পড়ন্ত বিকেল,কবিগুরুর গল্পগুচ্ছ খুলে ছাদে বসে আছে বিন্দু ।বহুদিন ধরেই এই সময়ে বুকের বাম পাশে প্রগাঢ় বিষাদের ঘনঘটা টের পায় সে।এখন সেই নির্লিপ্ত বিষাদের ক্রুড় নীলে শূন্যতার করুণ স্পর্শ বুলিয়ে দিয়েছেন কবিগুরু।
গল্পগুচ্ছ তাকে টানতে পারছেনা।দূর আকাশে উড়ন্ত রঙ-বেরঙের ঘুড়ির সাথে অন্যমনস্ক হয় সে।
"এই তুই কিন্তু অন্য কারো বন্ধু হতে পারবিনা কখনো।"-পরিচিত কন্ঠস্বরে বিন্দু চমকে উঠে হঠাৎ।কাউকে আশেপাশে দেখতে পায়না।আনমনে হাসে সে।তৃষান এর সাথে কাটানো আবাল্য শৈশব আর কৈশোরের টুকরো স্মৃতির আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয় হৃদয়।
"এই তুই সবসময় কাজল পরে থাকবি কিন্তু।"
"তোকে আজ শ্যাওলা রঙের থ্রিপিছ টা পরতে হবে।"
"আজ কিন্তু আমার সাথে দুই ঘন্টা কথা বলতে হবে ফোনে।"
"ঐ বাদর রাহিনের সাথে একদম কথা বলবিনা।"
"রিশান তোকে দেখলে হাসে কেন প্রতিদিন?"
তৃষানের দিনভর এমন অসংখ্য অন্যায় আবদার আর দাবী তখন বিন্দুর অসহ্য লাগতো।দিনরাত ওর বন্ধুত্বের যন্ত্রনা আর ভালবাসার অত্যাচারে বিন্দু হাঁপিয়ে উঠতো খুব।তুচ্ছ কারনে ঝগড়া-বিবাদ,মারামারি,মান-অভিমান লেগেই থাকতো।
এখন আর তৃষান নেই।ওর মাত্রাতিরিক্ত ভালবাসার বাড়াবাড়ি অথবা বন্ধুত্বের দাবীতে অকারন অন্যায় আবদার ও নেই।
শুধু বিন্দু এখন আরো অনেক বেশী হাঁপিয়ে উঠে।কারনে অকারনে ফুসফুস ফুটো করে বেরিয়ে আসে দীর্ঘশ্বাস।নিজেকে ক্লান্ত,পরিশ্রান্ত আর অপ্রয়োজনীয় মনে হয় তার।
একদিন হঠাৎই তৃষান গাড়ি আ্যকসিডেন্ট করেছিলো।শরীরে অপরিসীম ভাঙ্গন নিয়ে তিনদিন প্রবল জ্বরের ঘোরে বিন্দুর হাত শক্ত করে ধরে শুধুই প্রলাপ বকলো সে।তারপর এরকমই এক পড়ন্ত বিকেলে অজানা অভিমানে সব ভালবাসা আর বন্ধুত্বের দাবী অস্বীকার করে অন্ধকারের আহবানে সাড়া দিলো চিরতরে।
এরপর বিন্দু এক বর্ণ,গন্ধ,আলো এবং শব্দহীন জগতের সন্ধান পেলো।তৃষানের জন্য বিন্দু কাঁদেনি।কখনো কাঁদবেনা।বুকের সবটা জুড়ে তার ভীষন অভিমান।এভাবে তৃষান চলে যেতে পারলো?
বিন্দুর সামনে আজ বিশাল বিষাদের নীল সমুদ্র। চোখের কাজলে আষাঢ়ের জমাটবাঁধা কৃষ্ণকালো মেঘের ঘনঘটা।তবু এই সমুদ্রের অন্তহীন জলরাশি তার চোখের কাজল মুছে দিতে পারেনা।পাছে আবার কাজল মুছে গেলে যদি তৃষান অভিমান করে!!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



