somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালো থাকুক প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়; বেঁচে থাকুক জাতির স্বপ্ন

২১ শে অক্টোবর, ২০১৬ সকাল ৭:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জানিনা আমার এই লেখাটার ইমপ্যাক্ট কি হবে; তবু লেখছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় এই পাঁচ বছরে অনেক কিছু অভিজ্ঞতা হয়েছে; হয়তো আরো অনেক কিছুই দেখার বাকি। নিজে একজন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র হয়েও আজ লজ্জার সাথে বলতে হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয় আসলে এমন একটা জায়গা যেখানে বিবেকবোধ, মূল্যবোধ, মানুষত্ববোধ, নৈতিকতা এবং মানবিকতা এখন যেন খুব কমই কাজ করে। হিংস্রতা, অহংবোধ এবং নিলর্জ্জতার এখানে যেন জয়জয়কার। তহলে এখানে যারা আসে সবাই কি এমন ব্যাক্তিত্ব নিয়ে আসে? উত্তর হলো 'না'। পরিবেশই এমনটার জন্য দায়ী। না হলে এতো রক্ত কেন মেখে আছে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গায়ে? না হলে প্রতিবছর কেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্বপ্নের ডানা মেলা অনেক তরুণ প্রাণ দুঃস্বপ্নের মতোই হারিয়ে যায়? এখন প্রশ্ন হলো পরিবাশটা কি আপনা আপনিই তৈরি হয়েছে? নাকি তৈরি করা হয়েছে? তবে উত্তর হবে, 'সুকৌশলে খুব ধীরে ধীরে এমনটা তৈরি করা হয়েছে; যার পিছনে অনেক অনুঘটক আছে।'

এতো গেলো ছাত্রদের কথা। এবার আসি জাতির বিবেক খ্যাতো শিক্ষকদের কথায়। আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হলেই সবাইকে ঢালাও ভাবে জাতির বিবেক কতটুকু বলা যায় তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার যথেষ্ঠ অবকাশ রয়েছে? তারা নিয়মিত শিক্ষাদানের বাইরে ছাত্রদের কতটুকু আলোকিত করতে পারছেন অথবা করার চেষ্টা করছেন? তারা তাদের মেধা, প্রজ্ঞা, গবেষণা অথবা উন্নায়ন মূলক ধারনা প্রচেষ্টার মাধ্যমে জাতীয় অগ্রযাত্রায় কতটুকু ভূমিকা রাখছেন? তারা নিজস্ব নৈতিকতা, মূল্যবোধ, মানিবকতাবোধের মাধ্যমে ছাত্রদের কাছে এবং জাতির কাছে নিজেকে একজন আইডল হিসাবে কতটা তুলে ধরতে পারছেন? জানি এর বেশির ভাগের কোন সদুত্তর নেই। হয়তো অনেক শিক্ষকই বলবেন আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। সে সব শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে সন্মান রেখেই বলছি; স্যার, একজন প্রাইমারীর শিক্ষক এর থেকে অনেক বেশী সীমাবদ্ধতার মাঝেও জাতির জন্য অনেক অবদান রাখছে। তবে আপনি কেন পারছেন না? আসলে সত্য হলো বেশির ভাগ শিক্ষকই তেলবাজী করে ব্যাক্তি স্বার্থ উদ্ধারে ব্যাস্ত। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় হয়তো লোকে ঠাট্টা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বলবে 'জাতির লজ্জা।'

তবে লেখাটা শেষ করার আগে বলতেই হচ্ছে, এখনো অনেক ভালো শিক্ষক আছে; যাদের কে তার প্রতিটা ছাত্রই সন্মান করে। যাদের ব্যাক্তিত্ব অসাধারণ মনোমুগ্ধকর। যাদের কে সত্যিই আইডল মানা যায়। আর সে কারনেই শিক্ষকদের সবাই আজো জাতির বিবেক বলে। আর এই সব আইডলদের সংস্পর্শে আসা ছাত্রগুলোই আজও এই জাতিকে স্বপ্ন দেখায়। একটু সুযোগ পেলে এই মাটির জন্য, মানুষের জন্য, জাতির জন্য অথবা অর্তমানবতায় নিজের জীবনকে উৎসর্গ করতে একটুও পিছপা হয় না। তাই বাঁচার মতো বাঁচুক স্বপ্নের সূতিকাগার খ্যাত এদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো; বেঁচে থাকুক জাতির স্বপ্ন।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে অক্টোবর, ২০১৬ সকাল ৭:১৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন লা-মাযহাবিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কারণ কী ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৩২


আজকে নতুন চারটি মুখ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলো। এর মধ্যে একজনকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে । বলছি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনের কথা। তিনি একজন লা মাযহাবি বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবীপ্রসাদ যাত্রা

লিখেছেন জ্যোতির্ময় ধর, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:২১


আমি তখন ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র। চট্টগ্রামের মোমিন রোডের রুচিশীল বই বিপণি কথাকলির বুকশেলফে চোখ বুলাচ্ছিলাম । হঠাৎ একখানি বইয়ের ওপর এসে থমকে গেল আমার চোখ । "ক্ষুদে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্ভাবনার বন্দি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:১৮



বান্দরবান জেলা কারাগারের চারপাশে পনেরো ফুট উঁচু পাথর ও কংক্রিটের নিরেট প্রাচীর। তারও ওপরে পেঁচানো ধারালো কাঁটাতারের জাল।

বর্ষার কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে ৩ নম্বর ব্লকের সংকীর্ণ সেলে শান্ত হয়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×