ওর সাথে এ নিয়ে অনেক কথাও বলেছিলেন। ইসলাম ধর্মের নানা ভলো দিক নিয়েও তাকে অনেক বলেছিলেন। জার্মান বন্ধুটিও তার সাথে আলোচনার পর তাকে তার সন্মানের শিখরেই বসিয়েছে।

ওনার এই শ্লেষের হাসি আমাকেও ভাবিয়েছে অনেক। অন্য কেউ হলে এতটা ভাবতাম না। বিষয়টা নিয়ে কোথও না কোথাও খটকা লেগেছে তার। আর তাই এই অদ্ভুত হাসি।

শরাবন তহুরা তো মদ। মদ ইহলোকে নিষিদ্ধ, পরলোকে নিষিদ্ধ নয় কেন ? পরলোকে কি কেউ মাতাল হয়না? মাতাল না হলে মদ কি করে হলো ? পরলোকের হুর পরীরা পরনারী বা পরপুরুষ নয় ? বিয়ে না করেই বহুনারী বা বহুপুরুষ সেখানে বৈধ ? অর্থাৎ আমরা যে তথাকথিত বেলেল্লাপনার কারনে পাশ্চাত্য কে অপছন্দ করি, বেহেশতে তারই একটা পরিবেশ আমাদের জন্যে তৈরী করে রেখেছেন ঈশ্বর। আর সে লোভেই আমরা সৎ থাকবো, ধার্মিক থাকবো ?

ধর্ম নিয়ে তেমন বেশী পড়াশোনা করিনি। তাই আপনাদের মতো আয়াৎ কপচাতে পারবো না। তাই বিজ্ঞজনেরা উত্তর জানা থাকলে জানাবেন। তবে স্বাভাবিক বুদ্ধিবৃত্তি প্রভাবে পরিস্কার মনের অধিকারী। অনেক খেটেখুটে যৌক্তিক ভিত্তি তৈরী করেছি নিজের ভেতরে। তাই ছেলে ভুলানো ছড়ায় গদগদ হবার পাত্র নই। 'দা ভিঞ্চি কোড' ছবিটা দেখার পর ক্রিষ্টান ধর্মগুরুদের উপরও খিচড়ে আছে মন।

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৩২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×