তারপর অনেক পথ পাড়ি দিয়ে প্রবাসে। মিউনিখে আসার পর গুটি কয়েক বাঙ্গালীর মাঝে এক বৌদি'ই সামান্য গাইতে জানতেন। সব অনুষ্ঠান তাকেই করতে হতো। আমাকে পেয়ে যেন হাতে চাঁদ পেলেন তিনি। আমার মিনমিনে গলা, স্টেজে ভীতসন্ত্রস্থ অবস্থা নিয়েও সব দ্বায়িত্ব আমাকেই নিতে হলো। "নাই দেশে ভেরেন্ডা বৃক্ষ!" আমাদের এক ডাক্তার দাদা ছিলেন। অনুষ্ঠানের আগে এক ট্যবলেট খাইয়ে দিয়ে বলতেন, "দ্যাখো, সাহস বেড়ে যাবে"। সাহস কি আর বাড়ে ! অনেক সময় আমার কাঁপুনিতে স্টেজও কাঁপতে থাকতো। আমাদের গানের সময় বাশী বাজাতেন ডাক্তার'দা। তার নিজের বাঁশীর সুরই মাঝে মাঝে অজানা অচেনা পথে পা বাড়াতো।
তারপর আস্তে আস্তে আরো অনেক বাংলাদেশীতে এলো এই শহরে। এদের মাঝে গায়ক খুজে পেলামও কয়েকজনকে। এদের মিনমিনে গলার আওয়াজ না, রবীন্দ্রসঙ্গীতের মতো ধীরলয়ের গান এরা গানও না। এদের হাতে সব ছেড়ে দিয়ে আমি এখন মুক্ত-স্বাধীন।
এখনও সমমনাদের নিয়ে সাঝে সাঝে ঘরোয়া গানের আসর বসাই। আমার এক তবলচী বন্ধু রয়েছে। ভালো তবলাই বাজায়। কিন্তু আরো ভালো করে তাল বোঝার জন্যে চোখ বুজে যখন আঙ্গুলে গোনা শুরু করে, তখন নির্ঘাত ভুল তালটিই ধরবে। কিন্তু সবার সাথে আসর বসানো যায়না। কারন দু'টো রবীন্দ্রসঙ্গীতের পরেই ধুমধারাক্কা শুরু হয়ে যায়। আমার তখন চুপ করে থাকা ছাড়া কোন পথ থাকে না। সে আসরও কমে গেছে অনেক। আমার বন্ধু তবলচী এ শহর ছেড়ে হঠাৎই কোন এক অজানা দেশে পাড়ি জমিয়েছে। ব্যক্তিগত সমস্যা ছিল। জানতাম কোনদিন যাবে। কিন্তু এত দ্রুত ও কাউকেই না জানিয়ে যে যাবে, তা ভাবিনি। আর কোনদিন ফিরবে বলে মনে হয়না।
কাসিক্যাল শুনি বেশ। আসলে সব ধরনের গান শুনতেই ভালবাসি। ইউরোপী কাসিক্যাল এর মাঝে পিটার চাইকভস্কি আমার সবচে' বেশী প্রিয়। ভারতীয় রাগভিত্তিক সুরের মাঝে দরবাড়ী কানাড়া, ভৈরবী ও মেঘ আমার সবচে' ভাল লাগে, তা ভোকাল বা ইনস্ট্রুমেন্টাল যা ই হোক না কেন। লোকগীতিও ভাল লাগে, তবে রবীন্দ্রসঙ্গীতের মাঝে আমি বুদ হয়ে যেতে পারি। আপনাদের কেউ যদি গান নিয়ে অলোচনায় আসতে চান, তাহলে ভাল লাগবে খুব।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


