somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাত্রপাত্রী

০৯ ই অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ১০:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রায় দের যুগ আগের কথা। যদিও এখোনো কন্যা শিশুর জন্ম হলে আমাদের দেশের কতিপয় কিছু বাবা রা মিষ্টির দোকানে না ছুটে মুখ গোমরা করে বসে থাকে! আর সে সময় তো মেয়েদের বাবা কে বলা হত কন্যা দ্বায়গ্রস্ত পিতা। বিয়ের সময় ছেলে হলে যৌতুক আসবে, কিন্তু মেয়ে হলে যৌতুক দেয়ার ভয়ে অস্থির থাকতেন বাবারা। তার পরেও আবার কন্যা কে দেখতে এসে পাত্রপক্ষ যেসব সিন সিনারি করত তা আমরা সবাই কম বেশি জানি। গরু কিনতে এসে যেমন লেজ উচুঁ করে দেখতে হয়, তেমনি মেয়েদের কেও যেন কাপড় তুলে দেখতে পারলে তারা তৃপ্ত হন!!
যাইহোক, সে সময়ের নীলু আপুর একটি ঘটনা বলব। মেট্রিক পরীক্ষা দিয়ে কেবল উচ্চ শিক্ষার জন্য কলেজে পা রেখেছেন আপু। ওমনি শুরু হয়ে গেল বিয়ের জন্য তোড়জোড়। আমার বয়স তখন ১৫। টুকটাক বুঝতে শিখেছি। আমরা নীলু আপুদের বাসায় ভাড়া থাকতাম। সেদিন ছিল শুক্রবার। ঢাকা থেকে অনেক বড় একটা সম্মন্ধ এসেছে। বিকেল ৫ টা নাগাদ ছেলে পক্ষ এসে পৌঁছবে। সকাল থেকেই নীলু আপুর মা, বাবা দারুণ ব্যস্ততা নিয়ে ছুটাছুটি করছেন। নীলু আপুকে জোর করে পাঠানো হলো বিউটি পার্লারে। ছেলেরা মেয়ের ছবি দেখে এক রকম পছন্দ করায় আজ আসছে মুখোমুখি দেখার জন্য। যে ভাবেই হোক এই ছেলের ঘারে মেয়েকে চাপাতে পারলে যেন নীলু আপুর বাবার হাড়ে বাতাস লাগে!
৫ টার আগেই ছেলে সহ তার মা, ভাই, ভাবী, খালা আর খালু এসে পৌছুলেন। নীলু আপুর বাবা যথাযথ আদিক্ষেতা দেখিয়ে বসার ঘরে নিয়ে গেলেন। কলাকুশল বিনিময় শেষে শুরু হলো কন্যা দেখার পালা -
নীলু আপু নীল রংয়ের একটা শাড়ি পরে ঘর আলো করে সবার চোখ কপালে তুলে প্রবেশ করলেন। খুব সুন্দর লাগছে তাকে। কিন্তু আমাদের কাছে সুন্দর লেগে তো কাজ নেই!! খদ্দের মহাশয় রা নেড়েচেড়ে দেখে যদি পছন্দ করে তবেই কিনা এই সৌন্দর্যের মুল্য আছে!!
তো ছেলের ভাবি প্রথমে শুরু করলেন মেয়ে দেখা। তার কার্যক্রম গুলো যথাক্রমে এরকম - প্রথমে আপুর চুল টানলেন, হা করতে বললেন দাত দেখার জন্য, দাড়াতে বললেন, হাটতে বললেন এবং বলতে লজ্জা লাগছে উনি আপুর ভ্রু পর্যন্ত চিমটি কেটে দেখলেন ওটা আসল না নকল!! যদিও এগুলো করতে একটুও বিব্রত বোধ করেননি তিনি। যাক, ভাবীর দেখা শেষ! এবার তিনি তার খালা শাশুড়িকে অর্থাৎ ছেলের খালা কে উদ্দেশ্য করে বললেন -
"আম্মা, আপনি একটু দেখেন!!" এভাবে দেখার পরেও আর কিভাবে দেখা যায় তা আমার মাথায় ঢুকল না! যাইহোক এবার খালা শাশুড়ি যা করলে তাতে আমরা সবাই অবাক!! তিনি গ্লাসের পানিতে হাত ভিজিয়ে নীলু আপুর মুখে ঘষলেন! অর্থাৎ তার গায়ের রং আসল না নকল সেটা দেখার জন্য! যখন দেখলেন ঠিক আছে তখন বললেন -
"মেয়ে আমাদের পছন্দ হয়েছে, এই বকুল আংটি টা মেয়ের হাতে পড়িয়ে দে"
নীলু আপুর বাবা আলহামদুলিল্লাহ বলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন।
ছেলের নাম বকুল। সে এতক্ষণ চুপচাপ বসে ছিলো। খালার আদেশ পালন করতেই পকেট হাতরে আংটি টা বের করে নীলু আপুর হাতে পরাতে যাবে ঠিক তখনই তাকে থামিয়ে দিয়ে প্রথম মুখ খুললেন আপু! -
"এক মিনিট"!!
ছেলে সহ আমরা সবাই হা হয়ে গেলাম! তিনি ছেলে পক্ষ কে উদ্যেশ্য করে বললেন -
"আপনারা না হয় আমাকে দেখলেন, পছন্দ করলেন, কিন্তু আমি তো এখোনো ঠিকমতো আপনাদের ছেলে কে দেখলাম না!! আমার পছন্দ হলো কিনা সেটা জিজ্ঞাসা না করেই আংটি পরিয়ে দিচ্ছেন!!! এ কেমন বিচার??"
আমরা সবাই হা করে তাকিয়ে আছি আপুর দিকে!! তিনি এখোনো শেষ করেননি তার কথা! আবারো শুরু করলেন -
"আর তা ছাড়া আপনাদের ছেলের কোন বদ অভ্যাস আছে কিনা সেটাও তো আমাকে জানতে হবে! আর অবশ্যই আপানদের ছেলের কিছু ব্লাড টেস্ট রিপোর্ট আমাকে পাঠিয়ে দিবেন, আমি দেখতে চাই তার শরীরে এইডস বা অন্য কোন রোগের জীবানু আছে কিনা!! তারপর আমি যদি মনে করি তো আপনাদের জানাবো, আপনারা এসে আংটি পড়িয়ে বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করে যাবেন। আপনাদের যেমন এত দেখার ও জানার অধিকার আছে, তেমনি আমারো আমার জীবন সঙ্গি সম্পর্কে বিষদ জানার অধিকার আছে বলে আমি মনে করি, ধন্যবাদ!!"
আর একটা কথাও না বলে নীলু আপু অন্য ঘরে চলে গেলেন। আপুর বাবা মাথা নিচু করে বসে আছে। ছেলের খালা, ভাবী তারা যেন জমে গেছে! ছেলে আংটি হাতে নিয়ে এখোনো ঠাঁই দাড়িয়ে আছে ...!!!
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ১০:৪৮
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সব হারিয়েও বেঁচে থাকা: একজন রোকসানা রুমার নিঃসঙ্গ গল্প

লিখেছেন ওয়াদুদ সোহেল মোল্লা, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬


জীবন আসলে বড় অদ্ভুত এক গোলকধাঁধা। আমরা ভাবি মেধা, ডিগ্রি আর সাফল্য দিয়ে পুরো জীবনটা সাজিয়ে ফেলা যাবে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস মানুষকে কোথায় এনে দাঁড় করায়, তা কেউ জানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিটারে টাকা ভরতে গিয়ে এ কি হলো আমার সাথে। না পড়লে চরম মিস।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১২

বিদুৎ মিটার, দুই প্রকার। এক হচ্ছে প্রিপেইড আরেকটি পোস্ট পেইড। আমার কাছে পোস্ট পেইড ভালো লাগে। কারন এখানে বিলের কপি দিয়ে যায়। ও বিলের কপি নিয়ে ব্যাংকে গিয়ে জমা দিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=নীলাম্বরী সেজে আছি=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৩৮



এই এসো না কাছে এসো,
নীল শাড়ীতে নীলাম্বরী
ঠায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষাতে
এসে ভাসাও প্রেমের তরী।

নীল সমুদ্দুর ডেকেছে আজ
তাই দাঁড়িয়ে আছি একা
এসো তুমি হাওয়ায় উড়ে
এসে করো একটু দেখা।

হাঁটতে ইচ্ছে বালিচরে,
তুমি আমার - পাশে হাঁটবে?
মনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল্যস্ফীতি বাড়লে বা কমলে আমরা টের পাই না কেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১


গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে বাংলাদেশে এখন কয়টা ঋতু আছে তা কেউ বলতে পারে না। আমার মনে হয় গ্রীষ্ম আর বর্ষার একটা মিশ্র ঋতু আছে, আর আছে শীত। এই গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×