স্টুডেন্ট ইমিগ্রেশন নিয়ন্ত্রনে ইমিগ্রেশন নীতিতে স্মরনাতীতকালের সবচেয়ে বড় রকমের পরিবর্তন এবং বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্টিত সময়সীমা প্রকাশ করেছে হোম অফিস। চার দফায় বাস্তবায়নের ঘোষনা দেয়া নতুন নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অন্তত ১০ টি ইস্যুতে নতুন শর্ত আরোপ অথবা পূর্বের দেয়া শর্তাবলী আরো কঠোর করা হয়েছে। এছাড়া কিছু নিয়ম এমনভাবে তৈরী করা হয়েছে যা প্রাথমিক অবস্থায় সহজসাধ্য মনে হলেও পূর্বে নির্দিষ্ট করে দেয়া নীতির সাথে সমন্বয় করা অনেক প্রতিষ্ঠানের পক্ষেই কঠিন হবে। বি রেটেড কলেজগুলোর নতুন ছাত্র ভর্তির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞাসহ, এন্ট্রি ক্লিয়ারেন্স অফিসার/ইউকেবিএ অফিসারদের বিশেষ ক্ষমতা দেওয়ার মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের পরিবর্তনগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হবে চলতি মাসের ২১ তারিখ থেকে। চলতি বছরের গ্রীস্মে এবং ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে কয়েকটি পরিবর্তন বাস্তবায়িত হবে। সরকার বলছে কলেজ এবং বিদেশী শিক্ষার্থীরা যাতে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতে পারে সেজন্য দফাওয়ারী পরিবর্তীত নীতিগুলো বাস্তবায়িত হবে।
সরকারী ঘোষনায় টিয়ার-৪ এর আওতায় যে সব নতুন শর্তাবলী আরোপ করা হয়েছে অথবা পূর্বের শর্তগুলো কঠোর করা হয়েছে তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অন্তত কয়েকশত কলেজের পক্ষে বাস্তবায়ন করা আদৌ সম্ভব হবে কি-না তা খোদ কলেজ পরিচালনার সাথে সংশ্লিষ্টরাই সন্দেহ প্রকাশ করেছে।
চলতি মাসের ২১ তারিখ থেকে বি-রেটেড কলেজগুলো নতুন কোন ছাত্র/ছাত্রী ভর্তি করতে পারবে না। তবে যেসব ছাত্র কলেজগুলোতে অধ্যয়নরত আছে তাদের কোর্স শেষ হওয়ার পূর্বে যদি কাহারো ভিসা নবায়নের প্রয়োজন পড়ে তাহলে কলেজ সেসব ছাত্রদের জন্য ভিসার চিঠি ইস্যু করতে পারবে। এক্ষেত্রে কলেজগুলোর নতুন ছাত্র থেকে রাজস্ব আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের আশংকা করছে কলেজগুলোর শিক্ষা কার্যক্রমের সাথে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি। সরকারী ঘোষনা অনুসারে ২০১২ সালের এপ্রিল মাসের মধ্যে সবগুলো প্রতিষ্ঠানকে হাইলী ট্রাস্টেড কলেজ হিসাবে নিজেদের নিবন্ধিত করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে হাইলী ট্রাস্টেড স্পন্সর হতে হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিরতিহীন ৬ মাস এ-রেটেড কলেজ হিসাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। শুধু তাই নয় হাইলী ট্রাস্টেড কলেজ হওয়ার যেসব শর্ত রয়েছে তা পালন করে আগামী বছরের মধ্যে বি-রেটেড কলেজগুলোর পক্ষে হাইলী ট্রাস্টেড কলেজের মাণদন্ড রক্ষা করা কঠিন বলেই উল্লেখ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কলেজ মালিক।
বর্তমান প্রক্রিয়ায় স্টুডেন্ট স্পন্সর করতে সক্ষম প্রতিষ্ঠানগুলোর ৭৩ পৃষ্টার একটি তালিকা ঘেটে দেখা গেছে সেখানে দের শতাধিক বি-রেটেড কলেজ রয়েছে। ১ এপ্রিল আপডেট করা তালিকা অনুসারে বাংলাদেশী ছাত্রদের সংখ্যাধিক্য রয়েছে পূর্ব লন্ডন বা অন্যান্য স্থানে অবস্থিত বি-রেটেড এ রকম কলেজের সংখ্যা ১৫-২০টি। শিক্ষার্থীদের ধারনা অনুযায়ী, বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের সংখ্যাধিক্য রয়েছে সেসব বি-রেটেড কলেজগুলোতে তার মধ্যে রযেছে - ব্রিট কলেজ, লন্ডন ক্রাউন কলেজ, মেরীল্যান্ড কলেজ লন্ডন, সাউথ চেলসি কলেজ, লন্ডন ইস্ট এন্ড কলেজ, লন্ডন রিগ্যাল কলেজ, লন্ডন ডেনিং কলেজ, হলব্রুক কলেজ অব বিজনেস, হেমিলটন কলেজ অব এ্যাডভান্সড স্টাডিজ লন্ডন।
নতুন নীতিতে ছাত্রদের ইংরেজী দক্ষতা যাচাই করে ব্রিটেনে প্রবেশ অধিকার দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য ইউকেবিএ কর্মকর্তাদের বিশেষ ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। চলতি মাসের ২১ তারিখ থেকে কর্মকর্তারা এ বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে সক্ষম হবেন। এ নিয়মের আওতায় কোন নন-ইউরোপীয়ান শিক্ষার্থী যদি দোভাষি (ইন্টারপ্রিটার) ছাড়া ইউকেবিএ অফিসারদের সাথে যথাযথভাবে কথপোকথনে ব্যর্থ হয় তাহলে উক্ত শিক্ষার্থীকে ব্রিটেনে প্রবেশাধিকার না দিতে বলা হয়েছে। তবে ভর্তি বা ভিসা বিবেচনার ক্ষেত্রে বি-২ মানের ইংরেজী যোগ্যতার প্রমান পত্র অন্যতম যোগ্যতা হলেও মুখোমুখে সাক্ষাৎকার বা ইউকেবিএ কর্মকর্তাদের সাথে ইন্টারপ্রিটার ব্যতিত যোগাযোগে ব্যর্থ হলে বি-২ মানের ইংরেজীর প্রমান থাকলেও বিশেষ ক্ষমতার প্রয়োগ করা যাবে।
নতুন নিয়মে আগামী ২১ শে এপ্রিল থেকে প্রি সেশনাল কোর্স তিন মাসের বেশী মেয়াদের জন্য দেয়া যাবে না। প্রি-সেশনাল কোর্স শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যেই মূল কোর্স শুরু করতে হবে। এক্ষেত্রে কোর্সের কোন অংশ যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে করার কথা উল্লেখ করা হয় তাহলে তার নিশ্চয়তাপত্রও থাকতে হবে।
এদিকে, এপ্রিল মাসের ২১ তারিখের পূর্বে ইস্যু করা কাস লেটারের বিপরীতে ভিসা দেয়া হবে কি-না বা প্রবেশাধিকার দেয়া হবে কি-না তা বর্তমান নিয়মেই বিবেচনা করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে হোম অফিসের ওয়েব সাইটে।
সাধারনত এসোসিয়েশন অফ চার্টার্ড সার্টিফাইড একাউন্টেন্টস (এসিসিএ কোর্স হিসাবে পরিচিত) কোর্সের জন্য হোম অফিস অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সাড়ে তিন বছরের ভিসা দিয়ে থাকে। এজন্য ভিসা ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকার জন্য বাংলাদেশী ছাত্রদের একটি অংশ এ কোর্সের দিকে ঝুকছে। হোম অফিস এ ব্যাপারেও নতুন নীতিমালা দিয়েছে। নতুন নীতি অনুযায়ী এ কোর্স পড়াতে হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এসিসিএ ’গোল্ড’ এবং ’প্লাটিনাম’ পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে সক্ষম এ নিশ্চয়তায় এসিসিএ অনুমোদিত লানিং পার্টনার হতে হবে। এসিসিএ’র ওযেব সাইটে লার্নি পার্টনারদের একটি সংজ্ঞাও দেয়া হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, লার্নিং পার্টনার হিসাবে যারা অনুমোদন লাভ করবে তারা উচ্চ মানের শিক্ষা প্রদান এবং স্টুডেন্ট সাপোর্ট সহজলভ্য থাকবে।
আগামী জুলাই মাস থেকে বেশ কয়েকটি নতুন নিয়ম চালু হবে। বর্তমান প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীরা তাদের খরচের অর্থ ২৮ দিন ব্যাংকে রাখলেই হয়। কিন্তু নতুন নিয়মে জুলাই মাস থেকে শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদনপত্রের সাথে ঘোষনা দিতে হবে যে, ব্রিটেনে অবস্থানকালীন থাকা, খাওয়া এবং পড়াশুনার প্রয়োজনীয় খরচ তাদের ব্যাংক হিসাবে জমা আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। হোম অফিস বলছে, স্থানীয় পর্যায়ে কোন কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হিসাব যাচাই করা সম্ভব নয় তার একটি তালিকা প্রকাশ করা হবে। অর্থাৎ ভিসা পেতে হলে যে কোন ব্যাংকের হিসাব বিবরনী আর গ্রহনযোগ্য হবে না অর্থাৎ স্থানীয় পর্যায়ের হাই কমিশন বা দূতাবাসের নির্দেশিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হিসাব বিবরনী পরিহার করতে হবে।
প্রাইভেট কলেজের শিক্ষার্থীদের কাজের সুযোগ আর থাকছে না - সরকারের এ সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়িত হবে চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে। নতুন নিয়ম অনুসারে, প্রাইভেট কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা টার্ম টাইমে কাজ করার সুযোগ পাবে না। তবে বিশ্ববিদ্যালয় বা পাবলিক ফান্ডেড কলেজগুলোতে অধ্যয়নরতদের ক্ষেত্রে প্রচলিত কাজের সুযোগ বহাল থাকবে। অর্থাৎ পাবলিক সেক্টরের অর্থায়নে পরিচালিত কলেজে কোন শিক্ষার্থী পড়াশুনা করলে উক্ত শিক্ষার্থী সপ্তাহে ১০ ঘন্টা কাজের সুযোগ অব্যাহত থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের জন্য কাজের সুযোগ থাকবে সপ্তাহে ২০ ঘন্টার।
জুলাই মাসে যেসব নিয়মগুলো কার্যকরের ঘোষনা দেয়া হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম স্টুডেন্ট ডিপেন্ডেন্ট ভিসা প্রসঙ্গটি। সরকারী ঘোষনায় বলা হয়েছে, যেসব ছাত্ররা উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১২ মাস বা ততোর্ধ মেয়াদের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্সে পড়াশুনা করছে তারাই ডিপেন্ডেন্ট ভিসায় স্ত্রী বা সিভিল পার্টনার এবং ১৮ বছরের নীচের ছেলে মেয়েদের ব্রিটেনে নিয়ে আসতে পারবেন। ডিপেন্ডেন্টদের কাজের সুযোগও থাকবে।
ছাত্র হিসাবে ব্রিটেনে অবস্থানের যে সময়সীমা নির্ধারন করে দেয়া হয়েছে তাও বাস্তবায়িত হবে চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে। নীতিতে বলা হয়েছে, ডিগ্রী বা ততোর্ধ পর্যায়ের কোর্সের জন্য সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত। অবশ্য পিএইচডি সহ সমমানের কয়েকটি কোর্সকে এ সময়সীমার বাইরে রাখা হয়েছে।
স্টুডেন্ট এন্টারপ্রেনিয়র নামে আরেকটি নতুন ভিসা ক্যাটাগরির ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে জুলাই মাস থেকে। এক্ষেত্রে হোম অফিস কিছু মানদন্ডও প্রকাশ করেছে তাদের নতুন নীতিমালায়।
আগামী জুলাই মাস থেকে যেসব শিক্ষার্থীর ভিসা নবায়নের প্রয়োজন হবে তাদেরকে পূর্বেকার পড়াশুনার অগ্রগতি দাখিল করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে যে, শিক্ষার্থীর পূর্বের কোর্সের অগ্রগতির ধারাবাহিকহায় নতুন কোর্সে ভর্তির সুযোগ দেয়া হয়েছে।
২০১২ সালের এপ্রিলের মধ্যে বিদেশী ছাত্র ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে হাইলী ট্রাস্টেড স্ট্যাটাস লাইসেন্স বাধ্যতামূলকভাবে সংগ্রহ করতে হবে। তবে এই সময়ের মধ্যে হাইলী ট্রাস্টেড কলেজ হওয়া সত্ত্বেও কেউ নতুন এক্রিডিটেশন বডির অনুমোদন পেতে ব্যার্থ হলে তাদেরকে ২০১২ সালের শেষ পর্যন্ত বিদেশী ছাত্র ভর্তির সুযোগ দেয়া হয়েছে। তবে ২০১২ সালের এপ্রিল মাসের মধ্যে যদি কোন কলেজ তাদের হাইলী ট্রাস্টেড কলেজ হিসাবে লাইসেন্স পেতে ব্যর্থ হয় সেক্ষেত্রে সেসব কলেজগুলো নতুন কোন শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে না। অবশ্য প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কোন ছাত্রের ভিসা নবায়নের প্রয়োজন হলে তার জন্য ভিসা লেটার (কাস লেটার হিসাবে পরিচিত) ইস্যূ করতে পারবে।
এদিকে, পূর্ব লন্ডনের অনেকগুলো এ-রেটেড কলেজ রয়েছে যারা মূলত বাংলাদেশী, ভারতীয়, পাকিস্তানী এবং নেপালী শিক্ষার্থীদের উপর ভিত্তি করেই তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী আগামী বছরের এপ্রিল নাগাদ এসব কলেজগুলোকে হাইলী ট্রাস্টেড কলেজ হিসাবে তাদেরকে লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে। তবে হাইলী ট্রাস্টেড কলেজ হওয়ার কঠোর শর্তাবলী পূরণ করা আদৌ সম্ভব কি-না তা নিয়ে চিন্তিত কলেজ মালিকদেরই কেউ কেউ। তবে ব্যবসায়িক কারনে মনোবল চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করছেন কলেজের মালিকরা।
প্রচলিত ব্যবস্থায় হাইলী ট্রাস্টেড স্পন্সর হওয়ার জন্য ৯ টি শর্ত অবশ্য পূরণীয় হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব শর্ত পূরন সাপেক্ষ কলেজগুলোকে হাইলী ট্রাস্টেড হিসাবে লাইসেন্সের আবেদনগুলো বিবেচনা করা হবে। আবেদনপত্র জমা দেয়ার পূর্বের ১২ মাসের পারফরমেন্স জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আবেদনপত্র জমা দেয়ার পূর্বের ৬ মাস বিরতিহীনভাবে এ-ট্রাস্টেড স্ট্যাটাস নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকা বাঞ্চনীয়। হাইলী ট্রাস্টেড হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাত্রদের ভিসা প্রত্যাখ্যাতদের হার বিবেচনায় নেয়া হবে। তবে এক্ষেত্রে হোম অফিস সুনির্দিষ্ট কোন হার নির্ধারন করে দেয়নি। হোম অফিসের সন্দেহ বিপূল সংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশুনার উদ্দেশ্যে ব্রিটেন আসলেও তারা মূলত স্টুডেন্ট নয়। তাই হাইলী ট্রাস্টেড কলেজগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে তারা। হোম অফিস বলছে ছাত্র ভর্তি দেয়ার আগে কলেজগুলো যথাযথভাবে তাদের যাচাই করতে হবে। কোন কলেজের ভিসা লেটারের বিপরীতে ইস্যু করা ভিসাগুলোর মধ্যে ২% এর বেশী ছাত্র কোর্স শুরুর একমাসের মধ্যে যদি কলেজে রিপোর্ট করতে ব্যর্থ হয় তাহলে সেটাকে অপ্রত্যাশিত বলে বিবেচনা করা হবে। হাইলী ট্রাস্টেড কলেজ হিসাবে কোন কলেজকে নিশ্চিত করতে হবে যে, তাদের চিঠির উপর ভিত্তি করে ব্রিটেনে প্রবেশ করা ছাত্রদের ৫ শতাংশের বেশী অকৃতকার্য বা কলেজে নিবন্ধন করতে ব্যর্থ হবে না। এছাড়াও আরো অনেক কঠোর শর্ত পালন করতে হবে হাইলী ট্রাস্টেড কলেজগুলোকে। তবে সরকার বলছে চলতি বছরের গ্রীস্মে হাইলী ট্রাস্টেড হওয়ার যোগ্যতা নির্ধারনী শর্তগুলো পর্যালোচনা করবে।
তবে পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে ছাত্ররা বলছে, এ বা বি-ট্রাস্টেড কলেজগুলোর অনেকগুলোর জন্যই হাইলী ট্রাস্টেড স্ট্যাটাস পাওয়া দূরূহ হবে। ছাত্ররা বলছে অধিকাংশ কলেজের শিক্ষার্থীদের পাসের হার আশাব্যান্জক নয় যা হাইলী ট্রাস্টেড স্পন্সর হওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম যোগ্যতা হিসাবে বিবেচনা করা হয়। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ব্রিটেনের বিভিন্ন বিমান বন্দরে প্রতিদিন বিপূল সংখ্যক স্টুডেন্টকে বিভিন্ন কারনে এন্ট্রি দেয়া হচ্ছে না। নতুন ব্যবস্থায় ইউকেবিএ কমকর্তারা বিশেষ ক্ষমতার প্রয়োগ ঘটালে এসব কলেজগুলোর কি পরিমান শিক্ষার্থী ভাষাগত কারনে ব্রিটেনের বিভিন্ন বিমান বন্দর থেকে ফেরৎ পাঠানো হবে তাও এ মূহুর্তে আন্দাজ করা কঠিন। তবে, হাইলী ট্রাস্টেড স্পন্সর হতে হলে কলেজগুলোর স্পন্সরে ভিসা পাওয়া কিন্তু ব্রিটেনে প্রবেশে ব্যর্থ হওয়া ছাত্রদের হারও বিবেচনায় নেয়ার কথা।
এদিকে, কলেজগুলোর শিক্ষার মান দেখাশুনার জন্য নতুন নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রচলিত ব্যবস্থায় এসিক বা ব্যাক এর অনুমোদন নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর সুযোগ থাকলেও ২০১২ সালের শেষ দিকে অফস্টেড অথবা সমমানের নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন ছাড়া বিদেশী শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাবে না। নিয়ন্ত্রক সংস্থার একটি তালিকাও হোম অফিসের ওয়েব সাইটে দেয়া হয়েছে।
হোম অফিসের নতুন নীতিমালা প্রকাশ পাওয়ার পর ব্রিটেনে প্রাইভেট কলেজগুলোতে অধ্যয়নরত বাংলাদেশীসহ হাজার হাজার বিদেশী ছাত্র চরম উদ্বেগ আর উৎকন্ঠার মধ্যে দিনাতিপাত করছে। তাদের বক্তব্য কলেজগুলোর বিরুদ্ধে সরকারী কঠোর অবস্থান দেখাতে গিয়ে মূলত হাজার হাজার বিদেশী ছাত্রের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। সরকারী নিয়ম অনুসারে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানগুলো যদি ছাত্রদের অজ্ঞাতসারে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয় তাহলে ছাত্রদের জমা দেয়া অর্থের ব্যাপারের সরকারী ঘোষনা প্রত্যাশা করছে অনিশ্চয়তায় থাকা ছাত্ররা ।
সূএ:ইউকেবিডি নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



