somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নয়ন বিন বাহার
তোমাদের এ শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছি। দূরে! বহু দূরে! ঈগল চোখের আড়াল খুঁজে নিচ্ছি- যেখানে সমস্ত পাপী স্বীকারোক্তি দেয় তাদের আকন্ঠ পাপের। অন্তত তারা সত্যের আড়ালে পাপ করে না; পাপ নিয়ে করে না কোন মিথ্যাচার!

কি হতো আপনার পেন নেম, ভেবেছেন?

২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ সকাল ১০:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ইংরেজীতে পেন নেম বলে একটি কথা প্রচলিত আছে, প্রকৃত নামের পরিবর্তে ব্যাবহৃত নামকেই বলা হয় পেন নেম, বাংলায় যাকে ছদ্মনাম হিসেবে অভিহিত করা হয়। কবি-সাহিত্যিকদের ছদ্মনাম গ্রহন করার রীতি অনেক আগে থেকেই প্রচলিত, অনেক কবি সাহিত্যিক প্রকৃত নামের চেয়ে ছদ্মনামেই জনপ্রিয় হয়েছেন, আবার অনেকে ছদ্মনামে লেখা শুরু করলেও প্রকৃত নামেই পরিচিত হয়েছেন। আবার অনেকের ছিল একাধিক ছদ্মনাম। কেমন ছিলো ছদ্মনামের সেই সব সাহিত্যিকেরা, ৪ পর্বের এই কথনের শুরুতেই থাকছে বাংলা সাহিত্যে ব্যবহৃত নির্বাচিত কিছু সাহিত্যিক ও তাদের সাহিত্যকর্ম.....................................................................

পর্ব-১

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর‘জীবনস্মৃতি’ পাঠ করলে আমরা দেখি রবীন্দ্রনাথও চ্যাটার্টন দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নিজে ছদ্মনাম গ্রহণ করেন। ব্যবহার করেছেন ৯ টি ছদ্মনাম, তিনি যে ছদ্মনামে লিখতেন তা হল- ভানুসিংহ ঠাকুর; অকপটচন্দ্র ভাস্কর; আন্নাকালী পাকড়াশী; দিকশূন্য ভট্টাচার্য; নবীন কিশোর শর্মণ; ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মা; বানীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ; শ্রীমতী কনিষ্ঠা; শ্রীমতী মধ্যমা।

- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ১৯৫৮ সালে প্রথম বই প্রকাশের পর তিনি লিখে গেছেন ক্লান্তিহীনভাবে। আর পাঠকও তাকে ভালোবাসা দিয়েছে হৃদয় উজাড় করে। তার প্রকাশিত প্রথম কবিতার বই একা এবং কয়েকজন।
নীল লোহিত, নীল উপাধ্যায় আর সনাতন পাঠক ছদ্মনামে লিখতেন অজস্র। তবে তাঁর নীললোহিত ছদ্মনামটিই বেশি বিখ্যাত। নীললোহিত নামে তিনি যে উপন্যাস বা গল্পগুলো লিখেছেন সেগুলোর অধিকাংশের নায়ক নীললোহিত নামে সাতাশ বছরের এক তরুণ। যার পায়ের তলায় সর্ষে। যে খোলা চোখে, খোলা মনে দেখে জীবনকে। নীললোহিতের সঙ্গে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের এক চমকপ্রদ সাক্ষাতের বর্ণনাও রয়েছে ভ্রমণকাহিনি তিন সমুদ্র সাতাশ নদীতে।

- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় যিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। যাঁর নাম শুনলেই আমাদের দেবদাস কিংবা শ্রীকান্তের কথা মনে পড়ে যায়। তাঁর সাহিত্যকর্মকে ঘিরে উপমহাদেশে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০টি চলচ্চিত্র বিভিন্ন ভাষায় নির্মাণ করা হয়, এর মধ্যে তাঁর রচিত 'দেবদাস' উপন্যাসটি বাংলা, হিন্দি এবং তেলেগু ভাষায় আটবার এবং 'পরিণীতা' দুইবার নির্মাণ করা হয়। এ ছাড়া মেজদিদি, বিন্দুর ছেলে, দত্তা, স্বামী উপন্যাস অবলম্বনেও জনপ্রিয় সব চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। 'স্বামী' চলচ্চিত্রের জন্য ১৯৭৭ সালে শরৎচন্দ্র ফিল্মফেয়ার সেরা লেখকের পুরস্কার পান।


- শওকত ওসমান, তাঁর আসল নাম শেখ আজিজুর রহমান। তবে তিনি শওকত ওসমান নামে লিখতেন। তিনি রচনা করেছেন 'জননী'-র মতো বিখ্যাত উপন্যাস। এই উপন্যাসটি ইংরেজীতে অনুবাদ করেছেন প্রবাসী বাঙালী ওসমান জামাল এবং প্রকাশিত হয়েছিলো লন্ডনের একটি নামজাদা প্রকাশনা সংস্থা থেকে। এই বিষয়ে শওকত ওসমান সাহিত্যের আরেক দিকপাল কবি শামসুর রাহমানকে তাঁর স্বভাবসুলভ চমৎকার ভঙ্গিতে বলতেন, 'শোনো শামসুর রাহমান, আমি পাশ্চাত্যকে অন্তত একটি বাংলা শব্দ উপহার দিয়েছি - জননী। তাঁর রচিত 'ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী' গল্পগ্রন্থটির অনুবাদ 'গডস অ্যাডভার্সারিজ' প্রকাশ করেছে পেঙ্গুইন পাবলিশার্স। বই দুটি বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে এবং লন্ডনের দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকা 'জননী' বিষয়ে সপ্রশংস আলোচনা প্রকাশ করেছে। আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের সময়ে তিনি লিখেছেন সাড়া জাগানো উপন্যাস 'ক্রীতদাসের হাসি'। এই উপন্যাসটিও ইংরেজীতে অনূদিত হয়েছে।


তাছাড়া বিষাদসিন্ধুর রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেন লিখতেন গাজী মিয়া নামে। প্যারীচাঁদ মিত্র লিখতেন টেকচাঁদ ঠাকুর নামে। পরের পর্বে থাকবে আরো কিছু সাহিত্যিকের ছদ্মনামের গল্প ও তাদের সাহিত্যকথন।
সাহিত্যিকগন যে নামেই পরিচিত থাকুক না কেন তারা সময়কে দিয়ে গেছেন অসাধারন কিছু সাহিত্য কর্ম, যা আমাদের ভাবায় আর ধাবিত করে সময় থেকে সময়ে।
rokomari.com থেকে প্রাপ্ত ইমেইল থেকে।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ সকাল ১০:৪২
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জগন্নাথবাসীগণ, আমার কথা শুনছেন কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

জগন্নাথবাসীগণ,
আপনাদের গরু কোরবানি যদি হযরত জাবের (রাঃ)-এর মতো
নবীজীর সম্মানে হয়ে থাকে, তাহলে মোবারকবাদ।
আর, শুধু প্রতিবাদ দেখাতে একটি অবলা পশুকে হত্যা করে থাকলে,
তার জন্যে খোদার দরবারে বিচার দিলাম।
...বাকিটুকু পড়ুন

রংয়ের মানুষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গ্রেট মাদ্রাজ ফ্যামিন যখন অনুপ্রেরণার উৎস
একদিন আমাদের সবার প্রিয় সংসদ সদস্য আমির হামজা ওয়াজে বেশ গরম গরম কথা বলছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হঠাৎ রাশমিকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

লক্ষ্মীপুরের সুপারি থেকে উপকূলের অর্থনীতি: কৃষিজ সম্পদই পারে গ্রামীণ ভাগ্য বদলাতে

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮


বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে এমন কিছু নির্দিষ্ট ফল, ফসল বা মৎস্য সম্পদ প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত হয়, যা শুধু স্থানীয় চাহিদা মেটায় না, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে জোরালো প্রভাব ফেলে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×