somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আলো-আঁধারের পথে

০৯ ই জুলাই, ২০২৪ সকাল ৮:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছোট্ট একটি গ্রামে বেড়ে ওঠা রুমী। গ্রামের নাম চণ্ডীপুর। রুমীর বয়স মাত্র এগারো। গ্রামের স্কুলে সে ক্লাস ফাইভে পড়ে। রুমী খুবই মেধাবী এবং তার স্বপ্ন বড় হয়ে ডাক্তার হওয়ার। কিন্তু গ্রামের অর্থনৈতিক অবস্থার কারনে তার পরিবারের জন্য সেই স্বপ্ন পূরণ করা যেন দূর আকাশের তারা।

রুমীর বাবা, নূরুল ইসলাম, একজন কৃষক। ছোট্ট একটা জমিতে ফসল ফলিয়ে কোনো রকমে পরিবারের খাওয়া-দাওয়া চালান। মা, রহিমা বেগম, গৃহিণী। তিন ভাই-বোনের মধ্যে রুমী সবার বড়। ছোট ভাই, রাসেল, এবং ছোট বোন, রিতা, এখনো স্কুলে যায় না।

রুমীর প্রতিদিনের রুটিন খুবই ব্যস্ত। সকালে উঠে ঘর গোছানো, মাকে রান্নার কাজে সাহায্য করা, তারপর স্কুলে যাওয়া। স্কুল থেকে ফিরে পড়াশোনা, আবার বিকেলে মাঠে খেলতে যাওয়া। কিন্তু রুমীর মনের মধ্যে একটা চিন্তা সব সময় ঘোরে—তাদের পরিবার কিভাবে এই দারিদ্র্যের ফাঁস থেকে বেরিয়ে আসবে?

একদিন স্কুল থেকে ফেরার পথে রুমী দেখে গ্রামের মাটির রাস্তা দিয়ে একটি বড় গাড়ি আসছে। সে এমন গাড়ি আগে কখনো দেখেনি। গাড়ি থেকে নামলেন একজন সুন্দর পোশাক পরা মহিলা। গ্রামের লোকেরা জড়ো হয়ে গেলো এবং সবাই জানালো যে এই মহিলা আসলে শহরের নামী এনজিওর কর্মকর্তা। তাদের উদ্দেশ্য গ্রামে একটা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করা, যাতে গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হয়।

রুমী এই খবর শুনে খুবই খুশি হলো। সে ভাবলো, যদি এই সুযোগটা কাজে লাগাতে পারে তাহলে হয়তো তার পরিবারের কষ্ট কিছুটা কমবে। মহিলা তার গ্রামের মানুষের সাথে কথা বললেন এবং জানালেন, তারা এখানে স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করতে চান, যেখানে গ্রামের মেয়েদের প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাস্থ্যকর্মী বানানো হবে।

রুমীর মা রহিমা বেগম এই সুযোগটা নিতে চান, কিন্তু তার কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই। রুমী মাকে সাহস দিলো এবং বললো, "মা, তুমি যদি মন দিয়ে চেষ্টা করো, তাহলে অবশ্যই পারবে।" রহিমা বেগম সাহস করে প্রশিক্ষণের জন্য নাম লেখালেন। প্রশিক্ষণ চললো প্রায় তিন মাস। সেই তিন মাসে রুমী মাকে সব কাজে সাহায্য করতো এবং মাকে পড়াশোনা শেখাতে সাহায্য করতো।

প্রশিক্ষণ শেষে রহিমা বেগম গ্রামের প্রথম মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করলেন। তিনি গ্রামের মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করতেন এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানোর কাজ করতেন। তার উপার্জনে পরিবারের অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলো।

রুমী তার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে লাগলো। সে আগের থেকে আরও মনোযোগী হয়ে পড়াশোনা করতো। তার স্বপ্ন এখন আরও কাছাকাছি মনে হতে লাগলো। রুমী এবার স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষায় প্রথম হলো এবং তার শিক্ষক তাকে নিয়ে গর্বিত। শিক্ষকেরা ঠিক করলেন, তারা রুমীর পড়াশোনার দায়িত্ব নেবেন এবং তাকে ভালোভাবে পড়াশোনা করার সুযোগ দেবেন।

রুমী এখন শহরের একটি নামী স্কুলে পড়ে। সে খুবই পরিশ্রমী এবং তার শিক্ষকেরা তাকে সবসময় উৎসাহ দেন। গ্রামের মানুষ এখন রুমীকে তাদের গর্ব বলে মনে করে। রুমী জানে তার স্বপ্ন পূরণের পথে অনেক বাধা আসবে, কিন্তু সে হার মানবে না। একদিন সে তার গ্রামের সকল মানুষের মুখে হাসি ফোটাবে, এটাই তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য।

এই গল্পটি আমাদের শেখায়, কঠোর পরিশ্রম এবং সংকল্প দিয়ে জীবনের প্রতিটি বাধা অতিক্রম করা সম্ভব। রুমীর মতোন প্রতিটি শিশু তাদের স্বপ্ন পূরণে সফল হোক, এটাই আমাদের প্রার্থনা।

ছবি ক্রেডিট : Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জুলাই, ২০২৪ সকাল ৮:১০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“মুক্তিযোদ্ধা কোটা বিরোধী আন্দোলন” । কারো বিশেষ অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়াকে বৈষম্য বলে না।

লিখেছেন বাউন্ডেলে, ১১ ই জুলাই, ২০২৪ রাত ১০:০২


বৈষম্য কাহাকে বলে ? এটা আগে ভালো করে জানুন, তারপর গায়ের জোর দেখান। কারো অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়াকে বৈষম্য বলে না। প্রশ্নফাঁস জেনারেশন চিলের পিছনে ঘুরছে।
সবাই সমান নয়। সবার অবদানও... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেখে এলুম অষ্ট্রেলিয়া…… পর্ব - ২ [ ছবি ব্লগ ]

লিখেছেন আহমেদ জী এস, ১১ ই জুলাই, ২০২৪ রাত ১০:৫২


এসেছি অষ্ট্রেলিয়া দেশটি দেখতে। ভাই-বোনেরাও দেশটি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখানোর জন্যে পাগল। তাই এখান থেকে ওখানে এতো এতো ঘুরতে হয়েছে যে খেই হারিয়ে ফেলতে হচ্ছে এখন লিখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

~~~কোটা তুমি মহান~~~

লিখেছেন জটিল ভাই, ১২ ই জুলাই, ২০২৪ সকাল ৮:৫০

♦أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشِّيْطَانِ الرَّجِيْمِ (বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহ্'র নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি)
♦بِسْمِ ٱللَّٰهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ (পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহ্'র নামে)
♦ٱلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ (আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক)


(ছবি নেট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রিজাইনার চিঠি

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুলাই, ২০২৪ সকাল ১১:৪৫

সাস্কাচুয়ানের গরম

আমি এখন আছি কানাডার সাচকাচুয়ান প্রভিন্সের প্রাদেশিক রাজধানী রিজাইনা শহরে। সাস্কাচুয়ানের নাম শুনলেই সবার মুখে এক কথাঃ উহ, কি ঠাণ্ডারে বাবা! সবার খালি মেঘে ঢাকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্রুকলীনের চিঠি

লিখেছেন সোনাগাজী, ১২ ই জুলাই, ২০২৪ বিকাল ৫:০৩



ব্রুকলীনের বাংগালী পাড়ার রাজধানী হচ্ছে ২টি রাস্তার ক্রসিং এলাকার মাঝে অবস্হিত শপিং এলাকা ( ১ বর্গ কিলোমিটার ), ইহার নাম চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড; ইহা বাংগালীদের অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কেন্দ্র;... ...বাকিটুকু পড়ুন

×