somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আবদুর রাজ্জাক শিপন
ভেজা মেঘের দুপুরে সোনালী ডানার চিল

রূপার পালকি (অবৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী)!

১৫ ই মে, ২০০৭ রাত ২:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভূমিকা:-জটিল বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখেন আমাদের জাফর ইকবাল স্যার। অবৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী নিয়ে কেউ মাথা ঘামান না ! বিজ্ঞানের এই যোগে 'অবিজ্ঞানের' ভাত নাই। বিজ্ঞানে আমি আবার বরাবরই অজ্ঞান...! তাই 'অবিজ্ঞান'-এর সাথে 'বাঁধিছিনু প্রাণ !'

রূপার পালকি !

ফুলবল খেলার মাঠের মত গোলাকার ধবধবে সাদা উঠোনের দক্ষিণ-পূব কোণে আমাদের বয়স্ক ঝাকড়া জলপাই গাছ । জলপাই গাছের সাথে ঠেস দিয়ে পড়ে আছে একখানা চেয়ার। নকশী কাটা চন্দন কাঠের চেয়ার । দীর্ঘদিন ধরে চেয়ারখানার অবস্থান ওখানে । অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে ওটার মরা কাঠের পায়াগুলুতে শেকড় গজিয়ে গেছে । ওটাকে ওখান থেকে সরানোও হয়না । দিনে কিম্বা রাতে যখনি যার সুযোগ মেলে ওখানটাতে গিয়ে আসন গড়েন ! জায়গাটা আমারও বিশেষ প্রিয়। বিশেষত শুক্লাপক্ষের রাতে আমাকে ওখানে বসতেই হয় ! নইলে রাতে ঘুম হয়না । মোহাচ্ছন্ন জোছনায় বসে সাধন করি । বেহালা বাদন সাধন । ওখানটাতে আমার বেহালায় ঝড় ওঠে । ঝড় থেমেও যায় একসময় । চারপাশে নেমে আসে পিনপতন নিস্তব্ধতা । ঝড়ের শেষে নেমে আসা এই নিস্তব্ধতাটুকু আমার ভীষণ প্রিয় । আমি নেশাগ্রস্ত হই । নেশায় বুঁদ হয়ে চোখ মুদে পড়ে থাকি বিমুগ্ধ নীরবতায়...!

এভাবে প্রায়শ জলপাই গাছের নীচে আমার গভীর রাত কাটে । কখনও অস্বাভাবিক কিছুর মুখোমুখি হতে হয়নি । অস্বাভাবিক বলতে ভূত-প্রেতের কথা বলছি । ওনাদের নিয়ে আমাদের গ্রামে মুখরোচক সব গল্প চালু আছে । সেই সব গল্পে গল্পে আমাদের গ্রামের অন্য এক নাম চালু হয়েছে-'ভূতের গ্রাম !' গ্রামবাসীর দাবী এ গ্রামে এমন লোক খুঁজে পাওয়া দুস্কর,চলতি পথে অন্তত একবার যার ভূতের সাথে মোলাকাত হয়নি । যেমন, কোন লোক হয়তো রাতে বাজার থেকে মাছের থলে নিয়ে ফিরছেন,তেমাথার বটগাছ তলার মোড়ে আসতেই কেউ একজন পেছন থেকে ডাকল,-এ্যাই মাছ দে ! মাছ দে ! মাছ দিয়া যা !!!

আমার ধারণা,ভূতদের অপছন্দের পাত্র আমি । এ যাবত্ত ওনারা আমাকে দর্শন দেননি ! ওনাদের মোলাকাত আশাও করিনি কোনদিন ! কিন্তু গতরাতে হঠাতই এক অতি আশ্চর্য ঘটনা ঘটল ! গত রাতে ছিল দ্বাদশী জোছনা । আমাদের ধবধবে উঠোনের ওপর কেউ যেন রূপোলী এক চাদর বিছিয়ে দিয়েছে ! যথারীতি ঝড়ের শেষে নেশাগ্রস্ত হয়ে বসে আছি আমি ! আচানক তীব্র সুগন্ধির ঝাপটা এসে লাগল নাকে ! সুতীব্র ঘ্রাণে আমার দম বন্ধ হবার উপক্রম ! মুহূর্তের জন্য নিঃশ্বাস নিতে ভুলে গেলাম ! ফুলের ঘ্রাণের মতক সে সৌরভ পরক্ষণেই বদলে গেল । এবার পেলাম আগরবাতির ঘ্রাণ ! মৃতদেহের পাশে যেন আগরবাতি জ্বালিয়ে সুগন্ধি করেছে কেউ ! যেন পাশেই মৃতদেহের সত্কার হচ্ছে,ফিসফাস কথা বলছে কেউ ! প্রচন্ড সে ঘ্রাণের খনিতে বসে লক্ষ্য করলাম আমার চারাপাশে ধোঁয়ার কুন্ডলী ! অদূরে কিছু লোক যেন খাটিয়াই করে বয়ে নিচ্ছে শবদেহ ! ওদের পায়ের শুকনো পাতা মাড়ানোর মর্মর শব্দ আসছে কানে ! সেই শব্দ স্পস্টতর হলো আরো ! হৃত্তপিন্ড জমে গেলে আমার । প্রাণ পাখি খাঁচা ভেঙ্গে উড়াল দিতে চায়লো ভয়ে ! শক্ত হয়ে চেয়ারের সঙ্গে সেঁটে রইলাম । নড়ন-চড়নের শক্তি নেই তখন । আকস্মিক শুকনো পাতা মাড়ানোর মর্মর শব্দ আর ফিসফাস কথার আওয়াজ বন্ধ হলো ! আগরবাতির ঘ্রাণও রইলোনা আর । আচমকা উঠোনের ঠিক মাঝখানে চোখ আটকে গেল আমার । সেখানে জ্বলজ্বল করছে একটি রূপোর পালকি ! সফেদ ঝিকিমিকি জরিতে অর্ধাবৃত পালকি চাঁদের আলোয় ঝিলিক মারছে । পালকি থেকে নেমে দাঁড়াল এক অপূর্ব সুন্দরী ! তার অবতরণের সঙ্গে সঙ্গে মাথার উপর থেকে ডানা ঝাপটিয়ে ঝমাঝম শব্দ তুলে উড়ে গেল এক ঝাঁক পাখি । বাতাস ভরে গেল গন্ধরাজের সুঘ্রাণে । অপরূপ সুন্দরী পায়চারি করছে পালকির চারপাশে । ভয় ভুলে গিয়ে তার রূপে মুহিত হলাম । রূপচাঁদা রঙ্গের শাড়ী গায়ে জড়ানো তার । খোঁপায় গোজা একথোকা গন্ধরাজ । পায়চারি বন্ধ করে আমার দিকে ফিরে তাকাল সে । চোখের পলকে সামনে এসে দাঁড়াল । ভয়ে চোখ মুদে ফেললাম । 'চোখ খোলো !' সুস্পষ্ট আদেশ সুন্দরীর ! পিটপিট করে তাকালাম ।
'তোমার হাতের যন্ত্রটার নাম কি ?'
'ভায়োলিন !' ভয়ার্ত কন্ঠে সুধালাম ।
'এটা থেকে যন্ত্রণা দায়ক সুর বেরোয়,জানো ?'
'জানিনাতো !'
'জেনে নাও এবং দয়া করে ওটা আর বাজাবে না !'
'এটা কি তোমার ক্ষতির কারণ ?'
'আলবত্ত ! এটার সুরে আমার কান্না পাই !'
'আশ্চর্য ! তোমাদের অনুভূতিও কি মানুষের মত ?'
'আমি যদি বলি,আমাদের অনুভূতি আরো প্রখর...!'
'জানতে পারি,তুমি কোন সম্প্রদায়ের ?'
'না,জানানোর নিয়ম নেই । এটা নাও !' একটি সাদা গোলাপ বাড়িয়ে দিল সে !
'এটা কেন ?'
'এজন্য যে,এ ফুল যতদিন সাথে রাখবে ততদিন ভায়োলিনের প্রতি তোমার আকর্ষণ থাকবে না । '
অনিচ্ছাসত্ত্বেও যন্ত্রমানবের মত বড়ালাম হাত । মোয়াজ্জিনের সুললিত আযান ভেসে এলো ! বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল আমার । আশপাশে তাকিয়ে দেখি,কোথাও কেউ নেই । রূপালী সুন্দরী নেই,রূপার পালকি নেই ! পড়ে আছি আমি এবং আমার বেহালা ।

১৮টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সময়ের ব্যবধানে তারা দুজন

লিখেছেন সামিয়া, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৩



কোর্টের সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। দুপুরের রোদটা তখন কিছুটা নরম হয়েছে। মানুষের ভিড়, আইনজীবীদের কালো কোট, চায়ের দোকানের ধোঁয়া আর ফাইল হাতে ছুটে চলা লোকজন মিলে জায়গাটা যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×