একদিন তাকে ফোন করলাম। কুশল বিনিময় হল। তার শারিরীক অবস্থার কথা জানতে চাইলাম। ওনি হাসতে লাগলেন। হাসতে হাসতে বললেন,
- আরে মিয়া, এখন তো আমার ভাল সময়। দুদিন পরেই পৃথিবী থেকে বিদায় নেব। কোনরকমে বেহেশতে পৌছাতে পারলে ইহজগতের জঞ্জাল ছেড়ে শরাবন তহুরা আর বেহেশতের হুরপরীদের নিয়ে থাকবো।
ওনার হাসি টা বেশ অদ্ভুত মনে হলো আমার কাছে। মনে হলো নিজেকেই নিজে টিটকিরি করছেন। আমি বললাম
- এটা তো লোভ, এই লোভেই এটা কষ্ট করেছেন সারা জীবন। আর ধর্ম আপনাকে এই লোভই দেখাচ্ছে?
বলা বাহুল্য, সৎ পথে থাকার কারনে তাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে সারাজীবন। অনেকগুলো ছেলেমেয়ে ছিল, নিজে অনেক সময় অসুস্থ ছিলেন। কিন্তু এ অবস্থাতেও কখনো কোন পদস্খলন হয়নি তার।
- আরে লোভ তো বটেই। আর ভালো কিছু করলে তার পুরস্কার থাকতে হবে না। শরাবন তহুরা আর বেহেশতের হুরপরী তো বড় পুরস্কার!
ওনার কথাগুলো বেশ শ্লেষাত্বক মনে হল। আর সেখানেই আমার খটকা। বক ধার্মিক ওনি নন। প্রচুর পড়াশোনা করেছেন। অফিসে ছোট কাগজে আয়াৎ লিখে নিয়ে যেতেন, যাতে ভুলে না যান। খোলামেলা মনের মানুষ। আমার এক জার্মান বন্ধু বাংলাদেশে বেড়াতে গিয়েছিল। দুজনের ধর্মবিষয়ক অনেক গল্প হয়। বন্ধুটি বৌদ্ধ ধর্মকে সেরা ধর্ম হিসেবে মনে করে প্রশ্রয়ের হাসি হেসে ওর সাথে এ নিয়ে অনেক কথাও বলেছিলেন। ইসলাম ধর্মের নানা ভলো দিক নিয়েও তাকে অনেক বলেছিলেন। জার্মান বন্ধুটিও তার সাথে আলোচনার পর তাকে তার সন্মানের শিখরেই বসিয়েছে।
ওনার এই শ্লেষের হাসি আমাকেও ভাবিয়েছে অনেক। অন্য কেউ হলে এতটা ভাবতাম না। বিষয়টা নিয়ে কোথও না কোথাও খটকা লেগেছে তার। আর তাই এই অদ্ভুত হাসি।
শরাবন তহুরা তো মদ। মদ ইহলোকে নিষিদ্ধ, পরলোকে নিষিদ্ধ নয় কেন ? পরলোকে কি কেউ মাতাল হয়না? মাতাল না হলে মদ কি করে হলো ? পরলোকের হুর পরীরা পরনারী বা পরপুরুষ নয় ? বিয়ে না করেই বহুনারী বা বহুপুরুষ সেখানে বৈধ ? অর্থাৎ আমরা যে তথাকথিত বেলেল্লাপনার কারনে পাশ্চাত্য কে অপছন্দ করি, বেহেশতে তারই একটা পরিবেশ আমাদের জন্যে তৈরী করে রেখেছেন ঈশ্বর। আর সে লোভেই আমরা সৎ থাকবো, ধার্মিক থাকবো ?
ধর্ম নিয়ে তেমন বেশী পড়াশোনা করিনি। তাই আপনাদের মতো আয়াৎ কপচাতে পারবো না। তাই বিজ্ঞজনেরা উত্তর জানা থাকলে জানাবেন। তবে স্বাভাবিক বুদ্ধিবৃত্তি প্রভাবে পরিস্কার মনের অধিকারী। অনেক খেটেখুটে যৌক্তিক ভিত্তি তৈরী করেছি নিজের ভেতরে। তাই ছেলে ভুলানো ছড়ায় গদগদ হবার পাত্র নই। 'দা ভিঞ্চি কোড' ছবিটা দেখার পর ক্রিষ্টান ধর্মগুরুদের উপরও খিচড়ে আছে মন।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




