
মানুষগুলো অন্যরকম, এদিক ওদিক ভালোবাসা খুঁজে । কিন্তু কাছেই হয়ত কেউ আছে , হাত বাড়িয়ে হয়নি ধরা কিংবা মুখ ফুটে হয়নি বলা ভালোবাসি । বুকের মধ্যে ভালোবাসা ঘুরে নাকি মনের মধ্যে ভালোবাসা ঘুরে ? হৃদপিণ্ডে ভালোবাসা আঁকা থাকে নাকি মস্তিষ্কে অনুভূতি কাজ করে ? ভালোবাসা কি স্নায়ুর চাপ নাকি দায়িত্বের খেলা ? অনেকভাবে ভালোবাসা ইচ্ছে করলেই শুরু করা যায়না , ভালোবাসার মানুষ পাশে থাকলেও ভালোবাসা হয়না ।
এক ভূমিকম্পে শহরে যখন মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া যাচ্ছেনা ঠিক তখন ভালোবাসার মানুষটির সাথে কথা বলার জন্যে কেউ একজন দৌঁড়াচ্ছে , সেইরকম মুহূর্তটা কেমন ? উৎকণ্ঠা , উদ্বিগ্নতা , ভালোবাসা সবকিছুর মিশেল অনুভূতি । ভয় পাওয়ার কিছু নেই যখন ভালোবাসার মানুষটা ওপাশ থেকে বলে, তখন মনে হয় পৃথিবীটা এর থেকে আর বেশি সুন্দর হতে পারে না । নিজের ভালো লাগার মানুষটিতো বেঁচে আছে অনেক বাড়ির ভাঙ্গনের পরেও । বেঁচে আছেতো ভালোবাসা সবকিছুর পরেও ।

ক্লাসে কিছু ছাত্র থাকে যারা জীবন সম্পর্কে সবসময় উদাস থাকে, সেইসব ছাত্ররা ভাবে তাদের কোন মেয়ে ভালোবাসে না । তারা নিজেকে নিয়ে নিজের বন্ধুদের নিয়েই জীবনের সময়গুলো কাটাতে ব্যস্ত থাকে । তাদের জন্যে ক্লাসের শেষ বেঞ্চ অবধারিতভাবে একটা চমৎকার বসার স্থান । সেই শেষ বেঞ্চে কেউ বসতে চায়না , কারণ যারা বসে সেইসব বেঞ্চে তাদেরকে দিয়ে কিছু হবেনা জীবনে এটাই সবাই ভেবে থাকে । বাবা-মা ভয়ে থাকে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে , শিক্ষকরা হতাশ থাকে নিজের ছাত্রদের জন্যে । কিন্তু এই বেঞ্চ থেকে জীবনটাকে অন্যরকমভাবে দেখে অনেকে । পুরো ক্লাসকে এই পিছনের বেঞ্চ থেকে দেখা যায় । কোন ছেলে কোন মেয়ে কি করছে , কোন মেয়ে দেখতে কেমন । কার দিকে তাকিয়ে আছে , আমার দিকে নাকি আমার পাশের বন্ধুর দিকে সবকিছু মনোযোগী ব্যাকবেঞ্চার হিসেবে দেখা যায়, পর্যবেক্ষণ করা যায় ।

ব্যাকবেঞ্চার এরকম ছেলেগুলোর জীবনেও মাঝে মাঝে প্রেম আসে, হঠাৎ করে কেমন করে যেন প্রেমও হয়ে যায় । বাউন্ডুলে টাইপের এরকম ছেলে Ching Teng Ko যার জীবন নিয়ে কোন ভাবনা নেই , প্রেম –ভালোবাসা , দায়িত্ববোধ কোন কিছুই যেন তাকে স্পর্শ করেনা । মজা করে বেড়ানোই যেন একমাত্র ধ্যান । এমনকি ক্লাসেও এ ব্যাকবেঞ্চার একদম মনোযোগী ব্যাকবেঞ্চার হিসেবে সবার কাছে পরিচিত । কিন্তু হঠাৎ করে কেমন করে যেন ভালোবাসা কিভাবে কিভাবে যেন শুরু হয়ে যায় । এরকম ছেলেদের প্রেমিকারা আবার বেশিরভাগ সময় প্রেমিককে জীবন সম্পর্কে সচেতন করতে তৎপর থাকে । মূলত এ ব্যাকবেঞ্চার টাইপের প্রেমিকদের প্রেমিকেরা প্রেমিককে মনপ্রাণ উজাড় করে ভালোবাসতে চায় । আর প্রেমিকরা বরাবরের মতন উদাস হয় । প্রেম কি এটাও একটা বিরাট কিন্তুর বিষয় তাদের কাছে ।

Chia Yi Shen সেই মেয়ে যে এই বাউন্ডুলে টাইপের ছেলেকে জীবন সম্পর্কে সিরিয়াসভাবে ভাবতে সবসময় মনে করিয়ে দেয় । Ching Teng Ko মতন মানুষের কিছু কিছু কাজ Chia Yi Shen মতন মানুষের খুব ভালো লাগে । তখন সেই মানুষটাকে ভালোবাসতে , তার ভালোর জন্যে কিছু করতে খুব ইচ্ছে হয় । প্রেমিক যখন শীতে জড়োসড়ো তখন নিজের হাত মোজাটা দেয়াটাতে যেন একজন প্রেমিকার কাছে পরম আনন্দের। যেখানে অবধারিতভাবেই দুজন ঠিক ভিন্ন মেরুর মানুষ ঠিক সেখানেই ভালোবাসা। একজন হাসতে ভালোবাসে , আরেকজনের মুখ গোমড়া থাকতে পারলেই যেন খুশি হয় ।
You Are the Apple of My Eye , স্কুল জীবনের ভালোবাসার গল্প নিয়ে আবর্তিত তাইওয়ানের ছবি । । ২০১১ সালে মুক্তি পাওয়া রোমান্স –ড্রামা ঘরনার ছবিটির পরিচালক লেখক Giddens Ko নিজেই ।এত ভালোবাসা আবেগের খেলা ছবির, স্ক্রিনপ্লেতেও ছিলেন পরিচালকGiddens Ko নিজেই । তাই হয়তো নিজের সাথে নিজের দারুণ বোঝাপড়া । গল্পের চমৎকার উপস্থাপন , নিজের উপন্যাস অবলম্বনে তাই ভালোবাসার আবেশের এক চমৎকার বহিঃপ্রকাশ । শহরের মাঝে সুন্দর একটি সাজানো গোছানো এক জুটির প্রেমকে উপস্থাপন। অনুভূতির ঢেউ খেলা মুহূর্তের স্বাদ দেয়া অনুভব, সব যেন ফ্রেমে নয় আমাদেরই আশেপাশে ঘটে যাওয়া জীবনের গল্পেরই কথা আর সঙ্গে সুরের মূর্ছনা ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


