সম্প্রতি গফরগাঁওয়ে আওয়ামী লীগের একজন সাংসদ আজবকাণ্ড করেছেন। জনতা দাবিদাওয়া নিয়ে সমবেত হয়েছিল তাঁর কাছে। জনতার অভিযোগের সুন্দর জবাব দিয়েছেন তিনি। নিজ হাতে বন্দুক তাক করে গুলি ছুঁড়েছেন তাঁর প্রিয় এলাকাবাসীর দিকে। ক্ষমতার সিংহাসনে বসলেই এসব মন্ত্রী-এমপিদের চোখে জনগণকে মনে হয় গরু-ছাগল। জীব জানোয়ারের আবার দাবিদাওয়া কীসের! অযথা গোলমাল করলে এভাবেই তাঁরা ঠাণ্ডা করেন। তাঁদের রাজনীতি শেখার বইয়ে এই ‘টিপস্,ই সম্ভবত লেখা আছে।
গত জোট সরকারের আমলের একটি ঘটনা শুনুন। রাজধানির শনির আখরায় পানির জন্য হাহাকার। জনগণ বাধ্য হয়ে রাস্তায় নামলো। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ব্যারিকেড দিলো আর কোনো উপায় না দেখে। স্থানীয় সরকার দলীয় সাংসদ সেখানে উপস্থিত হলেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে। জনতার অহেতুক গোলমাল(!) থামাতে পুলিশকে তিনি গুলি করার হুকুম দিলেন। ওই এমপি সেদিন জনগণের হাতে নাকাল হয়েছিলেন।
পাঠক এ দু’টির সাথে নিচের ঘটনাটি মিলিয়ে দেখতে পারেন।
শেরেবাংলা এ.কে. ফজলুল হক। তখন তিনি অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। ফরিদপুর জেলায় এক সফরে গিয়েছিলেন। স্থানীয় লোকজন রাজনৈতিক এক মতপার্থক্যের জের ধরে তাঁর গাড়ির আশেপাশে মিছিল করছিলো। তাদের হাতে কালো পতাকা ছিলো, মাঝে মাঝে সে পতাকা তারা শেরেবাংলার গাড়িতে ঢুকিয়ে দিচ্ছিলো। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ভীড় ঠেলে বহু পরিশ্রম করে তাঁকে সার্কিট হাউজে পৌঁছে দিলো। শেরেবাংলাকে হাউজে প্রবেশ করিয়েই পুলিশ দরজায় প্রহরা বসালো। কিন্তু শেরেবাংলা পুলিশকে রীতিমতো অবাক করে দিলেন। তিনি হুকুম করলেন, ওরা যারা ভেতরে আসতে চায়, আসতে দাও। বিক্ষোভকারীরা হুড়মুড় করে ঢুকে পড়লো। এবার তাদেরকেও অবাক করে দিয়ে শেরেবাংলা সার্কিট হাউজের স্টাফকে হুকুম দিলেন, ওদের সকলকে চা খাইয়ে দাও, অনেকক্ষণ চেঁচামেচি করে ওরা হয়রান হয়ে পড়েছে।
(আমার কালের কথা:আব্দুল গফুর)
অল্প কয়েক দশকের ব্যবধানে আমূল বদলে গেছেন আমাদের রাজনীতিকরা। জনগণের মুখ পিস্তলের নল ঠেকিয়ে আর কতোদিন দমিয়ে রাখা হবে!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


