somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সময় চলে যায়, স্মৃতি রয়ে যায়

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ১০:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সময়টা নভেম্বর ২০০৮।
৭ তারিখ মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা দিলাম, ২ দিন পর ফলাফল পেলাম।
প্রথম বারের মত ব্যর্থ হলাম কোন পরীক্ষায়। একই দিন চোখের সমস্যার কারনে বাদ পরলাম আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা থেকেও। কষ্টে এবং ক্ষোভে ঠিক করলাম বাকি পরীক্ষাগুলো প্রস্তুতি না নিয়েই দিবো। বাকিটা আল্লাহ এর ইচ্ছা। যাই হোক, প্রথমে ২০ তারিখে বুয়েটে গেলাম। যেয়ে মনটা আরও খারাপ হয়ে গেলো প্রশ্ন দেখে। তখন একটাই আক্ষেপ "ক্যান যে বাসায় অংকগুলো করলাম না" সূত্র ভুল করে কেঁদেই ফেললাম পরীক্ষার হলে। পরীক্ষা শেষে সোজা খালার বাসায়। কষ্টগুলোকে ভুলে যেতে চেষ্টা করলাম, কারন পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ পরীক্ষা।
ছোট বেলার স্বপ্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ পড়াশুনা করবো। কিন্তু মনের যে অবস্থা তাতে সেই স্বপ্নও জলে ভেসে যাবার উপক্রম।
২১ তারিখ সকালে বুয়েট হাইস্কুল কেন্দ্রে গেলাম পরীক্ষা দিতে। সব অপরিচিত মুখের মাঝে আমি এক অসহায় বালক। প্রশ্ন হাতে পেয়ে বুঝলাম আমি আরও অসহায়। আশেপাশে সাহায্য করার জন্য কাকপক্ষীও নাই। সাহস করে শুরু করলাম পরীক্ষা। পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞান উত্তর করে গণিতে আসতেই অসহায়ত্ব যেন আরো বেড়ে গেলো, কারন ৩০ টার মাঝে ৬/৭ টা পারি। এইচএসসি তে একটা প্ল্যান করেছিলাম, এখন সময় সেটা বাস্তবায়ন করার। সেই অনুযায়ী উচ্ছিক বিষয় গণিত বাদ দিয়ে বাংলাতে চোখ বুলিয়ে চলে গেলাম ইংলিশ এ। যা হবার হবে, ইংলিশটাই দিবো। আবারো সাহস করিয়া ইংলিশ উত্তর করিলাম।
পরীক্ষা শেষে আবার খালার বাসায়। তবে এবার একটু শান্তি বিগত বছরগুলোর পরিসংখ্যান মনে করে যে, একটা সুযোগ মনে হয় দরজায় কড়া নাড়াচ্ছে। বাসায় এসে কয়েকদিন পর ফলাফল পেলাম। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সাক্ষাৎকার গ্রহনের জন্য ডেকেছে। মজার ব্যাপার হলো ইংলিশে ৩০ এ ২৭ টা উত্তর করে পেয়েছিলাম ২১। এবার একটু শান্তি। তারপর প্রানীবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি, ক্লাস, বন্ধুদের সাথে আড্ডা। সময়গুলো ভালই চলে যাচ্ছিলো। বাসা থেকে খবর এলো আবার মেডিকেলে পরীক্ষা দেয়ার প্রস্তুতি নেয়ার জন্য। মা-বাবার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে ২৬ মার্চ,২০০৯ এ আরেক যুদ্ধে ঝাপিয়ে পরলাম। টার্গেট আমার একটাই, ঢাবিতে পড়তে না পারলেও যেন এমন কোথাও ভর্তি হতে পারি যেখান থেকে ঢাবির সনদপত্র পাবো।
কিছুদিন পরে মা-বাবার স্বপ্ন পূরন করলেও আমার স্বপ্ন পূরন হলো না। যাই হোক, চট্টগ্রাম মেডিকেল থেকে মাইগ্রেশন করে অন্তত ময়মনসিংহ মেডিকেলে আশার একটা সুযোগ যেহেতু আছে তাই সেটা ছাড়লাম না। অবশেষে বাসায় থেকে রংপুর মেডিকেলে পড়ার সুযোগ বাদ দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর সনদের লোভে চলে আসলাম বর্তমান আস্তানা ময়মনসিংহ মেডিকেলে।
তবে অল্প কয়েকমাসে ঢাবি আমাকে যা দিয়েছে তা আমি সারাজীবন ভুলতে পারবো না। বিশেষ করে Riadul Haque, Md Arif, Bipul Kumar Setu, Sagar Ahmed, Abm Izzajul Kabir Rowel, Faysal Mahmud, Mehedi Vai Frcs, Shahnewaz Noman এর মত কয়েকজন বন্ধু। তোদের আসলেই অনেক মিস করি। তোদের সাথে কাটানো সময়গুলো আজও মনের আনাচেকানাচে উঁকি দেয়। যেখানেই থাকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থাকবে অন্তরের বিশাল এক যায়গা জুরে।গতকাল ঢাবির ক ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা বলেই মনে পরে গেলো সেই দিনগুলোর কথা
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ঢাবিকে ‘কোচিং সেন্টার’ বলা ববি হাজ্জাজের মূর্খতা নাকি অহংকার?

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ৩০ শে মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩

সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘কোচিং সেন্টার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং দাবি করেছেন "নর্থ সাউথ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় যা গবেষণা করে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৪:৫০


গত রোজার ঈদে বাংলাদেশে একটা সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল, নাম "বনলতা এক্সপ্রেস"। হুমায়ূন আহমেদের "কিছুক্ষণ" উপন্যাস অবলম্বনে বানানো, মোশাররফ করিম আর চঞ্চল চৌধুরীর মতো মানুষরা অভিনয় করেছেন। সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য লটারি: শার্লি জ্যাকসন

লিখেছেন নিবারণ, ৩০ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৫১

২৭ জুনের সকালটা ছিল একদম পরিষ্কার আর ঝলমলে। ভর গ্রীষ্মের এক সতেজ ওম চারদিকে; ফুলের দল ফুটে আছে থোকায় থোকায়, আর ঘাসগুলো একেবারে গাঢ় সবুজ। সকাল দশটা নাগাদ গ্রামের লোকজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা'র আন্তর্জাতিক খেলা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩০ শে মে, ২০২৬ রাত ৯:৫২



শেখ হাসিনা- একটি নাম, একটি ইতিহাস। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন খুব কম নেতাই আছেন, যাদের নাম উচ্চারিত হলে সমর্থন ও বিরোধিতা- উভয়ই এত প্রবলভাবে সামনে আসে। দীর্ঘ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

চামড়ার দাম নেই, কিন্তু চামড়ার জুতার দাম আকাশচুম্বী- এই রহস্যের নাম কী?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ৩১ শে মে, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

চামড়ার দাম নেই, কিন্তু চামড়ার জুতার দাম আকাশচুম্বী- এই রহস্যের নাম কী?

কোরবানির ঈদ এলেই বলা হয়- "চামড়া জাতীয় সম্পদ, চামড়া দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত, চামড়া রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×