somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দুই ভিক্ষুকের কথোপকথন

১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১০:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বইমেলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ব্লগে আর আসব না বলে আগে একটি পোষ্ট দিলেও আমি না এসে থাকতে পারছি না সে জন্য প্রথমে আল্লাহ এবং পরে আপনাদের সবার কাছে ক্ষমা চাইছি। আমার আসলে এ ধরণের কথা বলা উচিত হয়নি যা আমি রাখতে পারব না। তবে ভবিষ্যতে চেষ্টা থাকবে এমন কোন ভুল পুনরায় না করার।

যাহোক যে জন্য এ পোষ্টটি লিখলাম। গত ২ দিন আগে অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে একটি গাড়ীর মধ্যে দুইজন ভিক্ষুকের কথোপকথন আমাকে ব্যাপক বিনোদন দিয়েছিল আর তাই আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করে দিলাম! দেখুন আপনারা এখানে কোন বিনোদন খুঁজে পান কি না।

পুনশ্চ: সেই ভিক্ষুক দুজনের একজন রাজশাহী নিয়ে বেশ বাজে একটা মন্তব্য করেছিল, আমি প্রতিবাদ করতে গিয়েও পারিনি যে তাদের সঙ্গে শুধু শুধু লাগতে যাওয়া বা তাদেরকে জ্ঞান দিতে গিয়ে নিজে কোন একটা ক্যাচালে না জড়িয়ে যাই এই ভয়ে। শুধু মুখ বুজে তা সহ্য করে গিয়েছি, কারণ আমিও যে রাজশাহী বিভাগের মানুষ।



নিচে তাদের কথোপকথন হুবহু তুলে দিলাম, যদিও ভাষাগত কোন পার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু মুল বিষয়বস্তু এমনি ছিল।

- হালায় এইহানে যাইয়া তো একদম শান্তি পাইলাম না! ময়লা, ডেরেনের পানি আর ...... গন্ধের জ্বালায় ঠিকমতো খাইতেও পারলাম না।
- হ, ঠিকই কইছস, টেকাও বেশি কামাইতে পারলাম না!
- কি আর করমু ক, এইদিকে গেলে ময়লা ....... ঐদিকে আবার ঘুমানির যাগা নাই! তাইলে কোনহানে যাই ক' দেহি।
- আরে তুই তো ঠিকই কইছস, হালায় বিরানিডাও টিক কইরা খায়তে পারলাম না। আসলেই ঐদিকে যায়্যা লাভ অইল না।
- আরে হুন, এই রহম দুয়েকদিনের লাইগ্যা কোনহানে যাইয়া লাব অইব না, যাইতে অইব ১০-১৫ দিনের লাইগ্যা। তাইলে একবারে মেলা টেকা কামান যাইব।
- ১০-১৫ দিনের লাইগ্যা গেলে তো বালাই অয়, তয় কোনদিকে যামু? কোনহানে গ্যেলে দুইডা টেহা বেশি হামু?
- যাইতে অইব দুরে, যাইয়া ১০-১২ দিন থাইক্যা এরপরে আইতে অইব।
- হ, তাইলে ল রাজশাহী যাই।
- আরে কি কছ, রাহশাহী যাইয়া করবি কি? ঐইডা তো ভাতে মরা এলাকা, ঐহান থাইক্যা মানুষ ঢাহা শহরে আইয়্যে টেহার লাইগ্যা, আর তুই ঐহানে যাইবার চাছ?
- আরে ঠিকই তো কইছস!

দুজনের হা হা করে হাসতে থাকে।

-আরে রাজশাহীর মাইনষে বিরিয়ানি কায় আম দিয়া।
- এহ্ বিরিয়ানি, না পোলাউ, হালারা ভাত পায় কোনহানে আবার বিরিয়ানি কাইব।
- আরে আমি এর আগে গেছিলাম তো, তহন দ্যাখচি।
- আরে তুই হামাক রাজশাহী চিনাচ্চু, মুই কি রাজশাহী চিনি না মনে করিচ্চিচ, দ্যাক আমি অহন রাজশাই'র ভাষা কইচ্চি।
- হাঃ হাঃ হা, আরে আমি এর আগে তো গেছি ওইখানে, আব্দুল.........র, না....র, ............ এসব যাগায় আছিলাম, তখন দেখচি অরাও টাকা অলা লোক। বিরিয়ানি কায় আম দিয়া, হাঃ হাঃ হা।
- আরে হালা, তুই কি পাগল অইলি নাহি ওই দিকে না যাইতে অইব ঢাহার আশেপাশে, যেহানে ম্যালা ট্যাহা পামু আর বিরিয়ানি কাইতে পারমু। ঐদিকে গ্যালে ট্যাহাও পামু না আর তুই প্রত্যেকদিন বিরিয়ানি খাবি কই?
- অ, তুই ঠিকই কইছস, অইদিকে গ্যালে বিরিয়ানি কামু কই? হাঃ হাঃ হাঃ

এ পর্যন্ত শোনার পর আমার আর তাদের কাছাকাছি বসে থাকার ধৈর্য্য কুলালো না বলে সামনের দিকে একটা খালি আসন পেয়ে সেখানে এসে বসি আর মনে মনে রাগে ফুঁসতে থাকি, আরে হালার জমিদারেরা করছ তো ভিক্ষা, আবার রাজশাহীরে কছ ভাতে মরার দ্যাশ, হালারা যে বিরিয়ানি বিরিয়ানি কইরা দম বাইর কইরা হালাইতে আছস, হেই বিরিয়ানির চাইল আহে কোনহান থাইক্যা এইটার খোঁজ রাহস?

কিছুক্ষণ পরে তাদের পুরো কথপোকথন আবার ভাবতে ভাবতে মনে মনে প্রচুর পরিমাণে হেসে নেই। করে ভিক্ষা, খায় বিরিয়ানি থাকে ......... এর মধ্যে হেরা আবার কয় রাজশাহী ভাতে মরা দ্যাশ।

.......... এর স্থলে পড়তে হবে যা আমরা প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে নির্দিষ্ট একটি স্থানে রেখে এসে পরিতৃপ্ত হই।

সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১:০৭
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অন্ধের দেশে আয়না বিক্রি করতে এসেছিলেন ইউনুস স্যার!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৩৪



অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ছেড়ে গেলেও নতুন বাংলাদেশ গড়ার সার্বিক দায়িত্ব আমার, আপনার, আমাদের সবার। দীর্ঘ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন কিরকুট, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৫৪

*** জামাত শিবির এর যারা আছেন তারা দয়ে করে প্রবেশ করবেন না ***


বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ এখন আর কেবল একটি দলের ভাগ্যের প্রশ্ন নয় এটি রাজনৈতিক ভারসাম্য, গণতান্ত্রিক কাঠামো... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৃথিবীর বুকে এই দুর্যোগ যেন কোনওদিন না আসে

লিখেছেন অর্ক, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২২



পৃথিবীর বুকে এই দুর্যোগ যেন কোনওদিন না আসে। দুর্ধর্ষ মাফিয়া একটি রাষ্ট্রের মালিক হতে যাচ্ছে। দেশ সীমানা ভূখণ্ডের গণ্ডি পেরিয়ে, পৃথিবীর জন্যই অত্যন্ত বিপদজনক। অবশ্য নির্মম বাস্তবতা হলো, আগাগোড়া অসভ্য,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবশেষে দেশে গণতন্ত্র কায়েম হইলো

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৩

দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে এখন আমাদের আর কোন টেনশন রইলো না। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের বিজয়ী প্রার্থীদের আজ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই মূলত দেশ আবার গণতন্ত্রের ট্রেনে যাত্রা শুরু করলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রঙিন ডালিম ফলের একটি ব্যতিক্রমি অঙ্গ বিশ্লেষন ( Anatomy of Pomegranate )

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১১


সবুজ পাতার আড়াল ভেঙে
ডালিম ঝুলে লাজুক রঙে
বাইরে রক্তিম খোলস কঠিন
ভিতরে দারুন জীবন রঙিন।
শত দানার গোপন ভুবন
একসাথে বাঁধা মধুর টান
হৃদয়ের হাজার স্বপ্ন যেন
লুকিয়ে থাকা রক্তিম গান।

উপরে প্রচ্ছদ চিত্রে রেনেসাঁ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×