somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নয়ন বিন বাহার
তোমাদের এ শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছি। দূরে! বহু দূরে! ঈগল চোখের আড়াল খুঁজে নিচ্ছি- যেখানে সমস্ত পাপী স্বীকারোক্তি দেয় তাদের আকন্ঠ পাপের। অন্তত তারা সত্যের আড়ালে পাপ করে না; পাপ নিয়ে করে না কোন মিথ্যাচার!

কাঁদলে হৃদয় পচে যায়

০৫ ই অক্টোবর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পূর্ব প্রকাশের পর.....
আমাকে প্রিয়জনের মত আশ্বস্ত করে সে শুরু করল সঙ্গীত সুর -
রাজ কন্যার জানালার পাশে থাকত একটা দোয়েল। একদিন, দুদিন, সবদিন দোয়েলটি প্রেমে পড়ল রাজকন্যার। একদিন সাহস করে দোয়েলটি রাজকন্যাকে জানাল তার নিভৃত ভালবাসার কথা।
রাজকন্যাতো হেসে কুটি কুটি। গড়াগড়ি। রাজকন্যার সেকি মাতামাতি। থামতে চায় না। দোয়েল ভয় পেয়ে গেল। না জানি কি বলতে কি বলে ফেলল। ভেবেই আকুল।
অবশেষে রাজকন্যা গম্ভীর হয়ে তাকাল দোয়েলের দিকে।
বলল- সত্যিই কি তুমি আমাকে ভালবাস?
একটু ভরসা পেল দোয়েল। সাহস করে আত্মবিশ্বাসের সাথে বলল, হ্যাঁ ভালবাসি।
প্রমান করো।
চারপাশে সমুদ্রের ঢেউ তুলে রাজকন্যা বলল।
কলজে শুকিয়ে গেল দোয়েলের। কিভাবে প্রমান করবে তার ভালবাসা। ভালবাসা কি প্রমান করা যায়। দুচোখে অসীম শূন্যতা তৈরী করে সে তাকিয়ে রইল রাজকন্যার দিকে। রাজকন্যার দুচোখে তখন নিশ্চল চঞ্চলতা।
রাজকন্যা বলল, ঠিক আছে তুমি আমাকে একটা গোলাপ এনে দাও। তবেই বুঝব তোমার ভালবাসা। তোমার সাথে আমি নাচব, গাইব, বেড়াবো।
বেলি ফুলের গন্ধ মেশানো স্নিগ্ধ বাতাস ছুঁয়ে গেল দোয়েলের মনে।
সূর্যের সোনালী রথে চড়ে বাতাসের ঢেউয়ের তালে গা ভাসিয়ে দিল দোয়েল।
একটি গোলাপের জন্য।
কিন্তু দোয়েলের বাগানে কোন গোলাপ নেই। কোথাও নেই। চারদিকে গোলাপের হাহাকার। গোলাপ শুন্য প্রতিটি বাগান।
গোলাপ কোথায় পাবে দোয়েল।
হাওয়ায় নাচতে নাচতে দোয়েল গেল একটি গোলাপ গাছের কাছে। তার কাছে চাইল একটি গোলাপ।
আমার গোলাপ তো সাদা। তোমার লাগবে হৃদয় রঙের গোলাপ। তুমি বরং আমার ভাইয়ের কাছে যাও। ও হয়তো তোমাকে সাহায্য করতে পারবে।
দেয়েল আবার উড়ে উড়ে এল অন্য গোলাপ গাছের কাছে। চাইল একটি গোলাপ।
-আমার গোলাপতো হলুদ রঙের। সূর্যমুখীর পাপড়ী যেমন হলুদ, ঝরা পাতা যেমন হলুদ তার চাইতেও বেশী হলুদ আমার গোলাপ। এই গোলাপ দিয়ে তো তোমার হবে না। তুমি বরং আমার ভাইয়ের কাছে যাও। যে থাকে রাজকন্যার জানালার নিচে।
চাঁদের মুক্তোর রথে চড়ে দোয়েল এল রাজকন্যার জানালার নিচের গোলাপ গাছের কাছে।
প্রচন্ড উচ্ছ্বাস নিয়ে দোয়েল তার নিবেদন জানাল গোলাপের জনকের কাছে।
শরতের আকাশে টুকরো টুকরো মেঘ জমে যেমন ঘটায় অঝোর বরিষন তেমনি সময়ের সমসাময়িকতা আমার হৃদয়ে জাগিয়েছে রাজকন্যার প্রতি অজস্র ভালবাসা। আমার এ প্রণয় প্রমান করতে হবে। লাগবে একটি রক্তিম গোলাপ। বিশ্বসংসার তন্নতন্ন করে খুঁজে এসেছি। পাইনি। যদি গোলাপ না পাই তবে রাজকন্যাকে আমি হারাব। রাজকন্যা বলেছে গোলাপ নিয়ে গেলে সে আমার সাথে নাচবে, গাইবে।গোলাপ না পেলে রাজকন্যা হাসবে না।
আমার একটা গোলাপ চাই। ভালবাসার গোলাপ।
হরিনের মত কান খাড়া করে সকল কথা শুনল গোলাপ গাছ। ঈষৎ অস্থির মনে হল তাকে কিংবা অস্বস্থি।
ভাই দোয়েল। নির্লিপ্তভাবে শুরু করল গোলাপ গাছ।
আমার একটিই ছিল রক্ত গোলাপ। কিন্তু দেখ তুষার পড়ে কেমন বিবর্ন হয়ে গেছে। এই গোলাপ দিয়ে তো তোমার হবেনা।
ফাটা বেলুনের মত চুপসে গেল দোয়েল। মাথাটা দুলে উঠল যেন। কোন রকমে আকড়ে ধরল একটি নড়বড়ে ডাল। ফ্যাকাশে গলায় বলল, যে করেই হোক আমার একটি গোলাপ লাগবে। তুমি ছাড়া আর কোন ভরসা নেই। ভাই একটি গোলাপ।
একটা উপায় আছে দোয়েল ভাই। কিন্তু সেটা বড়ই কঠিন হবে। তুমি বরং বাদ দাও।
যে গোলাপ না পেলে ভালবাসবে না সে তোমাকে গোলাপ পেলেও ভালবাসবে না। তুমি বুঝছ না কেন?
-না ভাই, তুমি যেভাবে ভাবছ তা ঠিক নয়। বল না কি করলে একটি গোলাপ পাই? আমি সব করতে রাজি আছি। তুমি শুধু বল।
-তুমি গোলাপ পাবে ঠিকই তবে তখন হয়তো তোমার জীবন থাকবে না।
-জীবনের বিনিময়ে গোলাপ? বড্ড বেশি দাম। হ্যাঁ ভালবাসার জন্য তো দামী জিনিসই উৎসর্গ করতে হয়। কি বল। তবেই না ভালবাসা। There is no risk in selling the head to the heart. ভালবাসার কাছে মাথা বিক্রিতে কোন ঝুঁকি নেই। তুমি বল কি করতে হবে আমাকে। আমি রাজি।
গভীর এক দীর্ঘশ্বাস গোপন করে গোলাপ গাছ বলল, তুমি সারারাত আমার কাঁটায় বুক পেতে বসে আমাকে গান শুনাবে। গান থামতে পারবে না। সারারাত রুপালী জোছনায় তুমি গান গাইবে। আমার শিরাগুলো তোমার হৃদপিন্ড থেকে রক্ত নিয়ে গোলাপের গায়ে রঙ মাখাবে। নিরবিচ্ছিন্ন গানের তালে নিরন্তর গতিতে তোমার রক্তকনিকা আমার শিরা উপশিরায় প্লাবিত হয়ে তৈরী হবে একটি ভালবাসার রক্ত গোলাপ।........চলবে
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই অক্টোবর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:২১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

গরীবের বউ সবার ভাবি

লিখেছেন অপলক , ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০২



৩৬ জুলাই আন্দোলনের পর অনেক আশায় ছিলাম। আশার গুড়ে বালি। তত্বাবধায়ক সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক গভর্ণর ড. আহসান এইচ মনসুর বুদ্ধিদীপ্ত প্ররিশ্রম করে ২০২৬ জানুয়ারীতে রিজার্ভে রেখে গেছেন ৩৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২


একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা
শুধু ২১ আগস্টের সেই ভয়াল গ্রেনেড হামলাই নয- বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে ১৯৮৮ সাল থেকে আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×