somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাশিয়ান চলচ্চিত্র - দ্য রিটার্ন ( The return )২০০৩

২৪ শে এপ্রিল, ২০১৫ রাত ১০:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



" দ্য রিটার্ন " রাশিয়ান চলচ্চিত্র নির্মাতা আন্দ্রেই জিভাগিন্সটেভ এর প্রথম চলচ্চিত্র । রাশিয়ান রেন টিভির সহপ্রতিষ্ঠাতা দিমিত্রি লেনেভস্কি এর প্রযোজনায় ছবির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০০২ সালে । রাশিয়ান এ চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ২০০৩ সালে । জীবনে কিছু প্রশ্নকে উত্থাপন করে ছবির গল্পের শুরু । মাঝে মাঝে মানুষের জীবনে এমন কিছু বিষয় মুহূর্তের মধ্যে ঘটে যায় যার জন্যে মানুষ হয়ত প্রস্তুত থাকেনা । সামনে এমন কিছু ঘটে যায় যা দেখে বিস্ময়ের শেষ থাকেনা । ঠিক ছকে বাঁধা হিসেবগুলো কোনভাবেই মিলতে চায় না । সেই সময় সেই পারিপার্শ্বিক অবস্থাকে কোনভাবে সহজে বুঝতে অনেকটা ধাঁধার মতন লাগে ।

বাসায় এসে হঠাৎ নিরুদ্দেশ থাকা বাবা’কে আবিস্কার করে দুই সহোদর ভাই , তাদের মা বলে তাদের বাবা এসেছে। তখন বিস্ময়ের ঘোর কাটতে চায়না তাদের। সময়গুলো দিনগুলো যখন একান্তই মা’কে ঘিরে অতিবাহিত হচ্ছে তখন হঠাৎ করে বাবার উপস্থিতি অনেকটা অন্যরকম মনে হয় তাদের কাছে। যে মানুষটার সাথে আসলেই দেখা নেই , কথা নেই অনেকদিন সেই মানুষটা হঠাৎ উপস্থিত হলে মুহূর্তগুলো কেমন জানি হয়ে উঠে। বাবাকে দেখে কোনভাবেই ঘোর কাটতে চায় না তাদের। দুই ভাই ইভান ও আন্দ্রে’র মধ্যে বিস্ময়তা ভর করে । বারো বছর পরে ফিরে আসা তাদের বাবাকে খাওয়ার টেবিলে দেখে ভাবলেশহীন মানুষ বলে তাদের কাছে মনে হয় । বাবা হিসেবে সহজে মানতে পারছেনা কেউই , আবার বাবার সানিধ্য পেতেও খারাপ লাগছেনা । বাবা এবং ছেলেদের মাঝে এক দূরত্ব, যা কোনভাবেই পেরোতে পারছেনা বাবা-সন্তানরা । খুব সহজ হওয়া সম্ভব না এমন মুহূর্তে , যেখানে আসলেই অনেকদিন যোগাযোগে নেই । লোকটি কি আসলেই তাদের বাবা? কিন্তু জীবনটায় ভিন্নতা থাকবেই , আর সেই ভিন্নতা নতুন রুপে আবির্ভূত হবে ছবিতে।

সম্পর্ক একটা মানুষের মাঝে গভীরতার বিস্ময়কে তুলে ধরে । সেই সম্পর্ক নিকটে থাকলে একরকমভাবে প্রকাশিত হয় আবার দূরত্ব সেই সম্পর্কে একটা ভিন্নতা আনয়ন করে । যা কাছে আছে তবুও ছোঁয়ার জন্যে যেন কোন ব্যাকুলতা নেই , কোন প্রশ্ন নেই যেন কিন্তু ভেতরে অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে যেন । অনেকগুলো প্রশ্ন যেন অপেক্ষা করছে উত্তরের আশায় কিন্তু উত্তরগুলো কেমন হবে , কেমন দেবে মুহূর্তে স্বাদ তা যেন অনেক কিন্তু উপস্থাপিত করে রাখে । মাঝে মাঝে প্রশ্ন উত্তর খুঁজে পায়না আবার উত্তর খুঁজে পেলে প্রশ্নগুলো কেন হয়েছিল তা হয়ত ভাবলেশহীন হয়েই পরে থাকে ।


চলচ্চিত্রটির নির্মাণশৈলী দেখে প্রথমে মনে হবে খুব সাদামাটা একটা গল্প , কিন্তু লেখক ভ্লাদিমির মইসিঙ্কো ও আলেকজেন্ডার নোভোটস্কির লেখা ছবির গল্প যতদূর এগোতে থাকে ততবেশি জীবনের ভেতর যেন প্রবেশ করতে থাকে চলচ্চিত্রটি । গাড়িতে বসে বাবা –ছেলের দূরত্ব , তাদের কথোপকথন বারবার সম্পর্ক নিয়ে ভাবতে শেখাবে । ছেলের একগুঁয়েমি সব যেন ভিন্নতা আনে প্রতিটা মুহূর্ত । একেকটা দৃশ্য একেকটা মুহূর্তের অনুভূতি সৃষ্টি করবে একজন দর্শকের মনে । জীবনের ভুল –শুদ্ধগুলো ধরা দিতে থাকবে কিন্তু সেই ভুলগুলো কি শুধরানো সহজ! হঠাৎ করে কেনোইবা এত বছর পর তাদের বাবা আসলো । এতদিন কোথায় ছিল ? লোকটি কি আসলেই তাদের বাবা ? নাকি অন্য কেউ ? একটা হাহাকার , একটা শূন্যতা আবার প্রশ্ন এবং কিছু উত্তরের অপেক্ষা ও অপ্রত্যাশিত ঘটনা ।


চলচ্চিত্রটির নির্মাণ শুরু হয় ২০০২ সালের ২৫ জুন । মিস্টেরি ও থ্রিলারধর্মী এ চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় "আন্দ্রে" চরিত্রে অভিনয় করে ভ্লাদিমির গেরিইন । প্রায় ছয় মাস মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবুর্গ এ স্ক্রিন টেস্টের মাধ্যমে এই ইভান ও আন্দ্রে’কে নির্বাচিত করেন পরিচালক এবং সবচেয়ে অবাক ব্যাপার আন্দ্রে চরিত্রে অভিনয় করা এ বালক ২০০৩ সালের ২৫ জুন রহস্যজনকভাবে পানিতে ডুবে মারা যায় ছবির প্রথম প্রদর্শনের আগেই ।

চলচ্চিত্রটি ঘিরে এক ভিন্ন ধরণের রহস্য। ছবির গল্প একটা রহস্য রেখে যায় যেমন , ঠিক তেমনি এর মুক্তির আগেও একটা রহস্য হয়েই থাকে ছবিটি । ছবির অভিনেতার জীবনটাও একটা রহস্যই হয়ে থাকে । সব কেন কিন্তুর উত্তর ছবিজুড়ে এবং ছবি মুক্তি পেয়েও থেকে যায় । যা হয়ত অবচেতনভাবে আরেকটি চলচ্চিত্রের গল্প তৈরি করে গেলো । চলচ্চিত্রটি “গোল্ডেন লায়ন” এ বেস্ট ফিল্ম পুরস্কার পায় এবং গোল্ডেন গ্লোব এ বেস্ট ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ ফিল্মের পুরস্কার এর জন্যে নির্বাচিত হয় এবং আরও বেশকিছু পুরস্কারও পায় ।


সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে এপ্রিল, ২০১৫ দুপুর ২:২১
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×