ছেলেরা খুব সহজে কাঁদে না। তবু যদি দুই এক ফোটা অশ্রু কখনো গড়িয়ে পড়ে; তাকে খুব দ্রুত মুছে ফেলতে হয়। পুরুষ মানুষের আবার অনুভূতি কি? তাদের আবেগ বলে কিছু থাকতে নেই। খুব ছোট বয়স থেকেই একটা ছেলেকে শেখানো হয়- 'তোমাকে অনেক বড়ো হতে হবে; গাড়ি-বাড়ি করতে হবে। তাহলে তুমি জীবনে সব কিছু পাবে, সব। এমনকি পৃথিবীর সেরা সুন্দরী নারীটার মনও।' এই বড়ো হওয়ার সংগ্রামে একটা ছেলের শৈশব আর যৌবন কেটে যায়। পড়াশুনা, জীবন সংগ্রাম সেই থেকে শুরু। এরপর যৌবনের একটা প্রান্তে এসে ছেলেটা আবিষ্কার করে- সবাই তার কাছ থেকে যতোটা আশা করেছিলো; সে প্রত্যাশার অনেকটাই মিটাতে পারেনি সে (ছেলেটা)। তখন শুরু হয় অন্য রকম এক সংগ্রাম। সে সংগ্রাম ছেলেটার একান্ত নিজের; কেউ পাশে থাকে না। তারপর একটা সময় ছেলেটা সত্যিই অনেক বড়ো হয়। গাড়ি-বাড়ি হয়; কিংবা অনেক বড়ো না হতে পারলেও অন্তত টাকশালে পরিনত হয়। ততোদিনে তার মাথার চুলগুলো ঝরে সেখানে রানওয়েতে পরিনত হয়েছে। যে বেলা বোস কথা দিয়েছিলো তাকে (ছেলেটাকে) ছাড়া বাঁচবে না; সে ততোদিনে দুই-তিন বাচ্চার জননী হয়ে গেছে। ছেলেদের এসব নিয়ে কষ্ট পেতে নেই। ছেলেরা টাকশাল (মেশিন); ছেলেদের আবার কষ্ট কিসের? ছেলেটার দাদু টাকশাল ছিলো, ছেলেটার বাবা টাকশাল ছিলো, ছেলেটা এখন টাকশাল এবং ছেলেটার অনাগত ছেলে সন্তানটাও হবে একটা টাকশাল। যাই হোক, ছেলেটার এতোদিনে বিয়ের বয়স হয়েছে শেষ পর্যন্ত! বয়স পয়ত্রিশ-চল্লিশ ছুঁই ছুঁই। 'তাতে কি? ছেলেদের আবার বয়স কিসের? কতো টাকা আছে, সমাজিক স্ট্যাটাস কি?' এটাই একটা ছেলেকে পরিমাপের মূখ্য বিষয়। ছেলেটার পিছনে সুন্দরীদের লাইন পড়ে গেলো। ছেলাটার জীবনে অবশেষে একজন সুন্দরী নারীও এলো। কিন্তু ততোদিনে ছেলেটার তারুণ্য এবং যৌবন পেরিয়েছে। বৌকে সে এখন পর্যাপ্ত ভালোবাসা দিতে পারে না। হঠাৎ অসময়ে একদিন বাড়ি ফিরে সে (ছেলেটা) বিস্ময়ে আবিষ্কার করে, তার ঘরের লক্ষী প্রতিমাটি সদ্য যুবক কোন এক তরুণের সাথে বিছনায় ভালোবাসা বিনময়ে ব্যাস্ত। তার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। কিন্তু না, তাকে কষ্ট পেলে চলবে না। কারন রাষ্ট্র বলেছে, 'ছেলেদের আবেগ-অনুভূতি থাকতে নেই। ছেলেদের কষ্ট পাওয়া দন্ডনীয় অপরাধ। তবু যদি তুমি কষ্ট পাও, "তবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ধারায়" তোমাকে জেলের রাস্তা মাপতে হবে।' বোকা ছেলেগুলো তবুও কষ্ট পায়! আর চতুর ছেলেগুলো অসাধারণ অভিনয়ে সংসার টিকেয়ে রাখে; সমাজের চোখে হয়ে উঠে আসল পুরুষ।
আসল পুরুষ হয়ে উঠার গল্প
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সকাল ৯:৫৭
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
never give up!!! চেষ্টাটা যেন শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত হয়....

অনেকেই নিজের ভাগ্যকে দোষ দেন। বলেন- ''ভাই, ভাগ্য বিড়ম্বনায় আজ আমার এই অবস্থা।'' অনেককে এও বলতে শুনেছি- ''আজ ভাগ্য সহায় থাকলে অনেক দূর এগিয়ে যেতাম।''
.
এইসব মানুষদের আমি বলি- ''শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন
আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না - সরকারের পদক্ষেপ প্রশংসনীয়

মিরপুর-১ রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া সরকারের একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ বলেই মনে করি। তবে পদত্যাগের নির্দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন
ফেরারী বিকেল
বাংলা বর্ষপঞ্জীর ষষ্ঠ মাস, আশ্বিনের শুরু থেকেই দিনের ‘বিকেল বেলা’ টা আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করে। আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ থেকে আহ্নিক পরিবর্তনের ফলে প্রতিদিনের দৈর্ঘ্য একটু একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন
অন্ধকারের রসায়নবিদ, Case File 02 — সিউলের অসমাপ্ত গুলি

লেখকের নোট:
এই গল্পটি ১৯৭৪ সালের দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ঐতিহাসিক হত্যাচেষ্টার ঘটনাকে পটভূমি হিসেবে নিয়ে নির্মিত সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম থ্রিলার। ঐতিহাসিক ব্যক্তি ও ঘটনার পাশাপাশি প্রফেসর রেহান আশরাফ, তাঁর পরিকল্পনা,... ...বাকিটুকু পড়ুন
নেভার গিভ আপ!!!: দেশের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের পিছনে বিনিয়োগ করুন, প্রধানমন্ত্রী!
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আসসালামু আলাইকুম। আজ আমার খুব খুশির দিন হওয়ার কথা ছিলো। ব্রিটিশ একটি ভার্সিটিতে ৩য় বারের মতো মেন্টর হিসেবে সিলেক্টেড হয়েছি। এই আনন্দে বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজনদের নিয়ে পার্টি দেওয়ার কথা ছিলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।