সময়টা নভেম্বর ২০০৮।
৭ তারিখ মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা দিলাম, ২ দিন পর ফলাফল পেলাম।
প্রথম বারের মত ব্যর্থ হলাম কোন পরীক্ষায়। একই দিন চোখের সমস্যার কারনে বাদ পরলাম আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা থেকেও। কষ্টে এবং ক্ষোভে ঠিক করলাম বাকি পরীক্ষাগুলো প্রস্তুতি না নিয়েই দিবো। বাকিটা আল্লাহ এর ইচ্ছা। যাই হোক, প্রথমে ২০ তারিখে বুয়েটে গেলাম। যেয়ে মনটা আরও খারাপ হয়ে গেলো প্রশ্ন দেখে। তখন একটাই আক্ষেপ "ক্যান যে বাসায় অংকগুলো করলাম না" সূত্র ভুল করে কেঁদেই ফেললাম পরীক্ষার হলে। পরীক্ষা শেষে সোজা খালার বাসায়। কষ্টগুলোকে ভুলে যেতে চেষ্টা করলাম, কারন পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ পরীক্ষা।
ছোট বেলার স্বপ্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ পড়াশুনা করবো। কিন্তু মনের যে অবস্থা তাতে সেই স্বপ্নও জলে ভেসে যাবার উপক্রম।
২১ তারিখ সকালে বুয়েট হাইস্কুল কেন্দ্রে গেলাম পরীক্ষা দিতে। সব অপরিচিত মুখের মাঝে আমি এক অসহায় বালক। প্রশ্ন হাতে পেয়ে বুঝলাম আমি আরও অসহায়। আশেপাশে সাহায্য করার জন্য কাকপক্ষীও নাই। সাহস করে শুরু করলাম পরীক্ষা। পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞান উত্তর করে গণিতে আসতেই অসহায়ত্ব যেন আরো বেড়ে গেলো, কারন ৩০ টার মাঝে ৬/৭ টা পারি। এইচএসসি তে একটা প্ল্যান করেছিলাম, এখন সময় সেটা বাস্তবায়ন করার। সেই অনুযায়ী উচ্ছিক বিষয় গণিত বাদ দিয়ে বাংলাতে চোখ বুলিয়ে চলে গেলাম ইংলিশ এ। যা হবার হবে, ইংলিশটাই দিবো। আবারো সাহস করিয়া ইংলিশ উত্তর করিলাম।
পরীক্ষা শেষে আবার খালার বাসায়। তবে এবার একটু শান্তি বিগত বছরগুলোর পরিসংখ্যান মনে করে যে, একটা সুযোগ মনে হয় দরজায় কড়া নাড়াচ্ছে। বাসায় এসে কয়েকদিন পর ফলাফল পেলাম। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সাক্ষাৎকার গ্রহনের জন্য ডেকেছে। মজার ব্যাপার হলো ইংলিশে ৩০ এ ২৭ টা উত্তর করে পেয়েছিলাম ২১। এবার একটু শান্তি। তারপর প্রানীবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি, ক্লাস, বন্ধুদের সাথে আড্ডা। সময়গুলো ভালই চলে যাচ্ছিলো। বাসা থেকে খবর এলো আবার মেডিকেলে পরীক্ষা দেয়ার প্রস্তুতি নেয়ার জন্য। মা-বাবার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে ২৬ মার্চ,২০০৯ এ আরেক যুদ্ধে ঝাপিয়ে পরলাম। টার্গেট আমার একটাই, ঢাবিতে পড়তে না পারলেও যেন এমন কোথাও ভর্তি হতে পারি যেখান থেকে ঢাবির সনদপত্র পাবো।
কিছুদিন পরে মা-বাবার স্বপ্ন পূরন করলেও আমার স্বপ্ন পূরন হলো না। যাই হোক, চট্টগ্রাম মেডিকেল থেকে মাইগ্রেশন করে অন্তত ময়মনসিংহ মেডিকেলে আশার একটা সুযোগ যেহেতু আছে তাই সেটা ছাড়লাম না। অবশেষে বাসায় থেকে রংপুর মেডিকেলে পড়ার সুযোগ বাদ দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর সনদের লোভে চলে আসলাম বর্তমান আস্তানা ময়মনসিংহ মেডিকেলে।
তবে অল্প কয়েকমাসে ঢাবি আমাকে যা দিয়েছে তা আমি সারাজীবন ভুলতে পারবো না। বিশেষ করে Riadul Haque, Md Arif, Bipul Kumar Setu, Sagar Ahmed, Abm Izzajul Kabir Rowel, Faysal Mahmud, Mehedi Vai Frcs, Shahnewaz Noman এর মত কয়েকজন বন্ধু। তোদের আসলেই অনেক মিস করি। তোদের সাথে কাটানো সময়গুলো আজও মনের আনাচেকানাচে উঁকি দেয়। যেখানেই থাকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থাকবে অন্তরের বিশাল এক যায়গা জুরে।গতকাল ঢাবির ক ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা বলেই মনে পরে গেলো সেই দিনগুলোর কথা

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

