somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাধু ভাষায় ডিজুস প্রেমের গল্প (পর্ব-১) { ২য় বছর পূর্তির পোষ্ট }

২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১১:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ক্যারিয়ার,জীবন আর প্রত্যহ ঘোড়ার লাগামের ন্যায় চাহিদার উর্ধগতির জন্য জীবন যখন যায় যায় অবস্থা তখন স্বপ্নের ন্যায় এক কন্যা এসে হাজির ।তাহার বাসা-বাড়ি কোথায় না জানিয়া কিছু না বলিয়াই নিজের গন্তব্যে পৌছাইতে গাড়ি খুজিতে লাগিলাম । ভাগ্য আর ভাগ্য! কি যে ভাগ্য আমার ! একটা গাড়িও খুজিয়া পাইলাম না । না পাওয়ার অন্যরকম কারণ ছিল বৃষ্টি ।যদিও এই জিনিসটা আমার খুব পছন্দের তবুও ঐ নির্দিষ্ট সময়ে আমার কাছে ব্যাপক অসহ্যকর একটা ব্যাপার মনে হইতেছিল । কি করা উচিত বুঝিতে না পারিয়া নিজের পা'এর দিকে দৃষ্টিক্ষেপণ করিয়া বলিলাম --'চলেন দেখি,কতদূর যাওয়া যায় !' আমাদের অফিসে তো অনেকেই কাজ করে ,কিন্তু আজকে তো কাউকে রাস্তায়ও দেখছি না যে লিফট চাইব,ধুর্বাল ! প্রভাতে যে কাহার মুখচন্দ্র দেখিয়া জাগ্রত হয়েছিলুম !! পরিশেষে একখানা রিকশা যথাযোগ্য ভাড়ায় যোগাড় করিতে পারিয়া নিজেকে পলাশীর যুদ্ধজয়ী মনে হইতেছিল । এহেনভাবে নিজেকে সিরাজউদ্দৌলা ভাবিতে ভাবিতে ভাবনায় কোথা হতে যেন ঘসেটি বেগম হাজির হইয়া গেল । আমার ভাবনায় এহেন ছেদ পড়াতে আমি যারপরনাই ক্ষুদ্ব,কিন্তু ঐ ঘসেটি বেগম তাহা না দেখিয়া আমাকে লিফট দিতে বলিলেন । আমি অত্যন্ত ক্রুদ্ব হইয়া বলিলাম--'ইহা কি ইউরোপ পাইয়াছেন ,যে আমি BMW নিয়ে যাচ্ছি আর লিফট বিলি করে বেড়াচ্ছি ? নাকি কলেজ পড়ুয়া ছাত্রদের মেডিকেল সার্টিফিকেট ?'

অত্যন্ত রাগবশত কিছু বাক্য বিনিময় করিয়া নিজেকে ছোট মনে হইতে লাগিল । তবে যাহাকে ঘসেটি বেগম বলিতেছিলাম তাহার চেহারার পানে দৃষ্টিপাত করিয়া মনে হইল আমার মঙ্খানার মধ্যে কেহ যেন মাখন লাগাইয়া দিল । ছোটবেলায় ঘসেটি নামটা শুনলেই একজন মোটা,গাল ফুলা,অসম্ভবভাবে নাক খাড়া মহিলার কথা চিন্তায় উঁকি মারে কিন্তু এই যে ইনি তো বিপরীত । হাসিমুখে যখন লিফটের কথা বলিতেছিল তখন গালে খুব সুন্দর একটা টোল পড়াটা চোখে না পড়ার যথোচিত কারণ রয়েছে কিন্তু চোখের মধ্যে আকুতি দেখিয়া না করার কোন ক্ষমতা থাকিল না । আমি আবার মেয়ে মানুষ একটূ ভয় পাই কিনা ! অনেক কিছু ভাবিবার পর মনে হইল-কিশোরীর অকৃর্ত্রিম-বিলাস-লক্ষণ শূণ্য প্রণয়ে হৃদয় স্নিগ্ধ হয় ।নিজের এহেন জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ পাওয়ার সময়ে বঙ্কিমদার একটা কথা মনে আসিল -'পুরুষেরা যখন মহিলাগণের মোহিনীশক্তির বশীভূত হইয়া তাহাদিগের রূপের বর্ণারম্ভ করেন তখন তাহার যে কি বলেন ভাবিলেও বিষ্মিত হইতে হয় !'

পাশে বসা মেয়েটিকে বিওন্দুমাত্র পাত্তা না দিয়া নিজের সদ্য ক্রয় করা মুঠোফোনট বাহির করিয়া মুখচ্ছবি ব্যাবহার করিতে লাগিলাম । ততক্ষণে রিক্সা আমার বাসার সম্মুখে পৌছাইয়া গেল,আমি ভাড়া মিটাইতে চাহিলাম কিন্তু আমাকে অবাক করিয়া দিয়া মেয়েটি নেমে আমার বাসার গেটে দৌড়াইয়া যাইয়া বলিল-আপনি ভাড়া মিটাইয়া দেন । আমি বাসা থেকে আপনার নিকট ক্কখাণিকক্ষণ বাদেই পাঠিয়ে দিচ্ছি । আমি ঘটনার আকষ্মিকতায় অবাক হইয়াও হইতে পারিলাম না । কারণ এতে আমার সদ্য আয় করা ভাবের বেলুনখান ফুটিয়া যাইবে । শুধু মনে মনে ঐ রমণীর কপটতার কথা চিন্তা করিতে লাগিলাম যে--আমও খেল,খোসাও ফেলিল না ।

তবে মনের বা দিকের একটু উত্তর-পশ্চিম কোণাতে মেয়েটির জন্য পোলাও,কাবাব,কোফতার সুগন্ধের ন্যায় মৃদু ফুটফুটবুটবুট টগবগধ্বনি উঠিতে লাগিল ।

বয়েস তো আর কম হয়নি । বড়সড় একুখানা কর্ম্ম ও করি । মেয়েটির সাথে বিয়ে থা করে ফেলিলে কেমন হয় ?বাবা-মার প্রবর্তনায়,তাহাদের বাসায় সন্ধান লাগাইবার চিন্তা করিলাম ,তাহারা আমাকে চপেটাঘাত করিবার ভয়ে পিছাইয়া যাই ।

চিন্তা করিলাম-মেয়েটিকেই বলি,তাহার আকার-আকৃতি দেখিয়া আমার মনে হইয়াছিল তাহার বিবাহের বয়স হইয়াছে তবে কি সে বিবাহের কাজ সারিয়া ফেলিয়াছে ?হৃদয়খানার মধ্যে জ্বলিয়া ওঠা টিউবলাইটটি হঠায় নিভিয়া গেল । পরদিন মেয়েটিকে উপরের তলা হতে নামিতে দেখিয়া তাহার পিছু নিলাম । তিনি ব্যাপারখান আঁচ করিতে পারিয়া কিছুদূর অতিক্রম করিবার পর হঠাত পেছন ফিরে একখানা চাহনি দিলেন । আমি তাতেই কাত বলিলেন-পিছু ধরেছেন কেন ?

আমি- আপনার বিবাহ সম্পন্ন হইয়াছে ?

উনি-আপনি ঘটক ?

আমি-না,বর ।

উনি-আপনার মত গবেটকে আমি কি ভাবিয়া বিবাহ করিব?

আমি-আজ্ঞে,জামাই ভাবিয়া। তথাপি আমি গবেট নই ।

উনি-আপনি গবেট বৈকি আর কিছু নন আপনার মুঠোফোনে বিগত কয়টা প্রেমিউকার ক্ষুদেবার্তা আর নম্বর আছে তার হিসাবই তো দিতে পারিবেন না ।


এক বছর পর কোন গল্প লিখিলাম । ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন ।:)
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১১:৩৪
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নস্টালজিক

লিখেছেন সামিয়া, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:৩৩



আমার ঘরটা এখন আর আগের মতো লাগে না। দরজার লক নষ্ট, বন্ধ করলেও পুরোপুরি বন্ধ হয় না, আধখোলা হয়ে থাকে। বুকশেলফে ধুলো জমে আছে, ড্রেসিং টেবিলের পর্দাটা এলোমেলোভাবে ঝুলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বপ্ন যখন মাঝপথে থেমে যায়: ঢাকার জলপথ ও এক থমকে যাওয়া সম্ভাবনার গল্প

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:২৫

ঢাকার যানজট নিয়ে আমরা অভিযোগ করি না এমন দিন বোধহয় ক্যালেন্ডারে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ এই যানজট নিরসনের চাবিকাঠি আমাদের হাতের নাগালেই ছিল—আমাদের নদীগুলো। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ ঘোষণা করেছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-২

লিখেছেন অর্ক, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১৪



ইরান বিশ্বসভ্যতার জন্য এক অভিশাপ, এক কলঙ্ক। কাঠমোল্লারা ক্ষমতা পেলে একটি রাষ্ট্রের যে কি পরিণতি হয়, তার জ্বাজ্জল্যমান উদাহরণ ইরান। সম্পূর্ণরূপে অসভ্য বর্বর অসুস্থ রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে সেখানে। যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাগাভাগি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

ভাগাভাগি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এলাকায় এক ইফতার মাহফিল-এ
দাওয়াত পাই আর যথাসময় চলে যাই।
অনেক মানুষ পড়ছে দোয়া দুরুদ
ঘনিয়ে আসছে রোজা ভাঙার সময়।

তখন সবার সামনে বিলিয়ে দিচ্ছে বিরিয়ানি
আমার ভাবনা- হয়ত কেউ ভাবছে
যদি একসাথে খাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৩ এ ওয়াকআউট করেছিলেন, ২০২৬ এ তিনিই ঢাবির ভিসি ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২


২০২৩ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা চলছে। একজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে বললেন, হলগুলোতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। কথাটা শেষ হতে না হতেই তৎকালীন ভিসি জবাব দিলেন, "গেস্টরুম কালচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×