somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আল্পসের পাদদেশে জল পাহাড়ের খেলা

২৩ শে মে, ২০০৬ ভোর ৬:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এবারের লেখা জার্মানীর বাভারিয়ার সুন্দর একটা লেক নিয়ে। ওখানে অনেকবারই গিয়েছি, প্রতি সামারেই বেশ কয়েকবার, এমনকি শীতের সময়েও। শীতেরও আলাদা সৌন্দর্য আছে। সাদা বরফে আড়ালে নি:স্তব্ধ নীরবতার নির্মল সৌকর্য।

বেশীরভাগ লোকই তাদের গন্তব্যস্থলে যত দ্রুত সম্ভব পৌঁছাতে চায়। সেজন্যে আওটোবান (হাইওয়ে) রয়েছে। আমি তা করি না। চাই, আমার যাত্রাপথটিও যাতে মুল ভ্রমনের একটি সুন্দর অংশ হয়ের উঠুক। তাই ছোট ছোট রাস্তা খুজে নিই। সময় বেশী লেগে যায়, কিন্তু আমি তার তোয়ক্কা করি না। সাধারনত: সঙ্গী বা সঙ্গীনির সাথে এ নিয়ে দ্বিমত থাকলে বাদানুবাদ হয়। আমার সে সমস্যা নেই। আমি আর আমার স্ত্রী প্রায় একই রূচির মানুষ। সুবিধার জন্যে একটা নেভিগেশান কিনে নিয়েছি। মহিলা কন্ঠস্বরে নেভিগেশান কথা বলে। দু'জনে মিলে তাই নাম দিয়েছি নাতালি। নাতালিকে বলি হাইওয়ে না নিতে। ও তা বিনা দ্বিধায় মেনে নেয়। মাঝে মাঝে মুল রাস্তা ছেড়ে পাহাড়ের ভেতরে ঢুকে পড়ি। নাতালির উপর ভরসা আছে, দরকারে আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসে মুল পথে।

বহুবার ইটালী গিয়েছি। বিভিন্ন শহরে ঘুরেছি। হাইওয়ে ধরে বেশ দ্রুতই পৌছে যাওয়া যায়। আমি কোখেল লেক, ওয়ালখেন লেক মিটেনওয়াল্ড, ইন্সব্রুক(অষ্ট্রিয়া) হয়ে যেতেই পছন্দ করি। এটা আমার সবচে' প্রিয় পথ। ইন্সব্রুক এর পর অনেক সময় হাইওয়ে নিয়ে নিই। তারপর ব্রেনারপাস হয়ে ইটালী।

কেখেল লেক থেকে ওয়ালখেন লেকে যাবার সময় একটা খুব অাঁকবাকা পাহাড়ী পথ পড়ে। ভয়ঙ্কর সে পথ। বেশ উপর ওঠার পর উপর থেকে কোখেল লেক দেখা যায়। উপর থেকে দেখার যে সৌন্দর্য, তা বর্ননার বাইরে। পাহাড়ের অন্যপাশে নামলেই ওয়ালখেন লেক। দুটো লেক, কোখেল ও ওয়ালখেনের উচ্চতার বেশ পার্থক্য রয়েছে। ওয়ালখেন লেক অনেকটা উচুতে। এই পার্থক্যটা জলবিদ্যুত তৈরীর কাজে ব্যবহার করা হয়। ওয়ালখেন লেকের পাড়ে একটা পাহাড় রয়েছে, নাম হেরছগস্ট্যান্ড। তার প্রায় দু'হাজার মিটার উচু চুড়ায় উঠলে দুটো লেকই দুপাশে দেখা যায়। উচ্চতার পার্থক্য বেশ চোখে পড়ে। কেবলকারে ষোলশো মিটার ওঠার পর বাকী চারশ মিটার হেটে উঠতে হয়। এই হাটাপথে লোকজনকে নীচ থেকে হেটে উঠতে দেখলে মরুতীর্থ হিংলাজ ছবিটির কথা মনে পড়ে যায়। কয়েকবার উঠেছি। নামার সময় নীচের ষোলশো মিটারও হেটে নামা যায়। বেশ ভাল লাগে পাহাড়ী নীরবতায় যানবাহনের শব্দদুষনের বাইরে প্রাকৃতিক নীরবতার মাঝে নিজেকে খুজে পেতে।

কোন এক শীতের বরফের সময় আমার এক ভারতীয় আসামের এক বন্ধুকে নিয়ে ওই এলাকাতেই বেড়াতে বেরিয়েছিলাম। বন্ধুটি ভারতের একজন নামকরা বাঁশীবাদক। হরিপ্রসাদ চৌরাশিয়ার ছাত্র। জার্মানীতে প্রোগ্রাম করার জন্যে এসেছিল। আমরা বরফ ডিঙ্গিয়ে পাহাড়ের বিভিন্ন কোনায় কোনায় ঘুরে বেড়ালাম। দীপক প্রতিবারই বাঁশীতে পাহাড়ী (পাহাড়ী নামের একটা রাগও রয়েছে) সুর তুলল। সুরের মুচ্র্ছনায় তন্ময় আমরা দুজনেই। দিনটি ছিল আমার জীবনের সেরা দিনগুলোর মাঝে অন্যতম।

ওয়ালখেন লেকের চারপাশেই উঁচু পাহাড়। পানি সামারেও বেশ ঠান্ডা থাকে। চারপাশই রাস্তা রয়েছে সাপের মতো আকানো বাকানো। কোন কোন যায়গায় শুধুমাত্র হাঁটার পথ। পাড়ে পাড়ে হেটেই সারাদিন পার করে দেয়া যায়। অনেকগুলো কফিশপ আছে। লেকের উপরে কাঠের গুড়ির উপর ভর করে একটা কফিশপ আমার সবচে' প্রিয়। ওখানে বসে একটা কফি না হলে আমার পুরো দিনটাই বৃথা। একবার বন্ধ ছিল কফিশপটা কোন কারণে। মন খারাপ হয়েছিল খুব। সেইলিং করা যায়। শিখে নিয়েছিলাম কোন এক সামারে। কোন কোন বার সারাদিন তাই করে কাটিয়ে দিই। তবে পকেটের কথা ভেবে অনেকসময় চারপাশ বেড়িয়েই কাটিয়ে দিই সময়।

ওয়ালখেন লেক পেরিয়ে মিটেনওয়াল্ড হয়ে অষ্ট্রিায়ার ইন্সব্রুক যাবার রাস্তাটি আমার দেখা সেরা পথের একটি। এ নিয়ে সময় করে পরে লিখব।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×