
" দ্য রিটার্ন " রাশিয়ান চলচ্চিত্র নির্মাতা আন্দ্রেই জিভাগিন্সটেভ এর প্রথম চলচ্চিত্র । রাশিয়ান রেন টিভির সহপ্রতিষ্ঠাতা দিমিত্রি লেনেভস্কি এর প্রযোজনায় ছবির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০০২ সালে । রাশিয়ান এ চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ২০০৩ সালে । জীবনে কিছু প্রশ্নকে উত্থাপন করে ছবির গল্পের শুরু । মাঝে মাঝে মানুষের জীবনে এমন কিছু বিষয় মুহূর্তের মধ্যে ঘটে যায় যার জন্যে মানুষ হয়ত প্রস্তুত থাকেনা । সামনে এমন কিছু ঘটে যায় যা দেখে বিস্ময়ের শেষ থাকেনা । ঠিক ছকে বাঁধা হিসেবগুলো কোনভাবেই মিলতে চায় না । সেই সময় সেই পারিপার্শ্বিক অবস্থাকে কোনভাবে সহজে বুঝতে অনেকটা ধাঁধার মতন লাগে ।
বাসায় এসে হঠাৎ নিরুদ্দেশ থাকা বাবা’কে আবিস্কার করে দুই সহোদর ভাই , তাদের মা বলে তাদের বাবা এসেছে। তখন বিস্ময়ের ঘোর কাটতে চায়না তাদের। সময়গুলো দিনগুলো যখন একান্তই মা’কে ঘিরে অতিবাহিত হচ্ছে তখন হঠাৎ করে বাবার উপস্থিতি অনেকটা অন্যরকম মনে হয় তাদের কাছে। যে মানুষটার সাথে আসলেই দেখা নেই , কথা নেই অনেকদিন সেই মানুষটা হঠাৎ উপস্থিত হলে মুহূর্তগুলো কেমন জানি হয়ে উঠে। বাবাকে দেখে কোনভাবেই ঘোর কাটতে চায় না তাদের। দুই ভাই ইভান ও আন্দ্রে’র মধ্যে বিস্ময়তা ভর করে । বারো বছর পরে ফিরে আসা তাদের বাবাকে খাওয়ার টেবিলে দেখে ভাবলেশহীন মানুষ বলে তাদের কাছে মনে হয় । বাবা হিসেবে সহজে মানতে পারছেনা কেউই , আবার বাবার সানিধ্য পেতেও খারাপ লাগছেনা । বাবা এবং ছেলেদের মাঝে এক দূরত্ব, যা কোনভাবেই পেরোতে পারছেনা বাবা-সন্তানরা । খুব সহজ হওয়া সম্ভব না এমন মুহূর্তে , যেখানে আসলেই অনেকদিন যোগাযোগে নেই । লোকটি কি আসলেই তাদের বাবা? কিন্তু জীবনটায় ভিন্নতা থাকবেই , আর সেই ভিন্নতা নতুন রুপে আবির্ভূত হবে ছবিতে।
সম্পর্ক একটা মানুষের মাঝে গভীরতার বিস্ময়কে তুলে ধরে । সেই সম্পর্ক নিকটে থাকলে একরকমভাবে প্রকাশিত হয় আবার দূরত্ব সেই সম্পর্কে একটা ভিন্নতা আনয়ন করে । যা কাছে আছে তবুও ছোঁয়ার জন্যে যেন কোন ব্যাকুলতা নেই , কোন প্রশ্ন নেই যেন কিন্তু ভেতরে অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে যেন । অনেকগুলো প্রশ্ন যেন অপেক্ষা করছে উত্তরের আশায় কিন্তু উত্তরগুলো কেমন হবে , কেমন দেবে মুহূর্তে স্বাদ তা যেন অনেক কিন্তু উপস্থাপিত করে রাখে । মাঝে মাঝে প্রশ্ন উত্তর খুঁজে পায়না আবার উত্তর খুঁজে পেলে প্রশ্নগুলো কেন হয়েছিল তা হয়ত ভাবলেশহীন হয়েই পরে থাকে ।
চলচ্চিত্রটির নির্মাণশৈলী দেখে প্রথমে মনে হবে খুব সাদামাটা একটা গল্প , কিন্তু লেখক ভ্লাদিমির মইসিঙ্কো ও আলেকজেন্ডার নোভোটস্কির লেখা ছবির গল্প যতদূর এগোতে থাকে ততবেশি জীবনের ভেতর যেন প্রবেশ করতে থাকে চলচ্চিত্রটি । গাড়িতে বসে বাবা –ছেলের দূরত্ব , তাদের কথোপকথন বারবার সম্পর্ক নিয়ে ভাবতে শেখাবে । ছেলের একগুঁয়েমি সব যেন ভিন্নতা আনে প্রতিটা মুহূর্ত । একেকটা দৃশ্য একেকটা মুহূর্তের অনুভূতি সৃষ্টি করবে একজন দর্শকের মনে । জীবনের ভুল –শুদ্ধগুলো ধরা দিতে থাকবে কিন্তু সেই ভুলগুলো কি শুধরানো সহজ! হঠাৎ করে কেনোইবা এত বছর পর তাদের বাবা আসলো । এতদিন কোথায় ছিল ? লোকটি কি আসলেই তাদের বাবা ? নাকি অন্য কেউ ? একটা হাহাকার , একটা শূন্যতা আবার প্রশ্ন এবং কিছু উত্তরের অপেক্ষা ও অপ্রত্যাশিত ঘটনা ।
চলচ্চিত্রটির নির্মাণ শুরু হয় ২০০২ সালের ২৫ জুন । মিস্টেরি ও থ্রিলারধর্মী এ চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় "আন্দ্রে" চরিত্রে অভিনয় করে ভ্লাদিমির গেরিইন । প্রায় ছয় মাস মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবুর্গ এ স্ক্রিন টেস্টের মাধ্যমে এই ইভান ও আন্দ্রে’কে নির্বাচিত করেন পরিচালক এবং সবচেয়ে অবাক ব্যাপার আন্দ্রে চরিত্রে অভিনয় করা এ বালক ২০০৩ সালের ২৫ জুন রহস্যজনকভাবে পানিতে ডুবে মারা যায় ছবির প্রথম প্রদর্শনের আগেই ।
চলচ্চিত্রটি ঘিরে এক ভিন্ন ধরণের রহস্য। ছবির গল্প একটা রহস্য রেখে যায় যেমন , ঠিক তেমনি এর মুক্তির আগেও একটা রহস্য হয়েই থাকে ছবিটি । ছবির অভিনেতার জীবনটাও একটা রহস্যই হয়ে থাকে । সব কেন কিন্তুর উত্তর ছবিজুড়ে এবং ছবি মুক্তি পেয়েও থেকে যায় । যা হয়ত অবচেতনভাবে আরেকটি চলচ্চিত্রের গল্প তৈরি করে গেলো । চলচ্চিত্রটি “গোল্ডেন লায়ন” এ বেস্ট ফিল্ম পুরস্কার পায় এবং গোল্ডেন গ্লোব এ বেস্ট ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ ফিল্মের পুরস্কার এর জন্যে নির্বাচিত হয় এবং আরও বেশকিছু পুরস্কারও পায় ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


